menu

পুঁজিবাজার

সংকট কাটাতে সংকটে থাকা ব্যাংক খাতেই নির্ভর

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯
image

ব্যাংক খাতের দুর্দিনে পুঁজিবাজার টেনে তুলতে আবারও ব্যাংকের ওপরই নির্ভরশীল হয়েছে সরকার। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট (বিনিয়োগসীমা) শিথিল ও বড় অঙ্কের তহবিল জোগান দেয়াসহ নানা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এসব সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজারের দুর্দিন কাটবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত এসব সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের জন্য তেমন ভালো ফল হবে না। উল্টো আমানত সংকট ও খেলাপিতে জর্জরিত ব্যাংকগুলোর ওপর আরও চাপ পড়বে। তা শিল্প খাতে বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে। তারা বলছেন, চীনা কোম্পানিকে ডিএসইর অংশীদার করার সময়ও বাজারে সুদিন ফিরবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরেও এর লক্ষণ দেখা যায়নি। তাই পুঁজিবাজারে সুশাসন না ফেরা পর্যন্ত ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানো ঠিক হবে না বলেও মনে করছেন অনেকে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধসের পর ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তখন অনেকে বলেছিলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের সীমাহীন বিনিয়োগের কারণে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর জন্য বিনিয়োগসীমা বেঁধে দেয়া হয়। ওই নিয়ম অনুসারে ব্যাংকগুলো আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসেবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেন্ড আর্নিংয়ের ২৫ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। আর সমন্বিত পদ্ধতিতে ব্যাংক ও এর সাবসিডিয়ারি মিলে বিনিয়োগ করতে পারে ৫০ শতাংশ। এই বিনিয়োগ হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ধারণ করা সব শেয়ার, ডিভেঞ্চার, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ও অন্যান্য পুঁজিবাজার নিদের্শনাপত্রের বাজারমূল্যের হিসাব করা হয়। সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহককে দেয়া মার্জিন ঋণের স্থিতি, ভবিষ্যৎ মূলধনপ্রবাহ বা শেয়ার ইস্যুর বিপরীতে বিভিন্ন কোম্পানিকে দেয়া ব্রিজ ঋণ ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত তহবিলের চাঁদাও এ হিসাবের মধ্যে ধরা হয়।

২০১০ সালের ওই মহাধসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে পুঁজিবাজারকে ডিমিউচুয়ালাইজড করা, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য কেন্দ্রীয় ৯০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা, চায়না কোম্পানিকে পুঁজিবাজারের অংশীদার করা, ট্যাক্স মওকুফ করাসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত ছিল। এত কিছুর পরও গত ৯ বছরেও পুঁজিবাজারের অবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। মাঝখানে কিছুদিন ভালো হলেও তা ক্ষণস্থায়ী। যখন কিছুতেই পুঁজিবাজারের কিছু হয়নি, তখন সরকার আবার ফিরে এসেছে ব্যাংকের বিনিয়েগের দিকে। এক্সপোজার লিমিটে শিথিলতা এনে এবং আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করার মাধ্যমে পুঁজিবাজারগুলোয় অর্থ জোগানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।