menu

খাগড়াছড়িতে

ধর্ষণের শিকার আদিবাসী কিশোরীর মৃত্যু

চট্টগ্রামে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

থামছে না ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত ঘটনা। এক আদিবাসী কিশোরীসহ আরও তিনজন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। খাগড়াছড়িতে আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের পর মারা গেছে। অন্য দুটি ঘটনায় চট্টগ্রামে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে শিক্ষক ও রূপগঞ্জে লম্পট প্রেমিক স্কুলপড়ুয়া প্রেমিকাকে ধর্ষণ করেছে। তিনটি ঘটনায় থানায় মামলা ও ধর্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিনিধিরা এ খবর জানান।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ফয়জুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল ভোরে বাঁশখালীর মনকিরচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান র‌্যাব ৭-এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশকুর রহমান।

এদিকে মো. ফয়জুল্লাহকে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে উল্লেখ করে র‌্যাব ৭-এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশকুর রহমান বলেন, গত ২৪ এপ্রিল ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ করে মো. ফয়জুল্লাহ। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হলে পলাতক ছিল সে। গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন। সে বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নের মাওলানা আবুল কাশেমের ছেলে।

পার্বত্য অঞ্চল প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় ধর্ষণের শিকার কিশোরী ধনিতা ত্রিপুরার (১৭) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেজনক তিন ধর্ষককে আটক করেছে। তারা হলো রুমেন ত্রিপুরা (২২), কিরণ ত্রিপুরা (২০) ও কমল ত্রিপুরা (১৯)। গত সোমবার রাতে কোন এক সময় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়ার বড়পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার বড়পাড়ার বাসিন্দা মনমোহন ত্রিপুরা তার স্ত্রীকে নিয়ে জেলার দীঘিনালায় বেড়াতে যান। রাতে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও ফিরতে পারেননি। এ অবস্থায় কিশোরী ধনিতা ত্রিপুরা বাসায় একা ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা খুলে বিছানার ওপর ধনিতার লাশ দেখতে পায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন যুবককে স্থানীয়রা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। কীভাবে ধনিতার মৃত্যু হয়েছে, সেটি পুলিশ খুঁজে বের করছে।

খাগড়াপুর মহিলা সমিতির সভাপতি শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, ধর্ষকদের যথাপোযুক্ত বিচার না হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ধনিতা ত্রিপুরার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরার কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণে ফলে কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সন্দেজনক তিন ধর্ষককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহউদ্দিন জানান, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রূপগঞ্জে প্রেমিকাকে ধর্ষণ

প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) জানায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা রসুলপুর এলাকায় মায়ের অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ডেকে নিয়ে লম্পট প্রেমিক তার স্কুলপড়ুয়া প্রেমিকাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রসুলপুর এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে ধর্ষিত স্কুলছাত্রী রূপগঞ্জ থানায় মামলা করে। এরপর ধর্ষক রনিসহ তার দুই সহযোগী হৃদয় ও রাসেল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছে।

রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল সিদ্দিকী ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর বরাত দিয়ে জানান, চার বছর আগে রূপগঞ্জের বরপা রসুলপুর এলাকার এ/পি খান ডাক্তার বাড়ির ভাড়াটিয়া কাজল মিয়ার ছেলে মো. রনি মিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৮ মে বিকালে রনি মিয়া মুঠোফোনে তাকে জানায়, মা গুরুতর অসুস্থ। তাকে দেখতে এসো। অসুস্থতার খবরে ওই ছাত্রী রাজধানী ঢাকার লালবাগ থানার ভাগালপুর লেনের বাসা থেকে সিএনজিযোগে এসে রনির সঙ্গে দেখা করে। একপর্যায়ে রনি সুকৌশলে তাকে তার মায়ের কাছে না নিয়ে রসুলপুর এলাকার খান ডাক্তার বাড়ির নিচতলার রুমে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় রনির দুই বন্ধু একই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে হৃদয় ও রাসেল বাইরে পাহারায় ছিল।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদ হাসান বলেন, আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।