menu

দিনাজপুর

যুবলীগ নেতা মিল্টনের বাবা ছিলেন একাত্তরে বদর বাহিনী প্রধানের দেহরক্ষী

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, দিনাজপুর
  • ঢাকা , রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০

পুলিশের হাতে আটক বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত জেলা যুবলীগের সাবেক নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের পিতা হবিবুল্লাহ আজাদ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আলবদর বাহিনীর প্রধান বছির মাস্টারের সশস্ত্র দেহরক্ষী ছিলেন। মিল্টনের দুই দাদা আবদুর রশিদ ও ডা. আবদুল খালেক যথাক্রমে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তাদের পুরো পরিবারই মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণ ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দিনাজপুরে খানসামা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ নেতারা ও স্থানীয় জনসাধারণ জানান, মিল্টনের পৈত্রিক নিবাস উপজেলার ১নং আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসলী (বিষ বাসুলী) গ্রামে। যা দেশ স্বাধীনের পর লোকমুখে সে গ্রামের নাম পরিচিত হয়ে ‘রাজাকার’ গ্রাম হিসেবে। সেখান হতে তারা উঠে এসে নানার বাড়ি একই উপজেলার হোসেনপুরে বসবাস শুরু করেন।

এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী জানান, রাজাকার পরিবারের সন্তান খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন কখন কিভাবে কার হাত ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেন তা শুধু অবাক বিস্ময়ে আমরা শুনছি। কিন্তু বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। তিনি জানান, খানসামার বাসলী গ্রামের আবদুর রশিদ, ডা. আবদুল খালেক, হবিবুল্লাহ আজাদ তালিকাভুক্ত রাজাকার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা গণহত্যা চালিয়েছে, মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে, নারী ধর্ষণ, লুটপাটসহ সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। রাজাকারের সন্তান কীভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে?

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবিরকে আসামি মিল্টন হুমকি দেয়ার ঘটনায় হুমায়ুন কবির কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নম্বর ১২০৭, তারিখ- ২০-১১-২০২০।

উল্লেখ্য, বালুমহাল ইজারা নিয়ে দেয়ার নাম করে অর্থ আদায়, সরকারি কর্মচারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীদের ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সহসম্পাদক খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনকে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে খানসামা থানায় ৩টি মামলা ও প্যানাল কোডে ৩টি প্রসিকিউশন রয়েছে।

খানসামা থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, আটক খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের নামে খানসামা থানায় বালুমহাল ইজারা নিয়ে দেয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের বিষয়ে তিনটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও মামলার বাদীদের মামলা তুলে নেয়ার হুমকি প্রদান করায় প্যানাল কোড ৫০৪/২ এ বিজ্ঞ আদালতে ৩টি প্রসিকিউশন রয়েছে। এদিকে দিনাজপুর শহরের রামনগরের তার নিজ বাসা থেকে কাগজপত্র বিহীন একটি প্রাইভেট কার জব্দ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা রুজু করা হয়।