menu

দশটি ইউটিউব চ্যানেল রোহিঙ্গা শিবিরে চালাচ্ছে অপপ্রচার

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কক্সবাজার, উখিয়া ক্যাম্প থেকে ফিরে
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

১০টি ইউটিউব চ্যানেল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেশবিরোধী অপ্রপচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের মধ্যে এসব টিভি চ্যানেলের এক ধরনের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে জনপ্রিয় যে অনলাইন টিভিগুলোর নাম জানা গেছে, এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা পিস টিভি, রোহিঙ্গা নিউজ, আরাকান টিভি, আরাকান আর ভিশন, আরাকান টাইমস, রোহিঙ্গা নিউজ, আরাকান টাইম টুডে, রোহিঙ্গা টিভি, আরাকান নুর, এএনএ টিভি অন্যতম। এসব টিভিতে খবর ও অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় রোহিঙ্গা ভাষায়। সরাসরি ওয়েবসাইটে গিয়ে অথবা ইউটিউবে এসব চ্যানেল দেখা যায় এছাড়া অনেক টিভিরই ফেসবুক পেজ রয়েছে। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব চ্যানেল পরিচালিত হয়। আর রোহিঙ্গা শিবির থেকে এসব চ্যানেলের জন্য ফুটেজ পাঠানো হয়। এসব ফুটেজ আবার বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে শেয়ার করে রোহিঙ্গারা। এসব ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রবাসী রোহিঙ্গা ও শিবিরে থাকা কতিপয় যুবক। রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

রোহিঙ্গাদের অনলাইনভিত্তিক কিছু চ্যানেলের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিবিরে সাড়ে ৫ লাখ লোকের হাতে মুঠোফোন থাকার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি রোহিঙ্গা শিবিরে ১৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়। এ নিয়ে রোহিঙ্গারা জানান, এসব চ্যানেলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের নানা খবর, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা রোহিঙ্গাদের তথ্য, বিভিন্ন ইস্যুতে মায়ানমারের মিথ্যাচার, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচারের জবাবসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ২য় বার্ষিকীতে উখিয়ায় বড় সমাবেশের খবর গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হয়েছে। ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কী কারণে সফল হয়নি, তা নিয়ে প্রচারিত অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রতিটি খবরেই মূলত রোহিঙ্গাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা ও কোর অবস্থাতেই শর্ত না মানলে মায়ানমার না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন টিভি প্রসঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সংগঠনের সভাপতি দাবিদার মুহিব উল্লাহ বলেন, আশ্রয় শিবিরে স্বদেশের খবরাখবর দেখার সুযোগ নেই। তবে কিছু শিবিরের ভেতরে ডিশ অ্যান্টেনার মাধ্যমে টিভিতে বাংলা ভাষায় খবর ও বাংলা সিনেমা দেখে রোহিঙ্গারা। বাংলা খবর বুঝতে সমস্যা হওয়ায় প্রবাসী কয়েক রোহিঙ্গা আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় একাধিক অনলাইন টিভি চালু করেছে।