menu

বুদ্ধ পূর্ণিমা ১৮ মে : ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি

ফানুস আতশবাজি নিষিদ্ধ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান বুদ্ধ পূর্ণিমা আগামী ১৮ মে। বুদ্ধপূর্ণিমাকে ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। উৎসবটি পালন করতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বুদ্ধ পূর্ণিমার ঐতিহ্য ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পটকা আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

ডিএমপি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- মন্দির ও অনুষ্ঠানস্থল কেন্দ্রিক নিরাপত্তা নির্দেশনা ও শোভাযাত্রা কেন্দ্রিক নিরাপত্তা নির্দেশনা। সভায় ডিএমপি কমিশনার জানান, বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন সব বৌদ্ধ মন্দির ও তার আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের ম্যানুয়ালি ও আর্চওয়ে দিয়ে তল্লাশি, মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ছাড়াও তাদের আলাদা পোশাক, আর্মড ব্যান্ড বা আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন দেশে সবধরনের মাদকদ্রব্য, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও নামাজের সময় সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা, সর্বসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য মন্দিরের আশপাশে কোন ভাসমান দোকান ও হকার বসতে না দেয়া, মন্দির সংশ্লিষ্ট রাস্তায় পর্যাপ্ত ব্যারিকেড ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনারের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ আছে, মন্দিরে সন্দেহভাজন কাউকে প্রবেশের পূর্বেই তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে প্রবেশ করাতে হবে। বড় ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, পোটলা, ধারালো কোন বস্তু, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মন্দির ও অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। অনুষ্ঠানস্থল বোমা ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করানো হবে।

শোভাযাত্রা কেন্দ্রিক নিরাপত্তা নির্দেশনা- বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে ১৭ মে সকাল ৯টা থেকে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শান্তি শোভাযাত্রা জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে যেয়ে শেষ হবে। ১৮ মে সকাল সাড়ে ৭টায় ধমরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার কর্তৃক আয়োজিত শান্তি শোভাযাত্রা ধমরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার হতে শুরু হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, কমলাপুর হয়ে পুনরায় ধমরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রায় নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। ১. শোভাযাত্রা শুরুর পূর্বে সবাইকে তল্লাশি করে শোভাযাত্রায় প্রবেশ করানো হবে। ২. শোভাযাত্রা শুরুর পর পথিমধ্যে কাউকে নতুন করে শোভাযাত্রায় ঢুকতে দেয়া হবে না। ৩. পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে শোভাযাত্রার চারপাশ বেষ্টনী দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ৪. শোভাযাত্রায় কোন ধরনের ব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক, দাহ্য পদার্থ, ধারালো বস্তু, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।