menu

ঋণ কেলেঙ্কারি

পি কে হালদারসহ ১২৯ জনকে হাইকোর্টে তলব

সংবাদ :
  • আদালত বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় পি কে হালদারকে (প্রশান্ত কুমার হালদার) আবারও তলব করেছেন হাইকোর্ট। একই ঘটনায় মোট ১২৯ জনকে ব্যক্তিগতভাবে আগামী ২৪ ও ২৫ মে সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর লিখিত আদেশটি প্রকাশিত হয়।

লিখিত আদেশ থেকে জানা গেছে, আইএলএফএসএল থেকে উত্তোলনকৃত ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। তাই আইএলএফএসএল থেকে ঋণের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত ১২৯ জনকে ব্যক্তিগতভাবে আগামী ২৪ ও ২৫ মে সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের তলবের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়। আইএলএফএসএলের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন এ আবেদন জানান। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে পি কে হালদারসহ ১২৯ জনকে তলবের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি আরেকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে পাঁচ লাখ টাকা বা তার বেশি অর্থ ঋণখেলাপি ২৮০ ব্যক্তিকে তলব করেছিল হাইকোর্ট। তাদের পর্যায়ক্রমে আদালতে হাজির হয়ে ঋণ পরিশোধের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে তলবাদেশে আবেদন জানায়।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট পি কে হালদারের দেশে ফেরত এলে কোন রকম গ্রেফতার না করার নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করে তার প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিল, পি কে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেয়া হবে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। পরবর্তীতে পি কে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানায়। পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

পরে সার্বিক বিবেচনায় পি কে হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পি কে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আইজি এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকাবস্থায় পি কে হালদার যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান সে বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পি কে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে আইএলএফএসএলের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেয়। তবে পরে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে আর ফেরেননি। এদিকে আদালতে দুদকের দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুদকের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞাদেশ পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার আগেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পালিয়ে যান আলোচিত পি কে হালদার।