menu

দেশে ২৪ ঘণ্টায়

নতুন শনাক্ত ৫৪ মৃত্যু ৩ জন

মোট আক্রান্ত ২১৮ মৃত্যু ২০ সুস্থ ৩৩

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৮ জনে। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। এছাড়া শনাক্ত ৫৪ জনের মধ্যে ৩৯ জনই ঢাকার নাগরিক। অন্যদিকে, ১৫ জন রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকার। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরে ৫৬৩টি ও দেশের অন্য ল্যাবরেটরিতে ৪২৫টি মিলিয়ে মোট ৯৮৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তন্মধ্যে ৯৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৫৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন এবং নারী ২১ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২১৮ জনে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২০ জনে। নতুন করে কেউ সুস্থ হননি। ফলে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩৩-ই আছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বছর বয়সী ১০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৭ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১০ জন। নতুন শনাক্ত ৫৪ জনের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক রাজধানী ঢাকায় ৩৯ জন।

বুলেটিনে অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা জানান, নতুন করে এই মুহূর্তে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৩৭ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৩৯ জন, মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ১০ হাজার ১৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৬ জনকে। এছাড়া এখন পর্যন্ত মোট ১১১ জনকে আইসোলেশেনে নেয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ৪২ জনকে। তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সম্ভাব্য রোগীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা মহানগরে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে মোট ১ হাজার ৫৫০টি।

ঢাকা মহানগরের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ১৪৩টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে মোট ৭ হাজার ৬৯৩টি। শয্যার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ানো হচ্ছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমেও এগুলো করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সরকারি স্থাপনাগুলোকেও নতুন করে আইসোলেশন শয্যা হিসেবে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে সানিয়া তাহমিনা বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা পিসিআর পরীক্ষা করছি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ১৬টি জায়গায় পরীক্ষা করছি। আর এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৯১ হাজার ২৯২টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সংগ্রহ করেছি। যার মধ্যে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৪টি বিতরণ করা হয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের মজুদ আছে ২ লাখ ২০ হাজার ৫১৮টি পিপিই। প্রথমে একটু সমস্যা ছিল, এখন আমরা বেশি করে দিচ্ছি সব জায়গায়।

পরীক্ষার কিটের বিষয়ে তিনি বলেন,২১ হাজার করোনা পরীক্ষার কিট ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ৯২ হাজার আমাদের সংগ্রহে আছে। ২১ হাজার কিট যখনই শেষ হয়ে যাবে, আমাদের মজুত ৭১ হাজার থেকে দেব। সব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যা আছে মোট ১১২টি। প্রত্যেকটি আইসিইউর সঙ্গে ভেন্টিলেটর থাকে। কোন কোন হাসপাতালে এর সঙ্গে ডায়ালাইসিস শয্যাও আছে। এরকম আছে ৪০টি। আমরা মনে করি, এটা আরও বাড়ানো দরকার। প্রতি মুহূর্তে এটা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৪ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ৮২ হাজারের বেশি মানুষ। তবে তিন লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকে প্রায় নিয়মিত কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর দিচ্ছিল আইইডিসিআর। সর্বশেষ হিসাবে দেশে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা ২১৮। মারা গেছেন ২০ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৩ জন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা।