menu

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচল বন্ধ আটকে গেলেন পর্যটকরা

সংবাদ :
  • জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার
  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩নং সতর্ক সংকেত থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার স্বাক্ষরিত নোটিশে এ নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে, আবহাওয়াজনিত কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে অনেক পর্যটক আটকে আছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিব উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে টেকনাফ ফেরেনি। হঠাৎ বৈরি আবহাওয়ায় জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আটকে গেছেন। তবে, প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বলেও জানান ইউপি সদস্য হাবিব।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের আবাসিক কটেজ সী প্রবালের মালিক সংবাদকর্মী আবদুল মালেক জানান, ৮ থেকে ১১ নভেম্বর এ ৪ দিন তার কটেজ বুকিং ছিল। ইতোমধ্যে অনেক পর্যটক সেন্টমার্টিন গিয়ে পৌঁছেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে হঠাৎ সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে চলাচলকারী দ্য আটলান্টিক ক্রুজের কক্সবাজার অফিস ইনচার্জ নাসির উদ্দিন জানান, সমুদ্রে ৩নং সতর্ক সংকেত থাকায় ৮ নভেম্বর হতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলবে না। এ সংক্রান্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে যথারীতি জাহাজ চলাচল শুরু হবে বলে তিনি জানান।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, সাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। যার কারণে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর কারনে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় ৮ নভেম্বর সকাল থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষ ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও টলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলা হয়েছে।

এনিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছেন প্রায় এক হাজার ২০০ পর্যটক। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জরুরি বৈঠক চলছে। বৈঠকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সেন্টমার্টিন পুলিশ জানায়, আটকে পড়া পর্যটকরা দ্বীপের ১০৬টি হোটেল-মোটেল ও কটেজে অবস্থান করছে। তাদেরকে প্রশাসনিক ভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা গন্তব্যে ফিরতে পারবেন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্র পথে বর্তমানে কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, দ্যা আটলান্টিক, এমভি ফারহান চলছে। অনুমতি পেলও বাকি ২টি জাহাজ এখনও ঘাটে ভিড়েনি।