menu

গাজীপুর-শার্শায়

স্কুলছাত্রী ও প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গাজীপুর ও যশোরের শার্শায় যথাক্রমে এক স্কুলছাত্রী ও এক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিবন্ধী কিশোরীটি মসজিদের মোয়াজ্জিন ও স্কুলছাত্রীটি তার মায়ের আপন মামার লালসার শিকার। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ। প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা প্রভাবশালীদের প্রভাবে ধামাচাপা হলেও গাজীপুর ও কুড়িগ্রামের ঘটনায় ধর্ষক ও ধর্ষণচেষ্টাকারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪২নং ওয়ার্ডের তালটিয়া এলাকায় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধর্ষিতার মা রিনা বেগম জানান, গত শনিবার প্রতিদিনের মতো মেয়েকে বাসায় রেখে কাজে চলে গেলে তার নিজ মামা সামসুল আলম জোরপূর্বক মেয়েকে ধর্ষণ করে। এক প্রতিবেশী খবর দিলে বাড়িতে এসে মেয়ের কাছ থেকে সব ঘটনা শোনেন তিনি। মেয়ে জানায় যে, তাকে জোরপূর্বক রুমে নিয়ে টাকার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করে এবং এই ঘটনা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। ধর্ষণকারী সামসুল আলম (৪০) গাজীপুর জেলার পূবাইল থানার তালটিয়া এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। সে তালটিয়া এলাকার একটি মসজিদের মোতওয়াল্লি। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস. আই জামিল আহাম্মেদ রাশেদ জানান, মেয়েটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। মেয়েটিকে উদ্ধার করে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য শহীদ তাজ উদ্দিন আহাম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, ভিক্টিমের মা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে তাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বেনাপোল (যশোর) : শার্শার পাকশিয়া বাজারে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোজাম্মেল মোড়লের (৫১) ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিববাস গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী (১৯) এক কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে উপজেলার পাকশিয়া বাজারে। ধর্ষক মোজাম্মেল টেংরালী গ্রামের হামিদ মোড়লের ছেলে এবং টেংরালী গ্রামের দক্ষিণপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন ও পাকশিয়া বাজারের নৈশপ্রহরী। গত শনিবার বিষয়টি প্রকাশ হলে ডিহি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আলী এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাকশিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল ধামাচাপা দিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেন। এ ঘটনাটি এখন পাকশিয়া বাজারের লোকজনের মুখে মুখে কিন্তু কেউ ভয়ে প্রকাশ করতে পারছে না।

এলাকাবাসী জানায়, ২ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত্রে উপজেলার ১নং ডিহি ইউনিয়নের পাকশিয়া বাজারে ডিউটিতে থাকাকালীন নৈশপ্রহরী মোজাম্মেল শিববাস গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি ইউপি মেম্বর মোমিন ও তার সহযোগী হাসেম আলী জেনে ফেলায় ওই রাতেই মোজাম্মেলের বিয়াই ইউনিয়নের চৌকিদার শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে আর প্রকাশ পাবে না বা কিছু হবে না শর্তে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়। ঘটনাক্রমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় শনিবার বিকালে চৌকিদার শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করে কৌশলে ইউনিয়ন পরিষদে মীমাংসার জন্য বসে। মোমিন মেম্বরকে বাঁচিয়ে হাসেম আলীকে এক সপ্তাহের ভিতর পরিশোধে বাকি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধর্ষক মোজাম্মেলকে বিচারকরা ক্ষমা করে দেন। গ্রামের মুয়াজ্জিন এ ধরনের কা- করেছে। তাই আমরা এলাকাবাসী এর একটা বিহিত করব।

ডিহি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাকশিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল ইতিপূর্বে ধর্ষক মোজাম্মেল ও তার ছেলের বৌকে নিয়ে একটি কথা শুনার বিষয় স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। একটি ছেলে বাজারের নাইটগার্ড ও পাগলীকে নিয়ে একটি মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছে। আমি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে বিচার করেছি। বিচারে ছেলেটি বলেছে আমি দেখি নাই, তাই এ ধরনের অপবাদ দেয়ায় তাকে আমরা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।

গোড়পাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খান মাসুদ রানা বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। ধর্ষণের এ ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। আমি শুনলাম এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করব।

শার্শার ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আলী বলেন, ঘটনাটি মিথ্যা। পরিষদে দু’পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। যারা ঘটনাটি ছড়িয়েছে তাদের কেই জরিমানা করা হয়েছে। ওই মহিলাটা একটা পাগলী তাই একটি পক্ষ এ ঘটনাটি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ছোটখাটমারী মিলানী স্কুল পাড়ায় ৬ বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী ফরমান আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দিয়ে সোমবার দুপুরে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী মৃত তনি পোদ্দারের পুত্র ফরমান আলী শিশুটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করলে কন্যাশিশুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসায় বৃদ্ধ ফরমান আলী গা-ঢাকা দেয়। পরে শিশুটিকে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাতেই শিশুটির পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। সোমবার দুপুরে পুলিশ ফরমান আলীকে গ্রেফতার করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত ফরমান আলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দিয়ে সোমবার দুপুরে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।