menu

১৭৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহক হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ প্রতিষ্ঠানের নামে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া এবং সেই ঋণের টাকা উত্তোলন করে পাচারের মাধ্যমে আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জনতা ব্যাংকের ১৫ কর্মকর্তা এবং ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৭ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্রিসেন্ট গ্রুপের ক্রিসেন্ট লেডার প্রোডাক্ট লি., ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লি., লোসকো লি. রুপালি কম্পোজিট লেদারওয়ার লি. রিমেক্স ফুটওয়ার লি. নামে ক্রিসেন্ট গ্রুপের এ ৫ প্রতিষ্ঠানের নামে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে মামলাগুলো করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার বাদী হয়ে গতকাল দুপুরের পর রাজধানীর চক বাজার থানায় মামলাগুলো করেন। এর আগে একই ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে পৃথক ৩টি মামলা করেছেন। বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় অনুসন্ধানের ৫ মাসের মধ্যে এ মামলাটি করেছে। দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ খেলাপি থাকা সত্ত্বেও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ প্রতিষ্ঠানের নামে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ঋণ দেয়া এবং সেই ঋণের টাকা আত্মসাৎপূর্বক বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত ২ এর পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হাসানের তত্ত্বাবধায়নে সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে টিম লিডার করে এবং সহকারী পরিচালক মো. নিয়ামুল আহসান গাজীকে সদস্য করে দুই সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করে কমিশন। অনুসন্ধান শেষে কমিশনের অনুমোদন পেয়ে ৫ মাসের মধ্যে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ গ্রহণকারী ৫ প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৭ জন এবং জনতা ব্যাংকের ১৫ জনসহ মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে গতকাল রাজধানীর চকবাজার থানায় পৃথক ৫টি মামলা করেন।

দুদক সূত্র জানায়, ঋণ খেলাপি হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত জনতা ব্যাংকের গ্রাহক ক্রিসেন্ট গ্রুপকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই জনতা ব্যাংকের একটি গ্রুপ ১ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এ ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন নোট প্রস্তুতকারী জনতা ব্যাংকের এসও আবদুল্লাহ আল মামুন, পরীক্ষণকারী মো. মনিরুজ্জামান, ঋন সুপারিশকারী এসও মো. সাইদুজ্জামান, পিও অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমীন, এসপিও মো. মাগরেব আলী, ব্যবস্থাপক খায়রুল আমিন এজিএম মো. আতাউর রহমান সরকার, সাবেক ডিজিএম রেজাউল করিম (বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি), শাখা প্রধান মুহাম্মদ ইকবাল, একেএম আসাদুজ্জামান, প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ, সাবেকে জিএম মো. জাকির হোসেন (বর্তমানে ডিএমডি, সোনালী ব্যাংক লি.) এবং ফখরুল আলম, (বর্তমানে ডিএমডি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লি.) এজিএম এসএম শরিফুল ইসলাম এবং সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিাসার বাহারুল আলম। এছাড়া জালিয়াতি করে ঋণ গ্রহণ ও তা উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের সঙ্গে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট গ্রুপের মধ্যে রয়েছে ক্রিসেন্ট লেডার প্রোডাক্ট চেয়ারম্যান এমএ কাদের, চেয়ারম্যান, পরিচালক মিসেস সুলতানা বেগম, রেজিয়া বেগম, রিমেক্স ফুটওয়্যার লি. এর চেয়ারম্যান মো. আবদুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লিটুন জাহান মীরা, এবং মেসার্স লেক্সকো লি. এর পরিচালক মো হারুন-অর-রশীদ। এই ২২ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধাকারী টিম।

দুদক সূত্র জানায়, ভুয়া রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে এফডিবিপি ও প্যাকিং ক্রেডিটের জন্য ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক লি. ইমামগঞ্জ শাখা থেকে উক্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ক্রিসেন্ট লেডার প্রোডাক্ট লি., ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লি., লোসকো লি. রুপালি কম্পোজিট লেদারওয়ার লি. রিমেক্স ফুটওয়ার লি. এর বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্ট লি. ৫০০,৬৯,৪৪,৮৯৯ টাকা, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লি. ৬৮,৩৪,৯৫,১২০ টাকা, লেসকো লি. ৭৪,৩৮,৯৫,৩৫৯ টাকা, রুপালি কম্পোজিট লেদারওয়ার লি. ৪৫৪,১০,৮৭,৩৮৪ টাকা এবং রিমেক্স ফুটওয়ার লি. ৬৪৮,১২,৫৬,৭৪৭ টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করেছে ব্যাংকের শাখা থেকে।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচারের দায়ে মানি লন্ডারিং আইনে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের ও জনতা ব্যাংকের দুই ডিএমডিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। চকবাজার মডেল থানায় দায়ের করা তিন মামলায় ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, রিমেক্স ফু

ফুটওয়্যার ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ৪২২ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা, ৪৮১ দশমিক ২৬ কোটি টাকা ও ১৫ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ওই তিন মামলায় আসামিরা হলেন- ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এমএ কাদের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ ও এমডি লিটুল জাহান (মিরা), জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ডিএমডি (সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন জিএম) মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি (তৎকালীন জিএম জনতা ব্যাংক লিমিটেড) ফখরুল আলম, জিএম মো. রেজাউল করিম, ডিজিএম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ, একেএম আসাদুজ্জামান, মো. ইকবাল, এজিএম (সাময়িক বরখাস্ত) মো. আতাউর রহমান সরকার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. খায়রুল আমিন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মগরেব আলী, প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মুহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. সাইদুজ্জাহান, মো. মনিরুজ্জামান ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ঘটনায় ওই দিনই ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এমএ কাদের গ্রেফতার করা হয়।