menu

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন

সরব আ’লীগের একডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী : নীরব বিএনপির একক প্রার্থী

সংবাদ :
  • মোজাম্মেল হক সবুজ, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮
image

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনেও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানামুখী কর্মতৎপরতা শুরু করেছে। প্রত্যেকেই নিয়মিতভাবে স্ব-স্ব এলাকায় জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম পরিচলনা করছে। উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যেও শুরু হয়েছে নির্বাচনী আবহ। ভোটের প্রচারণায় ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে উপজেলা সদরসহ প্রতিটি গ্রাম। তবে ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণায় এখনও নামতে পারেনি। এ আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সায়েদুল হক, ১৯৭৯ সালে হুক্কা মার্কা নিয়ে সতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার, ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোজাম্মেল হক (কাপ্তান মিয়া) ১৯৯১ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সৈয়দ মুর্শেদ কামাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি হুক্কা মার্কা নিয়ে সতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এসএম সাফি মাহমুদ। ১৯৯৬, ২০০১, ’৮, ’১৪ সালে একাধারে চারবার নৌকা মার্কা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. সায়েদুল হক। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর অ্যাড সায়েদুল হক মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম।

একদিকে নৌকার মাঝি হতে আওয়ামী লীগে এক ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন টেনশনে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ভর করবে প্রার্থী মনোনয়নের উপর। সাবেক মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সায়েদুল হক এমপির মৃত্যুর পর ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজুয়ান আহমেদ (লাঙ্গল) পরাজিত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম (নৌকা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদ সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম দলের মধ্যে প্রবল বিরোধিতার মুখে রয়েছে। উপনির্বাচনে বিজয়ী এমপি বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি এ আসনে তাকে চ্যালেঞ্জ করে ১১ জন প্রার্থী এক হয়ে মাঠে নেমেছেন।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, সাবেক মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রীর সহধর্মিনী দিলশাদ আরা বেগম মিনু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা এমএ করিম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ এহসান, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. নাজির মিয়া, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সস্পাদক আদেশ চন্দ্র দেব, হিন্দু মহাজোট জেলা সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রাখেশ চন্দ্র সরকার, কৃষক লীগ নেতা আলী আশ্রাফ, বাংলাদেশ আওয়ামী প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইখ্তেশামূল কামাল, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের শিক্ষা, পাঠাগার ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদিকা এনবি কানিজ।

অপরদিকে এই আসনে একবার নির্বাচন করে হেরে যাওয়া প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য সৈয়দ একে একরামুজ্জামান সুখন কিছুটা স্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। কারণ নির্বাচন মাঠে এখন পর্যন্ত দলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের কাছে পরাজয়ের পর সৈয়দ একে একরামুজ্জামান সুখন উপজেলা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে দলকে সংঘটিত করে।

১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৭০ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৭ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ৫২৩ জন। দশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একবারও জয়লাভ করতে পারেনি বিএনপি। আওয়ামী লীগ পাঁচ বার, জাতীয় পার্টি তিনবার, স্বতন্ত্র প্রার্থী দুইবার জয়ী হয়েছে।

এরশাদের মহাজোট থেকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রেজুয়ান আহমেদ ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় কৃষক পার্টির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানুর করিম (গরীবুল্লাহ সেলিম), ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইসলাম উদ্দিন দুলাল, খেলাফত মজলিশ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফেজ জুবায়ের আহমেদ আনসারী। মহাজোটের প্রার্থীরা গণসংযোগ ও কর্মী সভা করে যাচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম মনিরুজ্জামন সরকার বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে অদ্যাবধি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। আমি জনগণের ভালোবাসায় বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০০৪-এর এপ্রিল হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। আমার উপজেলার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলার সব আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সব অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মনোনয়ন প্রত্যাশী। যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয় আমি বিপুল ভোট পেয়ে নৌকা মার্কা জয়ী করতে পারব।

উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সস্পাদক আদেশ চন্দ্র দেব বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশের সৈনিক হিসেবে কাজ করে আসছি। ’৯০-এর সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখে অদ্যাবধি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি। আমাকে মনোনয়ন দিলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দিব।

উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান বলেন, দেশনেন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ যে ৭ দফা দাবি জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে আমাদের দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ একে একরামুজ্জামানের নেতৃতে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তিনি আমাদের দলের একক প্রার্থী। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলে জনগণের ভোট জনগণ দিতে পারলে, আমরা শতভাগ আশাবাদি সৈয়দ একে একরামুজ্জামান সুখন জয়লাভ করবে।

জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির হাফেজ জুবায়ের আহম্মেদ আনসারী বলেন, প্রচার, প্রচারণা ও গণসংযোগ করে যাচ্ছি। এলাকার মানুষের ব্যাপক সারা পাচ্ছি। নাসিরনগরের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে। আমাকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দিলে ইনশাআল্লাহ জয়লাভ করব।