menu

মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখাসহ

রাজধানীর ৪২টি এলাকা লকডাউনে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০

দেশে প্রথম করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯ রোগী) শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে রাজধানীবাসী। গত ৮ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ২১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৪ জনই রাজধানীর। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৫৪ জনের ৩৯ জনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরও সিংহভাগই রাজধানীর। গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর ৫০ থানার ৪২টি এলাকার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি করোন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর লাখ লাখ বাসিন্দা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার এক কর্মকতা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ওই শাখা লকডাউন করা হয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহম্মদ শামসুল ইসলাম জানান, ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার এক কর্মকর্তার জ্বর ছিল। পরে টেস্ট করার পর রেজাল্ট কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়া গেছে। তাই শাখাটি লকডাউন করে হয়েছে। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত কর্মকর্তা ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন শাখায় কাজ করতেন। তার সঙ্গে এই সময় ব্যাংকে ছিলেন ৬২ জন, তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৪ দিন শাখাটি লকডাউন থাকবে। আর প্রিন্সিপাল শাখার কার্যক্রম মতিঝিল আমিন কোর্ট শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরবাসী নিজেকে ঘরে আবদ্ধ রেখে পরিবারের সদস্য ও সর্বোপরি সমাজকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে লকডাউন ও করোনা শনাক্ত স্থানগুলো হলো- হাজারীবাগ-১, উর্দু রোডে-১, বুয়েট এলাকা-১, লালবাগ-৪, ইসলামপুর-২, লক্ষ্মীবাজার-১, নারিন্দা-১, সোয়ারীঘাট-৩, ওয়ারী-৮, কোতোয়ালি-১, বংশাল-১, যাত্রাবাড়ী-৪, আদাবর-১, মোহাম্মদপুর-৫, বসিলা-১, ধানমন্ডি-৩, জিগাতলা-১, সেন্ট্রাল রোড-১, গ্রিনরোড-১, শাহবাগ-১, পুরানা পল্টন-২, ইস্কাটন-১, বেইলি রোড-১, মগবাজার-১, বাসাবো-৯, রামপুরা-১, বাড্ডা-১, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা-২, নিকুঞ্জ-১ ও আশকোনা-১। এছাড়া উত্তরা-৩, গুলশান-১, মহাখালী-১, কাজীপাড়া-১, মিরপুর-১০ নম্বর- ২, মিরপুর-১১ নম্বর-২, মিরপুর-১৩ নম্বর-১, মিরপুর-১ নম্বর-১, শাহ আলীবাগ-২, টোলারবাগ-১, উত্তর টোলারবাগ-৬, পিরেরবাগ-১ জায়গাগুলোতে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ আছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শপিংমলসহ মার্কেটও বন্ধ। সংক্রমণের আশঙ্কায় মসজিদে প্রতি ওয়াক্তের নামাজে সর্বোচ্চ ৫ জন ও শুক্রবার জুমার নামাজে ১০ জনের বেশি নিয়ে জামাত করা যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সরকারি নানা উদ্যোগের পরও থেমে নেই সংক্রমণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মহাপরিচালকসহ খ্যাতনামা রোগতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষকে অত্যাবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করছেন। তবুও অনেকে নানা অজুহাতে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন।