menu

ইকুয়েডরের পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভকারী পুলিশ সংঘর্ষ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯
image

জ্বালানি তেলে ভর্তুকি বাতিলের দাবিতে ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল -ডেইলি মেইল

ইকুয়েডরে সুরক্ষিত পার্লামেন্ট ভবনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো দেশটির সব সরকারি ভবনগুলোর আশপাশে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছেন। গত মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট সংশ্লিষ্ট পুলিশি নিরাপত্তা টপকে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তবে আইনশৃঙ্খা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে বিক্ষোভকারীরা সরে যান। বিবিসি।

জ্বালানি তেলে ভর্তুকি তুলে নেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ-সহিংসতায় এরই মধ্যে দেশটিতে কমপক্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। জরুরি অবস্থা জারি করেও মোরেনো আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বাধীন এ বিক্ষোভ দমাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা সরকারের কৃচ্ছ্রতাসাধন নীতি প্রত্যাহার ও জ্বালানিতে ভর্তুকি পুনর্বহাল চান। সরকার ভর্তুকি তুলে নেয়ার পর গত সপ্তাহ থেকে দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটিতে পেট্রলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার কাঠের বর্ম পরিহিত একদল বিক্ষোভকারী একুয়েডরের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা টপকে ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ভেতরে ঢুকে তারা একুয়েডরের পতাকা নাড়াতে নাড়াতে স্লোগান দিতে থাকে। নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা পরে কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে তারা পিছু হটে। সংঘর্ষের সময় পার্লামেন্ট ভবনের ভেতর কোন কর্মী ছিল না। এদিন রাজধানীর অন্যান্য সরকারি ভবনও বিক্ষোভকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মোরেনো পরে সরকারি ভবনগুলোর আশপাশে রাত ৮টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেন।

টানা কয়েকদিনের বিক্ষোভের পর মোরেনো গত সোমবার সরকারি দফতরগুলো রাজধানী কুইটো থেকে বন্দর নগরী গায়াকুইলে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিতে বাধ্যও হয়েছেন। আদিবাসীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে গত কয়েক দশকে দেশটির তিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। মোরেনো বলছেন, ‘আমার পদত্যাগ করার কোন সম্ভাবনা নেই। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, তবে কেন আমাকে পদত্যাগ করতে হবে।’ সম্প্রচার মাধ্যম তেলেমাজোনাসকে এমনটাই বলেছেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ বিক্ষোভের পর একুয়েডরের সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসারও প্রস্তাব দিয়েছে। রোমান ক্যাথলিক চার্চ কিংবা জাতিসংঘ এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে পারে, বলেছে তারা।