menu

বিজয়ের মাস

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

আজ ৬ ডিসেম্বর; বিজয় মাসের ষষ্ঠ দিন। একাত্তরের এই দিনে নয় মাসের যুদ্ধে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ভারত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে রত রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ সরকার এবং বাঙালি জাতিকে ভারতের এই স্বীকৃতি আরও আত্মবিশ্বাসী ও রণাঙ্গনে উজ্জীবিত করে তোলে এবং লড়াইয়ে আরও গতি এনে দেয়। নিজেদের বিশ্বাসকে ঝালাই করে নেয়ার জন্য টনিকের মতো কাজ করে ভারতের এই স্বীকৃতি। এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় করে সেদিন হয়তো আর বেশি দূূরে নেই, যেদিন ভারতের পথ ধরে বিশ্বের অন্যান্য দেশও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবে।

নিজেদের পরাজয় ঠেকাতে পাক হানাদার বাহিনী যুদ্ধের মাঠে তাদের সর্বশক্তি নিয়ে নামে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে তাদের সর্বশক্তি দিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছিল; কিন্তু যুদ্ধের মাঠের মতো কূটনীতির মাঠেও তারা একে একে পরাজিত হচ্ছিল। ক্রমেই যেন পরাজয় পরিষ্কার হয়ে আসছিল। এমন সময় ভারতের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এর যৌক্তিকতা ও প্রভাব ছড়িয়ে পড়তেও দেরি হয় না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় ঢাকাকে মুক্ত করতে মুক্তিবাহিনী অগ্রসর হতে থাকে। এদিনেই যশোরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়। লেজ গুটিয়ে পাকবাহিনী আশ্রয় নেয় যশোর সেনানিবাসে। প্রথম হানাদারমুক্ত জেলার গৌরব অর্জন করে যশোর। যদিও একেবারে স্বাধীন শহরের মর্যাদা পেতে আরও একদিন অপেক্ষা করতে হয়। পাকবাহিনী অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে শহরের অনেকেই বাইরে এসে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। একাত্তরের এই দিনে সন্ধ্যা হতে না হতেই পাকিস্তানি বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়। কার্যত যশোরের পতন হয়েছে আগের দিনই। কিন্তু ৬ তারিখও মিত্রবাহিনী সে খবর পায়নি। ইতোমধ্যে ভারতীয় নবম ডিভিশন উত্তর দিক দিয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টের কাছে এসে পৌঁছে। তখনও তারা জানে না যশোর ক্যান্টনমেন্ট শূূন্য। তখনও তাদের কাছে খবর আসে পাকিস্তানি বাহিনী যশোর রক্ষার জন্য বড় ধরনের লড়াই করবে। কিন্তু মিত্রবাহিনী সামনের দিকে এগিয়ে অবাক হয় কোন ধরনের প্রতিরোধ নেই দেখে। সামনে থেকে একটিও গুলি আসছে না। হতবিহ্বল অবস্থায় যখন তারা একেবারে ক্যান্টনমেন্টের কাছে এসে পৌঁছায় তখন তারা বুঝতে পারে ব্যাপারটা। দশ-পনেরোজন লোক জয়বাংলা ধ্বনি দিয়ে তাদের সামনে এসে তাদের জড়িয়ে ধরে সংবর্ধনা দেয়। এ সময় তারা জানায়, আগের দিনই পাকিস্তানি বাহিনী যশোর ছেড়ে পালিয়েছে।

সেদিন দুপুরেই সিলেটের পতন হয়। প্রথম ছত্রীসেনা নামল সিলেটের নিকটবর্তী শালুটিকর বিমানবন্দরে। সেদিন খুব ভোরে চতুর্র্দিক থেকে মিত্রবাহিনী সিলেটের পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। দুপুরেই সিলেট অঞ্চলে নিয়োজিত পাকিস্তানি সেনানায়ক আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লার চান্দিনার অদূূরে এস ফোর্সের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল কেএম শফিউল্লাহ ১১ বেঙ্গলের সদর দফতরে এসে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে কর্নেল শফিউল্লাহ একা হয়ে পড়েন। এখানে তাদের বিজয় হয়েছে আর শত্রুপক্ষের কারও আসার আশঙ্কা নেই। এ অবস্থায় একটি ট্রাক আসতে দেখে তা থামানোর নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু‘ সেটা ছিল পলায়নরত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রাক। ফলাফল সামনা-সামনি যুদ্ধ। এতে গুলিবিদ্ধ হন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাসিম এবং শফিউল্লাহর রানার মান্নান। পরে মুক্তিবাহিনী এসে পাকিস্তানিদের ওপর আক্রমণ চালায়। এ যুদ্ধে দুই মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। আর পাকিস্তানের ১১ জনকে আটক করেন তারা।