menu

হু’এর তালিকায় গ্লোব-এর করোনা ভ্যাকসিন

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিনকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তাদের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনের ড্রাফট ল্যান্ডস্ক্যাপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

গতকাল গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ অব কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ ও গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ড. কাকন নাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফায়েড ভ্যাকসিনের তালিকা, ভ্যাকসিনের তালিকা, অনুমোদিত ভ্যাকসিনের তালিকা এবং ল্যান্ডস্কেপ- এই ধাপগুলো রয়েছে। গ্লোবের ভ্যাকসিন কেবলমাত্র ল্যান্ডস্কেপে তালিকার্ভুক্ত হয়েছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যানুযায়ী, গ্লোব বায়োটেকের ব্যানকোভিডকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ল্যান্ডস্ক্যাপে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে জানানো হয়, বিশ্বে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কোন কোন দেশের কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এখানে মূলত ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা কোম্পানির তথ্য তালিকাভুক্ত করা হয়, এখানে কোন অনুমোদন বা স্বীকৃতির বিষয় নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর আমাদের আবিষ্কৃত তিনটি ভ্যাকসিনকে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তিনটি হলো- D614G variant mRNA vaccine, DNA’Plasmid vaccine এবং Adenovirus Type-5 Vector Vaccine।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকই বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যাদের সর্বোচ্চ তিনটি ভ্যাকসিনের নাম এ তালিকায় রয়েছে।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর গ্লোব জানায়, গ্লোব সফলভাবে প্রাণীদেহে তাদের ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে, এখন হিউম্যান ট্রায়ালে যওয়ার জন্য প্রস্তুত।

সেদিন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ জানান, সব ঠিকঠাক থাকলে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পেলে ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির শুরুতে আসবে। তবে এজন্য তিনি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য আবেদন করেন।

গত ২ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি করোনাতে তাদের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কথা ঘোষণা দিয়ে জানায়, গত ৮ মার্চ থেকে তারা এই টিকা আবিষ্কারের কাজ শুরু করে।

এর আগে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, তাদের এ ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল বা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য গত ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশ, (আইসিডিডিআরবি)র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তি অনুযায়ী আইসিডিডিআরবি এখন প্রটোকল তৈরি করে বিএমআরসিতে (বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল) জমা দেবে। বিএমআরসির অনুমোদন পেলে তারা হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর গ্লোব বায়োটেকের তৈরি ভ্যাকসিনের বিষয়ে মার্কিন মেডিকেল জার্নাল বায়োআর্কাইভে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

ভ্যাকসিন তৈরি ও পরীক্ষা করতে সাধারণত বেশ কয়েক বছর সময় লাগে। বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে তবেই ভ্যাকসিন ব্যবহারের উপযোগী হয়। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে গবেষকরা ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তালিকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের ভ্যাকসিনসহ ১৫৬টি কোম্পানি রয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে গবেষকরা একটি ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যে ছুটছেন। এরমধ্যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ১৪০টির বেশি ভ্যাকসিনের ওপর নজর রেখেছে।