menu

পোশাক শিল্পের আড়ালে বছরে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়

দুদকের দুটি টিম অনুসন্ধানে নেমেছে

  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

দেশ থেকে গার্মেন্ট মালিকদের কেউ কেউ পোশাক শিল্পের আড়ালে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করছে। প্রতিবছর গড়ে দেশ থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। এরমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৭৫ কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৭ সদস্যের পৃথক দুটি টিম গঠন করেছে। গঠিত টিম ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

গতকাল প্রধান কার্যাললে সামনে দুদক সচিব ম. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান ‘কতিপয় গার্মেন্টস মালিকদের বিরুদ্ধে কিছু পাবলিক সার্ভেন্টের সহযোগিতায় অবৈধ সম্পদ অর্জনপূর্বক আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। বছরে গড়ে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। এসব পাচারের সঙ্গে কতিপয় গার্মেন্টস মালিকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুসন্ধানে আলাদাভাবে তিন সদস্য ও চার সদস্যর দুটি অনুসন্ধান দল তদন্ত পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। অনুসন্ধান টিমের প্রতিবেদন দাখিল করা হলে তা পর্যালোচনা করে কমিশন আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মূলত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ওভারইনভয়েসিং সংক্রান্ত কিছু তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সচিব জানান, অভিযোগের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আল মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রপ্তানির আড়ালে ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। গঠিত টিম ইতোমধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছে। এছাড়া বিভিন্ন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা ওভার ইনভয়েজিং-এর মাধ্যমে যে অর্থ পাচার করছে তা খতিয়ে দেখতে ৪ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোডর্ (এনবিঅর) থেকে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য নিয়ে কাজ করছে দুদক।

দুদকের সূত্র জানায়, আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে অর্থ পাচার করেন গার্মেন্ট মালিকরা। এছাড়া এলসি খোলার সময় মূল্য অনেক বেশি দেখান। এভাবে বছর বছর দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করছেন গার্মেন্ট মালিকরা। এসব গার্মেন্ট মালিকদের বিষয়ে ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে দুদক সব সময় কঠোর। দুদক সবেমাত্র এ অভিযোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এনবিআর থেকেও বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। দুদকের চাহিদা মতো সব তথ্য হাতে আসার পর পরিষ্কার হবে অর্থ পাচারের সঙ্গে কোন কোন গার্মেন্ট মালিকরা জড়িত। কে কত টাকা ইতোমধ্যে পাচার করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ বেশ পুরোনো। বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। অর্থ পাচারকারীদের তালিকা তৈরি করতে হাইকোর্ট থেকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুদক সেই বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করছে। দুদকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মানিলন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলায় শতভাগ সাজা হয়েছে। ২০১৮ সালে অর্থ পাচার মামলায় সাজার হার শতভাগ ছিল। দুদক মনে করে অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলাগুলো নিখুঁতভাবে তদন্ত শেষ করে আদালতে সঠিতভাবে উপস্থাপন করা এ সাজা হয়েছে।