menu

সংক্রমণের ৯ মাস পর

দশ জেলায় করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০

দেশে করোনা সংক্রমণের প্রায় ৯ মাস পর ১০ জেলায় শুরু হয়েছে করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। বিনামূল্যে করোনা অ্যান্টিজেন পরীক্ষার এ কার্যক্রম গতকাল সকালে শুরু হয়। জুম অ্যাপের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

যে ১০ জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়েছে সেগুলো হলো- সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, মুন্সীগঞ্জ, জয়পুরহাট, যশোর, মেহেরপুর, পটুয়াখালী ও মাদারীপুর। অ্যান্টিজেন টেস্টের জন্য দশ জেলার চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও পরিসংখ্যানবিদদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর)। কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কি না, সেটি অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই পরীক্ষায় ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফল জানা যায়।

রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন বা আরটি-পিসিআর পদ্ধতি সংক্রমণ শনাক্তে বিশ্বে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের প্রথম থেকেই এই পদ্ধতিতেই পরীক্ষা হয়ে আসছে। এই পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহের পর ফল পেতে বেশ সময় লেগে যায়, খরচও বেশি। সব জায়গায় এ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরিও নেই। এ কারণেই সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী অ্যান্টিজেন পরীক্ষার উদ্যোগ। এই পরীক্ষার জন্যও নাক বা মুখ গহ্বর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অ্যান্টিজেন পরীক্ষার কার্যক্রম উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের সব জেলাতে আরটিপিসিআর টেস্ট করার সুযোগ নেই, ল্যাব নেই। কারণ আরটিপিসিআরের জন্য বায়োসেফটি ল্যাব প্রয়োজন হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অনেক সময়সাপেক্ষ বিষয়। তাই যেখানে পিসিআর ল্যাব নেই, সেখানে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে আর অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল খুব সহজে পাওয়া যাবে। এসব জেলার মানুষ সুবিধা পাবে। অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যসেবা সচিব আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রান্তিক জেলা বিশেষ করে যেখানে আরটিপিসিআর পরীক্ষার সুযোগ নেই, সেসব জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। সন্দেহভাজন করোনা রোগী, যাদের করোনার উপসর্গ রয়েছে, শুধু তাদেরই অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হচ্ছে। এই পরীক্ষার জন্য সরকার এখনও কোন ফি নির্ধারণ করেনি। জেলা সদর হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হচ্ছে।

সিলেটে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্টের শুরুতেই বিপত্তি

সিলেট থেকে দৈনিক সংবাদ-এর বিশেষ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সিলেটে করোনাভাইরাস শনাক্তে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর দিনেই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানও ব্যাহত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সকাল থেকে সিলেটের শামসুদ্দিন হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। সকালে নগরের চৌহাট্টা এলাকার হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো নমুনা প্রদানের ভিড় নেই। মাঝেমাঝে দু’একজন এসে নমুনা জমা দিচ্ছেন। রোগীদের মুখ থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

গতকাল সব মিলিয়ে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এসব নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। বিকেলের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার কথা।

অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে তাদের নমুনা পুনরায় পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তবে ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নেগেটিভ আসা রোগীদের রিপোর্ট এখনই দেয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুপান্ত মহাপাত্র বলেন, গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করেন। সাড়ে ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে আধাঘণ্টার মধ্যে আমরা কেউ আক্রান্ত কী-না, তা জানতে পারব। যাদের শরীরে ৩ দিন ধরে করোনার উপসর্গ (জ্বর, সর্দি, কাঁশি) আছে, তাদের অ্যান্টিজেন টেস্টের আওতায় আনা হবে। উপসর্গ না থাকলে নমুনা পরীক্ষা হবে আরটি-পিসিআর ল্যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অ্যান্টিজেন টেস্টের জন্য আমরা ন্যাসাল সোয়াব (নাকের ভেতর থেকে নমুনা) নেব। প্রত্যেকের দুটি করে স্যাম্পল নেয়া হবে। অ্যান্টিজেন টেস্টে কেউ পজেটিভ হলে তাকে জানিয়ে দেয়া হবে। আর কেউ নেগেটিভ হলে অধিকতর নিশ্চিতের জন্য আরেকটি নমুনা পরীক্ষা করা হবে আরটি-পিসিআর ল্যাবে।’

পটুয়াখালীতেও অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু

দৈনিক সংবাদের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে গতকাল থেকে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে একটি স্ট্রিপের মাধ্যমে রোগীর নমুনা পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে। এর ফলে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুর মতিন জানান, গত বৃস্পতিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষার কিট পৌঁছেছে। করোনাভাইরাস শনাক্তের অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্ট সম্পন্নের লক্ষ্যে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা প্রশিক্ষিত ডাক্তারের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তার, নার্স, প্যার্থলজিস্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এটি উদ্বোধনের পর গত দুই ঘণ্টায় এ হাসপাতালে মোট ৮টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০টি করোনাভাইরাস শনাক্তের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করার ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় যে ফলাফল ‘ফলস’ হবে সেসব নমুনা পুনরায় পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এই টেস্টের ফলে বরিশাল ও ঢাকার আরটিপিসিআর ল্যাবের ওপর থেকে চাপ অনেক কমে আসবে বলে তিনি জানান।