menu

হাওর দুর্নীতি মামলা

পাউবোর ১৪ কর্মকর্তাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

দুদকের অনুমোদন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বহুল আলোচিত হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় ৬১ আসামির মধ্যে ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কমকর্তাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল দুদক কমিশনার মামলার চার্যশিট আদালতে দাখিলের অনুমতি দেন। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের নামে আগেই মামলা হয়েছিলো। মামলার পর তদন্তে পাউবোর ১৪ কর্মকর্তা ও ১ ঠিকদারসহ ৬ জনের নাম আসায় তাদেরসহ ৩৩ জনের নাম চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পর ১ বছর ৬ মাসের তদন্ত শেষে মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে পাউবোর ৬ জন এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ২৯ জনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে চার্জশিটে।

যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হচ্ছে তারা হলেন, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের (পাউবো) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন(বর্তমানে-নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দফতর (পূর্ব রিজিয়ন), বাপাউবো,), সাবেক উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান (বর্তমানে- সহকারী প্রকৌশলী, বি-বাড়িয়া পানি উন্নয়ন বিভাগ), তৎকালীন সেকশন কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লা (বর্তমানে-উপ সহকারী প্রকৌশলী (পুর) শাখা কর্মকর্তা, মনিটরিং সার্কেল, কাবিখা, বাপাউবো), ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ খান (বর্তমানে-উপ সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা, নেত্রকোনা পওর বিভাগ), খন্দকার আলী রেজা (বর্তমানে-উপসহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা, কক্সবাজার পওর, মো. শাহ আলম, (বর্তমানে-উপসহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা, ঢাকা পওর বিভাগ-২, বাপাউবো), মাহাম্মদ মাহমুদুল করিম (বর্তমানে-উপ সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা, সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-২,), মো. মোছাদ্দেক, (বর্তমানে-উপ সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালকের দফতর, পিএমইউ ক্লাস্টার প্রজেক্ট, বাপাউবো), সজিব পাল (বর্তমানে-উপসহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা ঝালকাঠি)।

ঠিকাদারদের মধ্যে রয়েছে মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ আফজালুর রহমান, মোসার্স এলএন কন্সট্রাকশনের মালিক পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, ময়মনসিংহের শেখ মোঃ মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জে মেসার্স মাহবুব এন্টারপাইজের আবুল মহসীন মাহবুব, মতিঝিলের মেসার্স নিয়াহ ট্রেডার্সের নিয়াজ আহমেদ খান, সুনামগঞ্জের মেসার্স প্রীতি এন্টার প্রাইজের মিলন কান্তি দে, কুস্টিয়ার মেসার্স আর আর ট্রেডিংয়ের খান মো. ওয়াহিদ রনি, সুনামগঞ্জে মেসার্স সোহেব এন্টার প্রাইজের মো. সোয়েব আহমেদ, চট্টগ্রামের মেসার্স ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্সের মো. ইউনুস, হবিগঞ্জের মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, সুনামগঞ্জের মো. আতিকুর রহমান, রাজশাহীর মো. গোলাম সরোয়ার, সুনামগঞ্জের মেসার্স নুরুল হকের মালিক মোঃ নুরুল হক, ঝিনাইদহের মো. শাহরিন হক, সিলেটের মোকসুদ আহমেদ, ১৫৪ মতিঝিল নুনা ট্রেডার্সের মো. সাইদুল হক, মতিঝিলের এসএ আইএস প্রা. লি. এর কাজি হাসিনা আফরোজ, শেখ আশরাফ উদ্দিন। এসব আসামিদের নাম মামলায় উল্লেখ ছিল।

এছাড়া তদন্তে আসা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫ কর্মকর্তা এবং এক ঠিকদারসহ আরও ৬ জনকেও চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন সুনামগঞ্জ পাউবোর সাবেক উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী লিংকন সরকার (বর্তমানে-সহকারী প্রকৌশলী, সিলেট পওর সার্কেল), রঞ্চন কুমার দাস, (বর্তমানে- উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশুগঞ্জ পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগ), অনিক সাহা (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী, সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-১), সাবেক সেকশন অফিসার ইমরান হোসেন (বর্তমানে-উপসহকারী প্রকৌশলী(পুর)/শাখা কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-১), নিহাররঞ্জন দাস (বর্তমানে-উপসহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-১) এবং চট্টগ্রামের মেসার্স ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লি. এর পরিচালক (কন্সট্রাকশন) মো. শরিফুল ইসলাম।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দেওয়ানি অপরাধের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বিষয়টি দুদকের তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ জন ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৪ জন কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে প্রতি বছরে বন্যা আসার সময় ও আশঙ্কা সম্বন্ধে অবহিত থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারী ৮.১৪ কোটি টাকা আত্মসাতে করে। এই আত্মসাৎ এবং অবহেলার কারণেই হাওর অঞ্চলে ভয়াবহ বন্য সংঘটি হয়। ফলে কৃষকের ও জনসাধারনের আর্থিক ক্ষতি সাধন হয়। এ সকল অপরাধের কারণে ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২)ধারা তৎসহ দন্ডবিধি ৪০৯/১৬৬/৫১১/১০৯ ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

উল্লেখ ২০১৭ সালের ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দঃ বিঃ ১৬৬/১০৯, ৪০৯/৫১১/১০৯ ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা/১০৯ ধারায় হাওরে বাধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৫ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিস্ট ৪৬ ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। সুনামগঞ্জ সদর থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। মামলার পর পরই ওইদিন সুনামগঞ্জের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (বরখাস্ত) মো. আফসার উদ্দিনসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে দুদক।

গত বছরের মার্চের শেষ দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তলিয়ে যায়। দুর্বল ও অসমাপ্ত বাঁধ ভেঙে প্লাবন ও ফসলহানির পেছনে বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিকে দায়ী করে ঢাকায় মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশও হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেইসময়ের তথ্য অনুযায়ী হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতির শিকার হয় ৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি পরিবার। এই প্রেক্ষাপটে হাওর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। তারা ওই এলাকায় গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্ত চলার মধ্যেই সিলেটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর-পূর্বাঞ্চল) মো. আব্দুল হাই এবং সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত বছরের ৪ মে পাউবোর মহাপরিচালকসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই সংস্থার প্রচন্ড গাফিলতির প্রমাণ তারা পেয়েছেন।

চার্জশিটে যাদের বাদ দেয়া হয়েছে

আসামিদের মধ্যে চার্জশিটে যাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে তারা হলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ, মো. নূরুল ইসলাম সরকার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিলেট পওর সার্কেল, মো. আবদুল হাই, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দিপক রঞ্জন দাস, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, সুনামগঞ্জ, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. বরকত উল্লাহ এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া চার্যশিটে মামলার আসামি ৪৬ জন ঠিকাদারের মধ্যে যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, খন্দকার শাহিন আহমেদ, প্রো., মেসার্স খন্দকার শাহিন আহমেদ, মো. জিল্লুর রহমান, প্রো., মাহিন কন্সট্রাকশন,সজিব রঞ্জন দাস, প্রো., সজিব রঞ্চন দাস, হান্নান আহমেদ, প্রো. মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজ, খাইরুল হুদা চপল,প্রোঃ, মেসার্স নুর ট্রেডিং,কামাল হোসেন, কাজি নাছিমুদ্দিন, খন্দকার আলী হায়দার, মো. আকবর আলী, প্রোঃ, মেসার্স আকবর আলী,মোঃ রবিউল আলম, প্রোঃ, আমিন অ্যান্ড কোং. মো. আবুল হোসেন, প্রো., মেসার্স বোনাস ইন্টারন্যাশনাল, শিবব্রত বসু, প্রো., মেসার্স বসু নির্মাণ সংস্থা, মোজাম্মেল হক মুন, প্রো., মেসার্স হাছান এন্টার প্রাইজ, মো. বাচ্চু মিয়া, প্রো., মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্স এন্ড মোঃ শামিম আহসান, ,বিপ্রেশ তালুকদার বাপ্পি, প্রো., মেসার্স মালতী এন্টারপ্রাইজ, মো. জামিল ইকবাল, প্রো., মেসার্স মো. জামিল ইকবাল, চিন্ময় কান্তি দাস, প্রো., মেসার্স নিম্মি এন্ড মুমু,নিয়াজ আহমেদ খান, প্রোঃ, মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স, খান মো. ওয়াহিদ রনি, প্রোঃ, মেসার্স আর আর ট্রেডিং, মো. আতিকুর রহমান, প্রোঃ, আতিকুর রহমান,,মো. খাইরুজ্জামান, প্রোঃ, মোঃ কামরুজ্জামান কন্সট্রাকশন কোং লিঃ, মোঃ মফিজুল হক, মোঃ মোখলেছুর রহমা?,মো. রেণু মিয়া, প্রো. মেসার্স রেনু মিয়া, মো. শাহরিন হক মালিক, মো. শামসুর রহমান, আবদুল মান্নান, প্রো., মেসার্স মিম কন্সট্রাকশন, মোকসুদ আহমেদ, মো. মাহতাব চৌধুরী, প্রো., মেসার্স রাজেন কন্সট্রাকশন, লুৎফুল করিম, প্রো., সোহেল কন্সট্রাকশন, হাজি মো. কেফায়েতুল্লা, প্রো., সৈকত কন্সট্রাকশন, হুমায়ন কবির, প্রো., টেকবি ইন্টারন্যাশনাল।