menu

প্রধান সড়ক ফাঁকা থাকলেও গলিতে গলিতে ভিড়

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা থাকলেও গলিতে গলিতে এখন মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই এ অবস্থা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নয় বলে দেখা গেছে। গতকাল রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, খিলগাঁও, মুগদা, মানিকনগর, ধানমন্ডিসহ বেশকিছু এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর মগবাজার রেলগেট, নয়াটোলা, পেয়ারাবাগ ও আমবাগান এলাকায় দেখা যায়, সংখ্যায় কম হলেও মানুষ আগের মতোই রাস্তায় চলাফেরা করছে। শুধু গলির রাস্তায় আগের মতো রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নেই। বেশকিছু স্থানে চায়ের দোকানে ও মোড়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে কিশোর-যুবকসহ নানা বয়সীদের। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানুষে-মানুষে ‘সামাজিক দূরত্ব’ মানার প্রবণতা তেমন নেই। ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রায়ই একে অন্যের গা-ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচারও রক্ষা করছেন না অনেকে। কিছু দোকানের সামনে নির্দিষ্ট দূরত্বের চিহ্ন দেয়া থাকলেও অনেকেই তা মানছে না। বিশেষ করে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানগুলোতে এ চিত্র বেশি দেখা গেছে।

এদিনও জরুরি কাজে নিয়োজিত পরিবহনের বাইরে ব্যক্তিগত কিছু গাড়ি রাস্তায় ছিল। তবে কয়েকদিনের তুলনায় অটোরিকশার সংখ্যা কম ছিল। রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও অনেক স্থানেই মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে চালকদের। এছাড়া মোড়ে মোড়ে দাঁড়ানো ছিল রিকশাও। বিভিন্ন স্থানে চলাচলে পুলিশকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে দেখা যায়। এতেও বেশ কাজ হয় না। কিন্তু পুলিশ চলে গেলেই দেখা যায় মানুষ আবার ঘোরাফেরা করছে। অনেকে পুলিশের গাড়ীর হর্ন শুনে বাড়ি বা গেটের ভিতর ঢুকে যায়। তবে যানবাহন ও লোকজন চলাচলে পুলিশের কঠোর অবস্থান বেশিরভাগই প্রধান সড়কে দেখা যায়। প্রধান সড়ক থেকে দীর্ঘ গলির ভিতরে পুলিশকে খুব একটা দেখা যায় না।

মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেটের একজন সবজি বিক্রেতা জানায়, তার বেচাকেনা আগের মতোই চলছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্যানের মধ্যে দোকান চালু রাখেন। করোনার লকডাউনে তার ব্যবসা খুব একটা কমেনি। অনেকে বলছেন, সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে অধিকাংশ মানুষই ঢাকার বাইরে চলে গেছে। তাই আগের তুলনায় কম মানুষ হাঁটছে।

গাবতলী, মধুবাগ, মীরবাগসহ আরও কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক করার পরপরই আবার বিনা প্রয়োজনে অনেকেই গলিতে-সড়কে নেমে আসেন। দোকানগুলোকে বন্ধ করার কথা বললেও কিছু সময় পর আবারও দোকান খুলে বেচাকেনা করছেন। অনেকেই আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে তুলে ধরছেন নানা অজুহাত।

মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে এরপরও যদি কেউ অযথা বের হন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকা, জরুরি প্রয়োজনে বের হতে হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোন মূল্যে এটি মানতে ও মানাতেই হবে। না মানলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।