menu

বিএসএমএমইউ থেকে কারাগারে খালেদা

বিএনপির দাবি মেডিকেল বোর্ডের আপত্তি ছিল নেত্রীকে কারাগারে নেয়ায়

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮

বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে গতকাল কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পৌনে ১২টার দিকে কারা ফটকে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

পুরান ঢাকার পুরানা কেন্দ্রীয় কারাগারের সূত্রগুলো জানিয়েছে, কারাগারের ভেতরে অস্থায়ী আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি কার্যক্রম চলবে। আদালতে হাজির করার জন্য খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছে। তারা আরও বলেন, শুনানির পর তাকে হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে না।

বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে নিজ আবাসস্থলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। গত এক মাসের চিকিৎসায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এছাড়া তার ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরিচালক বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এবং সহায়তা চাইলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসক দল কারাগারে গিয়ে তাকে চিকিৎসা দিয়ে আসবে। তবে আদালতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এখনও অসুস্থ।

সরকার আদালতের এজলাস স্থানান্তরের আদেশ জারির পর নাইকো মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাহবাগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এবং নাজিমুদ্দিন রোডে কারাগার এলাকায় নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে পুলিশের একটি কালো এসইউভি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে পুরান ঢাকায় কারাগারের পথে রওনা হয়। ১৫ মিনিটের মাথায় গাড়িটি কারাভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। আর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালেই একটি গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গত বুধবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে বলা হয়, কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলবে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আদালত স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে গত ৬ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ২৯ অক্টোবর কারাগারের ভেতরে বসানো জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস থেকেই জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার রায় আসে, সেখানে তাকে সাত বছরের কারাদ- দেয়া হয়। পরদিন হাইকোর্টে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিল রায়ে তার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। এ দুই মামলার রায় আসার পর জরুরি অবস্থার সময় দায়ের করা নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষ করতে উদ্যোগী হয় সরকার।

এর আগে, গত ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওইদিন একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার চিকিৎসা শুরু করতে সরকারকে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ- দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। ওই দিন থেকেই কারাবন্দী রয়েছেন তিনি।

বিএনপির দাবি

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে আদালতে ও কারাগারে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল পুরাতন কারাগারে স্থাপিত ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে কারা ফটকে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউ থেকে বের করে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি মেডিকেল বোর্ডের যারা চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন তারা ছাড়পত্র দেননি। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। এই বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে কারাগারের আদালতে নিয়ে এসেছে। তাকে আবার এই কারাগারেই রেখে দেয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা কারা অভ্যন্তরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আদালত সময় দেননি।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, তাকে চিকিৎসা শেষ না হলেও জোর করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশকে লঙ্ঘন করে সরকার হাসপাতাল থেকে কারাগারে প্রেরণ করেছে। তার চিকিৎসা শুরুই হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মুহূর্তে কারাগারে প্রেরণ করার উদ্যোগ শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত।