menu

আবারও ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প : নিহত ৩

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮
image

আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানল ইন্দোনেশিয়ায়। গত বৃহস্পতিবার দেশটির জাভা ও বালি দ্বীপে রিখটার স্কেল ৬ মাত্রার এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। রয়টার্স।

২৮ সেপ্টেম্বর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। উদ্ধার হতে থাকে একের পর এক মরদেহ। বেশিরভাগ মরদেহ উদ্ধার হয় সমদ্র তীরবর্তী শহর পালু থেকে। দুর্যোগের বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার কারণে ধ্বংসস্তূপ থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পের পর আবারও সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, বালি সমুদ্রে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি। জাভা দ্বীপ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে এর কেন্দ্র ছিল। পাশে রিসোর্ট দ্বীপেও এ কম্পন অনুভূত হয়। নিহতদের তিনজনই পূর্ব জাভা দ্বীপের বাসিন্দা। সেখনে ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপানা বিষয়ক মুখপাত্র পুরো নুগ্রোহ।

শেষ মুহূর্তেও মরদেহ খুঁজে বেড়াচ্ছেন উদ্ধারকারীরা : এদিকে ভূমিকম্প ও সুনামির পর থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হচ্ছে হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। আর তার আগে কোন মরদেহ পাওয়া যায় কিনা তার জন্য গত বুধবার মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়েছে উদ্ধারকারী দল। সরকারি দেয়া তথ্যমতে ২৮ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ ওই ভূমিকম্প ও সুনামিতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ১০ জন। এখনও ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। এর বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার কারণে ধ্বংসস্তূপ থেকে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় মরদেহ উদ্ধারের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সে সময়সীমা শেষ হচ্ছে।

এরপর শুরু হবে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের করার কাজ। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ১০ হাজারেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ করছে, বিশেষ করে ভূমিকম্পের কারণে কাদামাটির নিচে তলিয়ে যাওয়া তিনটি এলাকায় জোরেসোরে অভিযান চলছে। বালারোয়া এলাকায় নয়টি খনন যন্ত্র দিয়ে কাজ চলছে।

আহমদ আমিন নামে এক উদ্ধার কর্মী বলেন, ‘এরপর কী হবে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। সে কারণে আমরা যত দ্রুত সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করছি। অনেক শিশু এখনও নিখোঁজ, আমরা দ্রুত তাদের খুঁজে বের করতে চাই।’ উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করার সিদ্ধান্তটি নিখোঁজদের কারও কারও স্বজনকে ক্ষুব্ধ করেছে। তবে তারপরও নিয়তির পরিহাসকে মেনে নিয়েছেন ট্যাক্সিচালক রুডি রহমান। ৪০ বছর বয়সী এ চালক জানান, তিনি তার তিন ছেলেকে হারিয়েছেন। দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও একজন এখনও নিখোঁজ। রুডি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত তারা উদ্ধার অভিযান চালাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এখানে আমার ছেলেকে খুঁজে যাব। এ একটি কাজই এখন আমি করতে পারি। তা না করলে আমি পাগল হয়ে যাব। তারা যদি উদ্ধার কাজ বন্ধ করে দেয় তবে আমার কীইবা করার আছে।’