menu

সিরাজগঞ্জ

ধর্ষণ মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, সিরাজগঞ্জ
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত ছয়জন হলেন- উপজেলার দরগার চর নতুন পাড়া গ্রামের ইমান আলীর পুত্র তোতা মিয়া (২৭), দ্বারিয়াপুর গ্রামের লালচান মিয়ার পুত্র আলহাজ (২৮), দ্বারিয়াপুর গ্রামের আবদুল আজিজের পুত্র আলমগীর (৩২), নলুয়া গ্রামের আবদুর রহমানের পুত্র বুলবুল (৩০), পুকুর পাড় গ্রামের হোসেন আলীর পুত্র জুয়েল রানা (২২) ও দ্বারিয়াপুর নতুন পাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে রতন (২৩)। স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ লাভলু এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শাহজাদপুর উপজেলার দরগার চর গ্রামের ফরিদ সরকারের স্ত্রী মোছা. নাজমা খাতুন (২৫) বাবা-মার সঙ্গে একই এলাকার মাসুম বিল্লার বাড়িতে ওরস শুনতে যান। রাতে ওরস শেষে বাড়ি ফেরার সময় ভুল করে ঘরের চাবি বাবার কাছে রেখে এসেছিলেন নাজমা। পরে স্বামী ফরিদকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে চাবির আনতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তোতা, আলহাজ, আলমগীর, বুলবুল, জুয়েল রানা ও রতন মিলে নাজমা ও তার স্বামী ফরিদকে আটক করে। একপর্যায়ে তারা ফরিদকে মারপিট করে তাড়িয়ে দিয়ে নাজমাকে গণধর্ষণ করে। এ অবস্থায় গ্রামের লোকজন টের পেয়ে এগিয়ে এসে রাতেই তাদের উদ্ধার করে এবং ধর্ষক তোতা ও আলহাজকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় নাজমা নিজেই বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গ্রামবাসীর সহায়তায় বাকি আসামিদেরও গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শুনানি শেষে মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ লাভলু ও একই আদালতের অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আনোয়ার পারভেজ লিমন। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট গোলাম হায়দার।