menu

মুক্ত খালেদা ফিরলেন নিজ বাসভবন ‘ফিরোজায়’

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০
image

গতকাল মুক্তিলাভের পর গুলশানে নিজ বাসা অভিমুখে খালেদা জিয়া -সংবাদ

দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্তি পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে দুই বছর এক মাস ১৬ দিন পর গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরেছেন বেগম জিয়া। দলীয়প্রধানের মুক্তিতে উৎফুল্ল বিএনপি নেতাকর্মীরা।

গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন। গোলাপি রঙের শাড়ি পরিহিত বিএনপি চেয়ারপারসন বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লক থেকে বের হন বিকেল সোয়া চারটায়। চোখে ছিল রোদচশমা। খালেদা জিয়াকে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিনা ইসলাম ও ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান আনতে যান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারাও হাসপাতালে যান। তিনি বেরিয়ে আসার পরপরই হাসপাতালের ভেতরেই নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড ভিড় জমে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে নির্দেশনা, সেকথা কারও মাথায় ছিল বলে মনে হয়নি। তিনি বিএসএমএমইউ থেকে বের হওয়ার পর গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মোটরসাইকেলে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ পায়ে হেঁটে এগোতে থাকে। কারও কারও হাতে ছিল হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড। নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি ধীর গতিতে এগোচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা শুরু করে। প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে নিজ বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছান তিনি। শামীম ইস্কান্দার নিজে গাড়ি চালিয়ে তার বোনকে বাড়িতে নিয়ে যান।

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে আসায় বেগম জিয়া কিছুটা হলেও মানসিকভাবে শান্তি পাবেন। এখানেই তার চিকিৎসা হবে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এসেছেন, তিনি দেখবেন। ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে না। তারপরও সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করব।

গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে বলে সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়। গতকাল খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ আইজি প্রিজনের কাছে পৌঁছে। সেখান থেকে এটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারের কাছে যায়। কারা কর্তৃপক্ষ এই আদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। এরপর তার মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ও মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি কারাগারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ মেডিকেল বোর্ড কারাগারে গিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। এরপর ফের ফিরিয়ে নেয়া হয় কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ফের একই হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি সেখানে ৬২১ নম্বর কেবিনে ছিলেন বলে জানান খালেদার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার। তার পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনটিতে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখা হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারায় বলা আছে, ‘কোন ব্যক্তি কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে সরকার যেকোন সময় বিনা শর্তে বা দণ্ডিত ব্যক্তি যা মেনে নেয় সেই শর্তে তার দণ্ড কার্যকর রাখা স্থগিত রাখতে বা সম্পূর্ণ দণ্ড বা দণ্ডের অংশবিশেষ মওকুফ করতে পারবেন।’ আইনের ওই ধারা অনুসারে সরকার খালেদা জিয়াকেও দুটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। শর্ত দুটি হলো-খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত থাকাবস্থায় তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) যেতে পারবেন। এছাড়া দণ্ড স্থগিত থাকাকালীন খালেদা জিয়া চিকিৎসা বা অন্য কোন প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।