menu

নাগরিক তথ্য নিবন্ধনে ডিএমপির অ্যাপ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজধানীর বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের তথ্য নিবন্ধনের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিআইএমএস) মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। গতকাল সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এর উদ্বোধন করেন বিদায়ী পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, এখন মোবাইল ফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করে যে কেউ তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এটি ছাড়াও ম্যানুয়ালিও আমাদের কার্যক্রম চলবে। আপাতত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমচালিত মোবাইল ফোনে গুগল প্লে স্টোর থেকে সিআইএমএস অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। শীঘ্রই অ্যাপল স্টোরেও মিলবে এই অ্যাপ। নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রথম রমনা থানা থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক সিআইএমএস তথ্যভান্ডার উদ্বোধন করেছিলেন আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল তিনি বলেন, বর্তমানে ৭২ লাখের বেশি নাগরিকের সিআইএমএস ডেটাবেজ পুলিশের সংগ্রহে আছে। অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করলে পুলিশের কাজ অনেক কমবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গুগল প্লে স্টোরে সিআইএমএস ডিএমপি লিখে সার্চ দিয়ে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। সেখানে নাগরিকের মোবাইল নম্বর দিলে একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে। ওই ভেরিফিকেশন কোড দিয়ে লগ ইন করা যাবে। নাগরিক তখন তার সব ডেটা দিয়ে সাবমিট করলে একজন অফিসার ভিউতে ওকে করলে ওই নাগরিকের ডেটা দেখতে পারবেন। নাগরিকের দেয়া তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে তা তার ইমেইল ঠিকানায় তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে। অ্যাপের পাশাপাশি আগের মতো নির্ধারিত ফরমেও নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণ করার পর ঢাকায় কোন বড় জঙ্গি আস্তানা গড়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ সাধারণ অপরাধও কমেছে। আমরা যখন নাগরিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করি, তখন থেকে সাধারণ অপরাধ কমা শুরু করেছে। এমনকি হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর নগরীতে বড় কোন জঙ্গি আস্তানা গড়ে ওঠেনি। এই পদ্ধতি জঙ্গি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিট পুলিশিং সিস্টেম চালু করি। কমিউনিটিকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিটিং পুলিশিং শুরু করেছি। আমরা উঠান বৈঠক করেছি। এভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করেছি। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি তামিম চৌধুরীর আস্তানা থেকে একটি এসএমএস পাওয়া গিয়েছিল বলে পরবর্তী সময়ে মিরপুরে একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়।

ডেটাবেজ তৈরির শুরু কথা মনে করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২০১৫ সালে আমাদের ডিবি বাড্ডায় অভিযানে যায়। তখন তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনার পর আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাই। তিনি আমাকে বলেন, ঢাকা শহরকে নিরাপদ করতে চাইলে একটি ডেটাভা-ার তৈরি করা দরকার। তিনি নাগরিকদের একটা ডেটাবেজ তৈরি করতে বলেন। এরপর আমরা কাজ শুরু করি। অন্য কোন প্রতিষ্ঠান হলে ১০০ কোটি টাকা বাজেট হতো। কিন্তু আমরা কোন বাজেট নিইনি। আমরা নিজেদের অর্থায়নে এ কাজ করেছি।

যেভাবে ম্যানুয়াল নিবন্ধন : ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্ধারিত নিবন্ধন ফরম প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িতে পাওয়া যায়। নাগরিকরা সেখান থেকে ফরম নিয়ে সেটি যথাযথভাবে পূরণ করে থানায় জমা দিতে পারেন। জমা দেয়ার আগে ফরমের ফটোকপি নিজের কাছে রেখে দেয়া উত্তম। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এলাকাকে পাঁচ থেকে সাতটি বিটে ভাগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ডিএমপির ৫০টি থানায় মোট ৩০২টি বিট রয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকার একটি করে বিট নম্বর রয়েছে। নির্দিষ্ট বিটের নাগরিকদের অধিকতর পুলিশি সেবা দিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই, এএসআইসহ বেশ কয়েক পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

সব বিট কর্মকর্তার একটি সরকারি মোবাইল নম্বর আছে। নাগরিকরা প্রয়োজনে বিট অফিসারের সঙ্গে ওই ফোনে কল করে সেবা নিতে পারেন। প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। কোন নাগরিক ঠিকানা পরিবর্তন করলে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়ে নতুন যে থানা এলাকায় বসবাস করবেন, ওই থানায় যোগাযোগ করে নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। কোন ব্যক্তির কর্মক্ষেত্র অন্য থানা এলাকায় হলে তিনি যে এলাকায় বসবাস করেন, ওই থানায় নিবন্ধন করা উত্তম।

নিবন্ধনে বাড়ি মালিকদের সুবিধা : কোন অপরাধী ওই বাড়িতে অবস্থান করতে পারবে না। ভাড়াটিয়ার কোন অপরাধে বাড়ির মালিককে হয়রানির শিকার হতে হবে না। বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াকে নিবন্ধনের সব তথ্য পূরণ করে দিতে বলা মাত্রই অপরাধী হলে ফরম পূরণে গড়িমসি করবে। অপরাধী হলে ফরম পূরণ না করে পরের মাসেই চলে যাবে। কোন অপরাধী সব তথ্য লিখিতভাবে পুলিশের কাছে জমা দিয়ে অপরাধ করতে সাহস বোধ করবে না। বাড়ি মালিকের সঙ্গে বিট অফিসারের ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকায় যে কোন আইনগত বিষয়ে প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করা সম্ভব। বাড়ির মালিক তার ভাড়াটিয়ার নিবন্ধন ফরমটি পুলিশের কাছে দিলে অপরাধীদের দায় তার ওপর বর্তাবে না।

নিবন্ধনে ভাড়াটিয়ার সুবিধা : সংশ্লিষ্ট থানার বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া সম্ভব। কোন শক্রপক্ষ দেশের যে কোন থানায় মিথ্যা মামলা করলে ওই ব্যক্তির ঢাকায় অবস্থান দ্বারা ঘটনাটি মিথ্যা প্রমাণ করা যেতে পারে। বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচয় থাকায় গভীর রাতে ঢাকা শহরে চলাফেরায় অহেতুক পুলিশের হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম থানায় জমা থাকলে সফওয়্যারভিত্তিক ডেটাবেজ সংরক্ষণ করার ফলে একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তির পরিচিতি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচয় থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় আইনগত সেবা নেয়া সম্ভব।