menu

সাবেক এমপি আওয়ালের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তদন্ত শুরু

ইসির কাছে হলফনামার তথ্য চেয়েছে দুদক

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯
image

পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে তার (আউয়ালের) স্থাবর, অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী সম্বলিত হলফনামার তথ্য চেয়েছে দুদক। গত ২৪ অক্টোবর ইসিতে পাঠানো দুদকের ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধভাবে সেতু-ফেরিঘাট ইজারা নেয়াসহ টেন্ডার-বাণিজ্যের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৩ মে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে তলব করে দুদক। গত ১৯ মে দুদকের উপপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) সৈয়দ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে রেকর্ডপত্রসহ বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি (আউয়াল) ওই দিন উপস্থিত হননি। দুদক অনুসন্ধান অব্যহত রাখে। গত ২৪ অক্টোবর সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করে ইসি সচিব বরাবর চিঠি দেন দুদকের উপপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) মো. আলী আকবর। চিঠিতে বলা হয়, একেএমএ আউয়াল পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার সময় নির্বাচনী হলফনামার সঙ্গে স্থাবর, অস্থাবর সম্পদের যে হিসাব বিবরণী দাখিল করেছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তা দ্রুত প্রয়োজন। চিঠিতে সাবেক এই সংসদ সদস্য কর্তৃক ইসিতে জমা দেয়া হলফনামার সত্যায়িত কপি ৪ নভেম্বরের মধ্যে দুদকে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

একই দিনে (২৪ অক্টোবর) পিরোজপুর সার্কেল-৬ এর উপ কর কমিশনারের কাছে পাঠানো অপর এক চিঠিতে একেএমএ আউয়ালের আয়কর নথি ইটিআইএনের শুরু থেকে হালনাগাদ রিটার্নের তথ্য চেয়ে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ জানান উপপরিচালক মো. আলী আকবর।

সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল সার্বিক বিষয়ে গতকাল রাতে সংবাদকে বলেন, তারা (দুদক) নির্বাচন কমিশনে গেছে, আরও নানা জায়গা থেকে তথ্য নিচ্ছে। তাদের যা করার করছে। তবে আমি কোন দুর্নীতি, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কেউ বা কোন মহল হয়ত আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

একেএমএ আউয়াল সংবাদকে বলেন, প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে যে কথা বললেন, এখানে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এমপি ছিলেন। প্রভাব ছাড়া তো এখানে টেকা যাবে না। আমাদের রাজনৈতিক পরিবার। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবন আমার। নবম সংসদে মহাজোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে আমি এখানে জয়লাভ করেছি। দশম সংসদে আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছি।

দুদকের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, বিভিন্ন সময়ে সাবেক এই সংসদ সদস্যের অনিয়ম-দুর্নীতি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হওয়া এবং সংসদ সদস্য থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের বহু অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তার অবৈধ সম্পদের বিবরণ এসেছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের ১০ বছরে একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতি-অনিয়মের নানা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনার নৌকা, কোট পিনসহ বহু মূল্যবান উপহারসামগ্রী গ্রহণ, পিরোজপুরে বিপুল ভূ-সম্পত্তির মালিক হওয়া, রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, জাহাজ এবং বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা এবং ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামার তুলনামূলক বিশ্লেষণেও তার সম্পদের অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।

সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় আপন ভাইদের সঙ্গেও সংসদ সদস্য আউয়ালের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবরে তার সহোদর ভাই পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে বেকুটিয়া ফেরিঘাটসহ অন্য আরেকটি সেতুর টোল আদায়ের টেন্ডার নিয়ে বিরোধ উচ্চ আদালতে রিট হয়। রিটে তৎকালীন এমপির অবৈধ হস্তক্ষেপে কমমূল্যে টেন্ডার দেয়ার ঘটনায় সরকারের ৬২ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন সংসদ সদস্য আউয়ালের বিরুদ্ধে বেপরোয়া টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আনেন মেয়র মালেক। ২০১৬ সালের আগস্টে একইভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে বেপরোয়া অনিয়ম-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি এবং শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের বর্ণনা দেয় পিরোজপুর জেলা ও পৌর ছাত্রলীগ। ২০১৮ সালের মে মাসে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার এক ব্যবসায়ীর জাহাজ দখলের অভিযোগ ওঠে আউয়ালের বিরুদ্ধে। সে সময় জাহাজ দখলের বিষয়ে অনুসারী ক্যাডারদের মোবাইল ফোনে দেয়া নির্দেশনার কথোপকথন ফাঁস হয়ে ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকে তলবে হাজির না হওয়া এবং তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার বিষয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য (একেএমএ আউয়াল) সংবাদকে বলেন, আমি তো দুদকের কোন চিঠি পাইনি। তারা না ডাকলে আমি আগ বাড়িয়ে তথ্য দিতে যাব কেন। তারা তথ্য সংগ্রহ করছে করুক। তিনি বলেন, সব ষড়যন্ত্র; অভিযোগের খাতায় যা আছে, বাস্তবে তা খুঁজে পাবে না।