menu

সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত

বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসোপানে-প্রধানমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশন গতকাল শেষ হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের অধিবেশন সমাপ্তি সম্পর্কিত ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এর আগে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাপনী ভাষণ দেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় উপনেতা বেগম রওশন এরশাদও সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সমাপনী ভাষণে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, দেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করব। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করব ভিক্ষুকমুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ।

সম্প্রতি সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি ও শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করা হবে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করা হবেÑ যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কেউ সাহস না পায়। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ধর্ষকদের চেহারা যেন বারবার দেখানো ও প্রকাশ করা হয়।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এলএমজি আমদানি করছি গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য। দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে। শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু ওই পরিমাণ গ্যাস আমাদের দেশে নেই। আমরা গ্যাসের কূপ খনন করছি। গ্যাসের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তা উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এলএনজি গ্যাস আমদানিটা খুব ব্যয়সাপেক্ষ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মূল্যায়ন করে দেখেছে, বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। সেখানে আমরা কতটুকু দাম বৃদ্ধি করেছি? গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বিষয়টা বিবেচনা করে কমিশন মাত্র ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করেছে। অর্থাৎ ভোক্তা পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য হার বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার ৯ দশমিক ৮০ টাকা। আর প্রতি ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গ্রাহকদের জন্য কোন দাম বৃদ্ধি করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে হবে, ওই রাজনীতি করি না। আমার প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নতি ও দেশের মানুষের কল্যাণ। দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দেয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য শেষে স্পিকার রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশন ১১ জুন শুরু হয়। ৩০ জুন বাজেট পাস করা হয়। সম্পূরক বাজেট ও মূল বাজেটের ওপর মোট ৫৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট আলোচনা হয়েছে। বাজেটের ওপর মোট ২৬৯ সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। মোট ২১টি কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ৭টি সরকারি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ২৩৫টি নোটিশ পাওয়া যায়। নোটিশগুলো থেকে ১২টি গৃহীত নোটিশের মধ্যে ৫টি আলোচিত হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ছিল ৭৫টি। এছাড়া এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সর্বমোট ৯৩টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনি ৪১টি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মন্ত্রীদের জন্য আনা ২ হাজার ২৭৪টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৫৮টির জবাব দেন।

সমাপনী ভাষণের পর স্পিকার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করেন।

গ্যাসের দাম বাড়ালে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে : সংসদে রওশন

সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা রওশন এরশাদ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেছেন, আমরা উন্নয়ন চাই। তবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি চাই না। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গতকাল একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় ও বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সংসদে বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সুস্থতায় দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।

নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করার আহ্বান : দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুসংহত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে বিরোধী দলের উপনেতা সংবাদমাধ্যমের জন্য অবিলম্বে নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার বিষয়টি মনিটরিংয়েরও আহ্বান জানান।

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদ- করার দাবি : ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান করার দাবি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, শিশু ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হচ্ছে। এটা মহামারী আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাÑ কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। নুসরাতের মতো মেয়েদের যদি জীবন দিতে হয়, তাহলে এটা জাতির জন্য লজ্জার ব্যাপার। ইদানীং এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগে এই পরিস্থিতি ছিল না। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সরাসরি মৃত্যুদ- দিতে হবে। আমরা আমাদের শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে চাই। তিনি আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশে করে বলেন, এই সমস্যাগুলোকে ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত এসব বিচার সম্পন্ন করতে হবে।