menu

আসিয়া বিবির কারামুক্তি

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮
image

ধর্ম অবমাননার (ব্লাসফেমি আইনে) অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে আট বছর কারাগারে থাকা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পাকিস্তানি নারী আসিয়া বিবি মুক্তি পেয়েছেন। উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গত বুধবার রাতে মুলতানের কারাগার থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কারাগার থেকে আসিয়া বিবির মুক্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী সাইফ মুলুক।

আসিয়া বিবির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকার ও কট্টরপন্থিদের মধ্যে চুক্তির কথা বলা হলেও দেশটির সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, মুক্তির পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে একটি বিমানে তোলা হয়েছে। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আসিয়াকে রাজধানীর একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে। তবে তার পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে কিছুই জানাননি তারা। গত ২০০৯ সালে গ্লাসে পানি খাওয়া নিয়ে মুসলিম সহকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন আসিয়া। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ওই সহকর্মীরা তার বিরুদ্ধে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ করেন। পরের বছরেই বিতর্কিত ব্লাসফেমি আইনে প্রথম নারী হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয় আসিয়ার। উচ্চ আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সেই দণ্ডাদেশ বাতিল করে। এরপরই আসিয়ার খালাসের রায় বাতিলের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভ শুরু করে পাকিস্তানের কট্টরপন্থি ইসলামিক দলগুলো। বিক্ষোভের রাশ টানতে কট্টর ইসলামপন্থি দল তেহরিক-ই-লাবাইকের (টিএলপি) সঙ্গে চুক্তি সইয়ের কথা জানান পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির আওতায় আসিয়া বিবির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিনিময়ে বিক্ষোভ থামাতে সম্মত হয় টিএলপি। তবে বুধবার স্থানীয় সময় সকালে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আফ্রিদি ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, দণ্ডিত হওয়া কিংবা বিচারিক নির্দেশ ছাড়া আসিয়া বিবির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না। সহিংস বিক্ষোভের মুখে নিরাপত্তা শঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন আসিয়ার স্বামী। নিরাপত্তা হুমকির মুখে আসিয়াকে রাখা হয় মুলতানের নারী কারাগারে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, গত বুধবার কারাগার থেকে বের করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসিয়াকে সরাসরি মুলতান বিমানবন্দরে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমানে তোলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত বুধবার পাকিস্তান সুপ্রিম কোট দেশটির স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়কে আসিয়া বিবিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশনা শেখুপুরা জেলা কারাগারে পাঠানো হলে মুক্তির আগে কারা প্রশাসন আসিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়। কারাসূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষায় তাকে সুস্থ পাওয়ায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে মুলতান বিমানবন্দরে নেয়া হয়। ওই সময়ে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয় কারাগার ও বিমানবন্দরের মধ্যকার রাস্তা। তবে এ বিমানের গন্তব্য কোথায় সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে পাকিস্তানের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ৫৩ বছর বয়সী আসিয়াকে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে উড়িয়ে আনা হয়েছে। তবে তার পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হবে তা নিয়ে কিছুই জানাননি তারা। নিম্ন আদালতে আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি পাকিস্তানেও তার পক্ষে দাঁড়ান অনেকে। তবে এদের মধ্যে কমপক্ষে দুইজনকে তাদের অবস্থানের কারণে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। আসিয়া বিবির পক্ষে কথা বলায় পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে তারই দেহরক্ষী হত্যা করে। আর সেই দেহরক্ষীকে পাকিস্তানে বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে তেহরিক-ই-লাব্বাইক।