menu

বদির আত্মসমর্পণের গুঞ্জন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন মরণনেশা ইয়াবার প্রধান গডফাদার হিসেবে খ্যাত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ধ্বংস করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীর তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করতে ইতোমধ্যে মাদককে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই বহুল আলোচিত মাদকের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবার সরকারের চাপে পড়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যে তিনি প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

তবে, উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরই বদি আত্মসমর্পণ করবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়। আত্মসমর্পণের ফলে কারাবরণ করতে হলে সেই প্রস্তুতিও বদি সম্পন্ন করে রেখেছেন।

ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণের প্রাথমিক শর্ত হিসেবে বদির ৩ ভাই-বোন ও ভাগিনাসহ পরিবারের ২০ জন সদস্য পুলিশ হেফাজতে চলে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ সাবেক সংসদ সদস্য বদি ও তার ভাই দেশের অন্যতম শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আবদুর শুক্কুর আত্মসমর্পণ করবেন বলে সূত্র জানায়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এতদিন ধরে বদি তার পরিবারের সদস্যদের ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে এলেও এবার নিজেই দোষ স্বীকার করে ভাই-বোনদের আত্মসমর্পণ করাচ্ছেন। বদির ভাই-বোনসহ স্বজনদের ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেয়ায় এবার তাকেই আত্মসমর্পণ করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হয়েছে। দেশে ইয়াবা পাচার বন্ধের জন্য ইয়াবার ‘গডফাদার’ আব্দুর রহমান বদি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা তালিকার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আব্দুর শুক্কুরকে সরকার আত্মসমর্পণ করতে বলেছে। সরকারের চাপে পড়ে আত্মসমর্পণ করতেই দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়া আব্দুর শুক্কুর কয়েকদিন আগে দেশে ফিরেছেন বলেও সূত্র জানায়।

জানা গেছে, আত্মসমর্পণ করতে এরইমধ্যে সরকারের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখাও করেছেন বদি। আত্মসমর্পণের পর যেন দ্রুত মুক্তি পান, সেটিও নিশ্চিত করতে চান তিনি। এই লক্ষ্যেই বদি তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত জামিনের নিশ্চয়তা পেলে চলতি মাসেই আত্মসমর্পণ করবেন বলে তার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়। তবে, আত্মসমর্পণের আগে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলা নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন নিয়েও দিতে চান বদি।

একটি সূত্র জানায়, আব্দুর রহমান বদি সংসদ সদস্য থাকার সময় তার বা তার স্বজনদের ইয়াবা কারবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি তিনি। তাই বদির হাতে এখন আর আগের ক্ষমতা নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অনমনীয় মনোভাবের কারণে অবস্থা বুঝে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিজের ভাই ফয়সাল রহমান, শফিক রহমান, বোন শামসুন নাহার, ভাগিনা শাহেদ কামাল নিপুসহ ২০ জন নিকট আত্মীয়কে আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশের হেফাজতে পৌঁছে দিয়েছেন বদি নিজেই।

তবে, এখন পর্যন্ত নিজের আত্মসমর্পণের বিষয়টি স্বীকার না করলেও ভাই-বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের আত্মসমর্পণের কথা স্বীকার করেছেন বদি। দুবাই পালিয়ে যাওয়া তার ভাই আব্দুর শুক্কুরও আত্মসমর্পণ করতে দেশে ফিরে এসেছেন বলে বদি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সরকারের তৈরি করা ইয়াবা কারবারিদের তালিকায় আমার ভাই-বোন, ভাগিনাসহ স্বজনদের নাম রয়েছে, তাই আমি নিজেই তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছি।’

প্রতিটি তালিকায় তার নাম আছে, তাহলে তিনিও কি আত্মসমর্পণ করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বদি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুসারেই আমি কাজ করছি।’

ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয় এতদিন কেন অস্বীকার করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বদি বলেন, ‘আমরা একান্নবর্তী পরিবার। বিশাল পরিবারের সবাইকে পাহারা দেয়া একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার অজান্তেই পরিবারের অনেকেই বিপথে জড়িয়ে গেছেন।’

বদি ও তার স্বজনদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, ‘শর্ত সাপেক্ষে ইয়াবা কারবারিদের সরকার স্বাভাবিক জীবনে সুযোগ দিতে চায়। এরইমধ্যে অনেক শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে। এরমধ্যে টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির আত্মীয়-স্বজনও আছে। বদির ভাই শুক্কুর তার দল-বল নিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য দেশে ফিরেছেন বলেও তিনি জানান।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘তালিকাভুক্ত বা তালিকার বাইরের যত ইয়াবা কারবারি আছে, তাদের সবাইকে আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়েছে।’ যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করবে, তাদের শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হবে বলে তিনি জানান।