menu

খাশোগি হত্যা : মার্কিন সিনেটে শুনানি

সৌদি যুবরাজ জড়িত না থাকার সম্ভাবনা শূন্য

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জড়িত না থাকার ‘সম্ভাবনা শূন্য’ বলে মত দিয়েছেন শীর্ষ মার্কিন সিনেটররা। গত মঙ্গলবার কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জিনা হাসপেল এ হত্যাকান্ড সংক্রান্ত তদন্তের বিস্তারিত সিনেটরদের জানানোর পর এমন মতামত জানান তারা। এ সময় তারা খাশোগি হত্যাকা- নিয়ে যুবরাজ বিন সালমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক করা উচিত বলেও অভিমত প্রকাশ করেন। এদিনের বৈঠকে সিনেট কমিটির পররাষ্ট্র বিষয়ক রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা ছাড়াও পররাষ্ট্র ও সামরিক বিষয়ক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আল জাজিরা, সিএনএন।

৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুবরাজ বিন সালমানের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুল সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। ইতোমধ্যেই সৌদি কনস্যুলেট ভবনের ভেতর খাশোগি হত্যার সময় রেকর্ডকৃত অডিও শুনেছেন জিনা হ্যাসপেল। মঙ্গলবার তার তদন্ত সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির (ফরেন রিলেশন্স কমিটি) শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর বব মেনেন্দেজ। ব্রিফিং শেষে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মতামত আগে যা ছিল, এখন তা আরও জোরালো হয়েছে। ইতোপূর্বে খাশোগি হত্যাকান্ডকে ঘিরে রিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রাসন বন্ধেও মার্কিন পদক্ষেপের পক্ষপাতী তিনি। এদিন সিআইএ পরিচালকের ব্রিফিং শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশটির ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্রিফিংয়ের পর সৌদি যুবরাজের নির্দেশেই সমন্বিতভাবে এ হত্যাকা- তার দলবল ঘটিয়েছে জোরপূর্বক অন্ধভাবে এমন উপসংহারে আপনি পৌঁছাতে পারেন না।’ তবে দৃশ্যত ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজের সম্পৃক্ততার প্রমাণের বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না। এদিকে সিনেট পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর বব ক্রকার তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই যে এ হত্যাকান্ডের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন এ বিষয়ে সংশয়ের কোন অবকাশ নেই। বব তিনি আরও বলেন, বিচারের মুখোমুখি হলে ‘৩০ মিনিটের মধ্যে’ তাকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব।

অপরদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কানাডায় নির্বাসিত এক সৌদি আন্দোলনকর্মীর কাছে পাঠানো খাশোগির ৪০০-এরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। হত্যার শিকার হওয়ার আগের এক বছরে আন্দোলনকর্মী ওমর আবদুল আজিজকে বার্তাগুলো পাঠিয়েছিলেন খাশোগি। ওইসব বার্তায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রায়ই ‘জানোয়ার’ ও ‘নরখাদক’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করতেন তিনি। এ হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাগুলো খাশোগি হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের সূত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে সিএনএন।

প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগি হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করে সৌদি জানায়, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি। এ ঘটনায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে। হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত খাশোগি হত্যা রহস্যের সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে কানাডায় নির্বাসিত সৌদি আন্দোলনকর্মী ওমর আজিজকে খাশোগির পাঠানো চার শতাধিক বার্তা হাতে পেয়েছে সিএনএন। আবদুল আজিজই ওই বার্তাগুলো সিএনএনকে হস্তান্তর করেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই বার্তাগুলোতে খাশোগি সৌদি যুবরাজের সমালোচনা করেছেন। যুবরাজকে নিয়ে শঙ্কা ছিল তার। একটি বার্তায় তাকে বলতে দেখা গেছে, ‘যত বেশি শিকার করতে পারেন, ততবেশি তার (সৌদি যুবরাজ) শিকারের আকাংক্ষা বেড়ে যায়।’ আরেকটি বার্তায় সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে খাশোগি লিখেছেন, ‘তিনি জোর জবরদস্তি, দমন-পীড়ন পছন্দ করেন এবং সেগুলো দেখানোর প্রয়োজনবোধ করেন, তবে অত্যাচারের পেছনে কোন যুক্তি থাকে না।’