menu

ভাসানচরে পৌঁছে

রোহিঙ্গারা তৃপ্ত, আবাসস্থল চমৎকার, অন্যদেরও আসার আহ্বান

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০

কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে ছাপড়া ঘর, অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশ থেকে ভাসানচরের পরিকল্পিত আবাসনে পৌঁছে তৃপ্তি ও স্বস্তির কথা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা। তারা এখন ভাবছেন স্বজনদেরও কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে নেয়ার কথা।

ভাসানচরে নিজের বুঝে পাওয়া ঘরে প্রথম রাত কাটানোর পর গত শনিবার ঘরের সামনের ফাঁকা মাঠে আড্ডারত কয়েকজন সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি বালুখালী ক্যাম্প থেকে ভাসনচরে এসেছেন। তবে বালুখালী রেখে এসেছেন বাবা-মা ও ভাইয়ের পরিবার।

মোহাম্মদ হোসেন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে অনেক ভালো লাগছে। আমি এখানে ঘুরেফিরে আবার কক্সবাজার যাব। ওখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসব। আর তারা যদি না আসে, তাহলে আমি আবার এখানে ফিরে আসব।’

কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে এসেছেন মোহাম্মদ জোবায়ের। তিনি বলেন, ‘এতো ভালো পরিবেশের কথা আমরা ভাবতেই পারছি না। জীবনে আমরা এতো ভালো বাসায় থাকতে পারিনি, থাকতে পারব এটাও আশা করিনি। আল্লাহ আমাদের মিলায়ে দিছে।’

কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ নাগরিকের মধ্যে ১ লাখকে আনতে প্রায় ৩১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাসানচরে আশ্রয়ন প্রকল্প তৈরি করেছে বাংলাদেশ সরকার।

স্থানান্তরের প্রথম ধাপে গত শুক্রবার কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে বাসে ও জাহাজে করে দুই দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার প্রথম দলটি শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছের ১৩ হাজার একর আয়তনের দ্বীপ ভাসানচরে পৌঁছায়।

পৌঁছানোর পরই তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয় সারি সারি লাল ছাউনির বাড়িগুলোতে, আর নতুন ঠিকানায় পৌঁছনো প্রায় সবারই চোখেমুখে দেখা গেল আনন্দের ছাপ। তাদের কেউ কেউ মোবাইল ফোনে নতুন ঠিকানার খবর জানাচ্ছিলেন কক্সবাজারের পুরনো ঠিকানায় রেখে আসা সঙ্গীদের, ভিডিও কলে দেখাচ্ছিলেনও। খোলা জায়গা পেয়ে শিশুরা মেতে উঠেছিল খেলায়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধিতা করে আসছে, যদিও বাংলাদেশ সরকার বলছে, এই স্থানে রোহিঙ্গারা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে নিরাপদে থাকতে পারবে।

ভাসানচর প্রকল্প আর কক্সবাজারের ক্যাম্পের মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে রোহিঙ্গা জোবায়ের বলেন, ‘দুটোর মধ্যে তুলনাই হয় না। ওইটা পলিথিনের বাসা, এখানে পাকা ঘর। অনেক ভালো লাগছে এখানে।’

স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ভাসানচরে আসা জোবায়ের আর কখনও কক্সবাজারের ক্যাম্পে ফিরতে চান না বলেও জানান।

প্রিয়জনের লাশ আর পুড়তে থাকা ভিটেমাটি পেছনে ফেলে প্রাণ হাতে করে তিন বছর আগে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। তার আগে থেকেই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে গাদাগাদি করে থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তার অভাবও প্রকট হয়ে উঠেছিল। ক্যাম্পগুলোতে খুনের ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। এছাড়া মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ের খবরও আসছে প্রতিনিয়ত।

তাই ভাসানচরে পৌঁছেই নিজেকে অনেকটা নিরাপদ ভাবছেন বালুখালীর ক্যাম্প থেকে আসা আবদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ওখানে আমার ভয় লাগছিল। চলাফেরা করতে গেলে বিভিন্ন মানুষ আমার গায়ে হাত দিয়েছে। এখানে সেই সমস্যা নেই। আমি ভালোভাবে চলতে চাই।’

‘ওখানে প্রয়োজনে বাইরে যেতে গেলেই কেউ বলত চোর, কেউ বলতো অমুক। এখন এখানে কেউ সেটা বলবে না।’

ভাসানচর আর কক্সবাজারের পরিবেশের পার্থক্য বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘ওখানে ঘরের বেড়া কেটে চুরি করে নিয়ে যেত। ঘুমিয়ে থাকলে ছুরিও মারত। এখানে তা পারবে না। যে ঘরটা পেলাম, সেটা খুবই নিরাপদ। কেউ চাইলেই চুরি করতে বা ঘরে ঢুকতে পারবে না।’

আবদুর রহমান ভাসানচরে গাড়ি চালিয়ে বা দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহের স্বপ্ন দেখছেন।

ভাসানচরের নতুন ঠিকানায় প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবার নিজেদের জন্য আলাদা ঘর পাচ্ছে, আছে রান্নার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি আর পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা। সেই সঙ্গে আছে খেলার মাঠ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, এমনকি জীবিকা নির্বাহের সুযোগও।

এই আশ্রয়ন প্রকল্পে ১২০টি ক্লাস্টার বা গুচ্ছগ্রামের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গার থাকার জায়গা। প্রতিটি ক্লাস্টারে রয়েছে ১২টি হাউজ এবং চারতলাবিশিষ্ট ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। পাকা দেয়ালের ওপর টিনের শেডের প্রতিটি হাউজে রয়েছে ১৬টি করে কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে চারজনের একটি পরিবারের থাকার ব্যবস্থা।

জাতিসংঘের আদর্শ মান অনুযায়ী, আবাসনের ক্ষেত্রে যেখানে মাথাপিছু ৩৭ বর্গফুট জায়গার কথা বলা হয়েছে, এসব কক্ষে তার চেয়ে বেশিই জায়গা রাখা হয়েছে বলে প্রকল্প পরিচালক জানালেন।

শুক্রবার যে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে এসেছেন, তাদের জন্য ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ক্লাস্টারের ৪৮টি হাউজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

স্কুল, মাদ্রাসা ও খোলামেলা পরিবেশের জন্য ভাসানচর অনেক ভালো লাগছে বলে জানালেন বালুখালীর ক্যাম্প থেকে স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে আসা আবদুস সামাদ।

তিনি বলেন, ‘এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। ঘরবাড়ি অনেক। অনেক বড় বড় রুম। এখানে লেখাপড়ার জন্য স্কুল, মাদ্রাসা আছে। বড় খেলার মাঠ আছে।

‘কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে জায়গা কম। মানুষ অনেক। একজন বের হলে আরেকজন বের হওয়ার জায়গা থাকে না।’

ভাসানচর আর কক্সবাজারের পরিবেশের পার্থক্য বর্ণনা করে জমিনা আক্তার বলেন, ‘এখানে বেশি ভালো লাগছে। ভালো ঘর, থাকার জায়গা ভালো।’

ভাসানচরে যেতে রোহিঙ্গাদের বাধ্য করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যেমন অভিযোগ করছে, বিপরীতে ভাসানচরে না আসার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল বলে জানালেন রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ। মোহাম্মদ আলি উল্লাহ বলেন, ‘আসার আগে আমাদের অনেকে ভয় দেখাচ্ছিল যে, পানি উঠবে, ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। কুমিরে খাবে। এনে এখানে পানিতে ফেলে দেবে।’

‘এখানে এসে দেখছি, যারা ভয় দেখাচ্ছিল তাদের কথা ঠিক না। অনেক ভালো লাগছে এখানে এসে। চলাফেরা করতে পারবো। অনেকটা স্বাধীনভাবে থাকতে পারব। অনেক জায়গা আছে। চাষ করে, খেত করে খেতে পারব। কুতুপালংয়ে কেন চাষ করার কোন জায়গা ছিল না।’

ভাসানচর আশ্রয়ন প্রকল্পের পরিচালক কমডোর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা এখানে আসবেন, তাদের জীবনযাপনের জন্য সুন্দর ব্যবস্থাপনা এখানে করা হয়েছে। তারা এখানে আগের চেয়ে ভালো থাকবেন।’

সরকারের অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামসু-দ্দৌজা বলেন, আপাতত ২২টি এনজিওর মাধ্যমে এই রোহিঙ্গাদের খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্য প্রয়োজন মেটানো হবে।

‘প্রথম সাতদিন তাদের রান্না করা খাবার খাওয়ানো হবে। এরমধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে দেয়া হবে এলপিজি সিলিন্ডার। তখন তারা নিজেরাই রান্না করে খেতে পারবে। এই এনজিওগুলো তাদের খাদ্য সরবরাহ করে যাবে।’

সাগরে মাঝে নির্জন এই দ্বীপে বসবাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রকাশ করে আসছে, তা প্রশমনে নানা ?পদক্ষেপও নিয়েছে সরকার।

দ্বীপের ১৭০২ একর জমির চারপাশে উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে জোয়ার ও জলোচ্ছাসের ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য।

এর ভেতরেই রোহিঙ্গাদের আবাসন ও অন্য স্থাপনার জন্য ৪৩২ একর এবং ভবিষ্যতে প্রকল্পের সম্প্রসারণ ও বনায়নের কাজে ৯১৮ একর এলাকা রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের থাকার প্রতিটি ক্লাস্টারের জন্য রয়েছে একটি করে চারতলা কম্পোজিট স্ট্রাকচারের শেল্টার স্টেশন। এই শেল্টার স্টেশন ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার গতিবেগের ঘূর্ণিঝড়েও টিকে থাকতে সক্ষম।

প্রতিটি হাউজে বসবাসকারী নারী-পুরুষদের জন্য রয়েছে আলাদা গোসলখানা ও টয়লেটের ব্যবস্থা। প্রতিটি হাউজের ছাউনির উপর রয়েছে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল। ঘরে আছে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা।

এর আগে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়েছিল।

এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দলকে দেখার জন্য ভাসানচরে পাঠানো হয়।

তারা ফেরার পর তাদের কথা শুনে রোহিঙ্গাদের একাংশ ভাসানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানানো হয় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। এরপর নেয়া হয় প্রথম দলটিকে স্থানান্তরের উদ্যোগ।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ভাসানচরের অবকাঠামো নিয়ে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তবে কিছু কিছু রোহিঙ্গার ভিন্ন সুর। তারা বলছেন, ভাসানচরে নয় স্বদেশে ফিরে যেতে পারলেই খুশি। তবে সাধারণ রোহিঙ্গারা বেশিরভাগই ভাসানচর যাওয়ার পক্ষে। তারা বলছেন, এখানে জোর করার কোন সুযোগ নেই, যে কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় ভাসানচর যেতে পারবে। গতকাল কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

৪ ডিসেম্বর স্থানান্তরের প্রথম ধাপে কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দল নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে। উখিয়ার আশ্রয় শিবির থেকে গত বৃহস্পতিবার বাসে করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। এরপর ৪ ডিসেম্বর সকালে সাতটি জাহাজ তাদের নিয়ে ভাসানচরে রওনা হয়। বেলা ২টার দিকে দ্বীপটিতে পা রাখে নির্যাতনের মুখে রাষ্ট্রহারা এসব মানুষ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিনের চেষ্টায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর জন্য একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকায় প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গার নাম রয়েছে। আগামী ১ মাসের মধ্যে তাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানাস্তর করা হবে। এ তালিকা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি ২২টি বেসরকারি সেবা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। যাদের নাম তালিকায় রয়েছে তাদের নগদ অর্থ দিয়ে ভাসানচরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

ভাসানচর নিয়ে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা আবু জমির বলেন, আমাদের ভাসানচর যাওয়ার জন্য কোন পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। আমার ভাগিনা জিয়াবুল হক পুরো পরিবার নিয়ে ভাসানচর অবস্থান করছে। সে আমাকে জানিয়েছে ভাসানচর খুবই সুন্দর একটি জায়গা। তারপরও বিভিন্ন অজানা কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি ভাসানচরে যাবে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, আমি প্রয়োজনে দেশে চলে যেতে রাজি তারপরও ভাসানচরে যেতে রাজি না।

কুতুপালং ক্যাম্প-৩-এর বসবাসকারী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ নুর চেয়ারম্যান জানান, আমরা ভাসানচরে যাব না। প্রয়োজনে দেশে চলে যাব। কিন্তু আশপাশের লোকজন চলে যেতে আগ্রহী। তিনি বলেন, সাধারণ রোহিঙ্গা টাকার লোভে পড়ে চলে যেতে রাজি হয়েছে। অনেকই তালিকায় নাম দিয়ে লাপাত্তা হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, তার ভাই মুহাম্মদ নজির বর্তমানে পরিবার নিয়ে মায়ানমারের মুন্ডু শহরে রয়েছে। তার সঙ্গে মোহাম্মদ নুরের যোগাযোগ রয়েছে। এখন মায়ানমারের মগবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম নির্যাতন করছে না। তারা শান্তিতে আছে।

ক্যাম্প-৫-এর অবস্থানরত রোহিঙ্গা আবদুল হক জানান, সাংবাদিকদের কাছে খবর দেয়ার কারণে নুরুল আলম নামের এক রোহিঙ্গা যুবক নিখোঁজ রয়েছে। সেজন্য তিনি সাংবাদিকদের আর কোন খবর দেন না বলে জানান।

ক্যাম্প-৫-এর মাঝি (চেয়ারম্যান) আবদুল হামিদ জানান, তার এলাকা অর্থাৎ ক্যাম্প-৫ থেকে ৩০ পরিবার ভাসানচরে গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলছে রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর চমৎকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। কিন্তু তাদের আত্মীয়স্বজন কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রয়েছে। তাদের সঙ্গে দেখা করার মতো কোন পরিবেশ ভাসানচরে নেই। তাই তারা অসন্তোষ প্রকাশ করছে। যদিও আবাসস্থলটি চমৎকার বলে দাবি করছে।

ক্যাম্প-৩-এর রোহিঙ্গা ছমদ, রফিক, জব্বার, ছৈয়দসহ আরও অনেকেই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, যারা ভাসানচরে যাচ্ছেন তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। তারা বলছেন, সাগরকে তারা ভয় পায় আর পাহাড়ে হলে তারা যেতে রাজি।

ওই সময় ছৈয়দ করিম নামের এক রোহিঙ্গা বলছেন, যারা ভাসানচরে গেছেন তারা চলে আসতে হাহাকার করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্যাম্প-৩ এর একাধিক রোহিঙ্গা যুবক বলছেন, তাদের যখন মায়ানমারের কথা মনে পড়ে তখন তারা টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে দেখে আসে। যদি ভাসানচরে চলে যায় তাহলে তারা আর মায়ানমার দেখতে পাবে না। এ জন্য তারা ভাসানচরে যাবে না বলে জানান।

রোহিঙ্গা মাঝি আবদুর রহিম বলেন, ভাসানচরে যাওয়ার জন্য যাদের নাম তালিকায় ওঠেছে তাদের কাছ থেকে ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে ত্রাণের কার্ডগুলো কেড়ে নেয়া হচ্ছে। তাই ত্রাণের ভয়ে অনেকই যাচ্ছে না ভাসানচরে।

এনিয়ে ইউএনএইচসিআরের লজিস্ট সার্পেট লিডার সুব্রত কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি সঠিক না। এখানে বিষয়টি পুরো দেখভাল করছেন আরআরআরসি। শরণার্থীদের স্থানান্তর প্রস্তুতি কিংবা রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংস্থাটিকে যুক্ত করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে তাদের কোন হস্তক্ষেপ নেই বলে জানান।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে তাই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য তিনি সরকারকে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা বলেন, ভাসানচরে যেতে অনেক রোহিঙ্গা সম্মত হয়েছে। এ নিয়ে কাজ চলছে যারা স্বেচ্ছায় যেতে রাজি তাদেরকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।