menu

ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে ইউরোপকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের বেড়ে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরে একাধিক জাহাজের উপর ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলা’র ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে ইউরোপীয় নেতাদের অবহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গত সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মন্ত্রীদের কাছে এ বিষয়ে নানা তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

এর আগের দিন রোববার আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটানোর খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হিসেবে উঠে আসে। পরদিন (সোমবার) সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এর মধ্যে তাদের দুটি তেল ট্যাঙ্কার রয়েছে। ওই দুটি সৌদি ট্যাঙ্কারের মধ্যে একটির অপরিশোধিত তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। এছাড়াও বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু হওয়া চারটি জাহাজের অপর একটি নরওয়েজিয়ান পতাকাবাহী ও একটি আমিরাতের। এ বিস্ফোরণকে ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহায়তাও চেয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক দলের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ইরানের ইন্ধনেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরে নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই একইদিন (সোমবার) ব্রাসেলসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র ও উত্তর আটলান্টিক সামরিক ন্যাটো কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন পম্পেও। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক। তিনি বলেন, ‘দুই সৌদি ট্যাঙ্কারে হামলার খবর নিয়ে আলোচনা করেছি আমরা।’ নরেওয়েজিয়ান ট্যাঙ্কার ও আমিরাতি জাহাজে হামলা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। হুক আরও বলেন, ইরান তার হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার ইরানের অন্যতম মিত্র রাশিয়া সফর করবেন বলেও জানান ব্রায়ান হুক। এ সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি। সোমবারই রাশিয়া সফরের কথা ছিল পম্পেও’র। তবে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশে এদিন ব্রাসলসে ব্যস্ত সময় কাটান তিনি। হুক বলেন, আমরা প্রকাশ্যে যা বলছি তার নেপথ্যে আরও অনেক বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলতে চান। আমাদের বিশ্বাস, ইরানের উচিত হুমকি না দিয়ে আলোচনায় বসার চেষ্টা করা। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদন বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক ওই ‘অন্তর্ঘাতের’ মাত্রা এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে। এক বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ জানান, তাদের দুটি তেলের ট্যাঙ্কার উল্লেখযোগ্য ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি ট্যাঙ্কারের যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। আবুধাবির শাসক পরিবারের এক সদস্যের মালিকানাধীন টেলিভিশন স্কাই নিউজ আরাবিয়ার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আল মারজোকাহ নামে যে সৌদি ট্যাঙ্কারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হচ্ছে, তাতে দৃশ্যত কোন ক্ষতির চিহ্ন নেই। এর আগে একই দিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত জেসিপিওএ (জয়েন্ট কমপ্রিহ্যানসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন) নামের পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে মোঘেরিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান বলেন, আমরা এ চুক্তির প্রতি সর্বোতভাবে আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব। এ চুক্তির প্রতি আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায় এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেন উত্তেজনা আরও বেড়ে না যায়।