menu

জঙ্গি হামলা ও নাশকতার আশঙ্কায় ঈদ ঘিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশজুড়ে নিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের ৪৩৩টি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের (কেপিআই) নিরাপত্তায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে এক লাখেরও বেশি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। ঈদ উপলক্ষে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির টাগের্ট নিয়ে জঙ্গি হামলার শঙ্কায় মসজিদের প্রধান গেটসহ চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। নিরাপত্তার জন্য রাজধানীতে জাতীয় মসজিদসহ যে সব মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে সেসব মসজিদের গেটে তল্লাশি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামরা, বোম ডিজপোজাল যন্ত্র ও বিষ্ফোরক শনাক্ত করার যন্ত্রসহ নিরাপত্তার সব সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে। এজন্য পুলিশ ও র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে ঈদুল আজহা সামনে রেখে জঙ্গিরা ধ্বংসাত্মকমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। সদস্যরা। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়ে পুলিশের সব ইউনিটকে প্রস্তুত থাকতে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (অপারেশনস-১) সাইদ তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশের সব ইউনিটকে জানানো হয়েছে।

পুলিশের যেকোন টিম, স্থাপনা বা যানবাহন, বিমানবন্দর, তিন দেশের দূতাবাস ভবন বা দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট বিশেষ ব্যক্তি অথবা শিয়া-আহমদিয়া উপাসনালয়, মাজারকেন্দ্রিক মসজিদ, চার্চ, প্যাগোডা, মন্দিরগুলোকে টার্গেট করা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে দিন-তারিখ উল্লেখ না থাকলেও সকাল ৬টা থেকে ৭টা অথবা সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০টার দিকে হামলা হতে পারে বলে বলা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয়-বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনায় জানা গেছে, তথাকথিত আইএস আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণত বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমেই বেঙ্গল উলায়াত ঘোষণা করা হয়।

নিরাপত্তার কথা জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থী বা তাদের সংগঠনের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি, পুলিশের সবাইকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা, পুলিশের গাড়ি-স্থাপনা খালি বা পরিত্যক্তভাবে ফেলে না রাখা, পুলিশের ভবনগুলোতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ও পরিচয় নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা, চেকপোস্টে তল্লাশি বাড়ানো, সন্দেহ হলে ব্যাগ-দেহ তল্লাশি করা, সন্দেহজনক এলাকায় ব্লকরেইড করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেয়া হলো।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আজ থেকে জাতীয় মসজিদের নিরাপত্তায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সিসি টিভি স্থাপন করা হয়েছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ঈদের জামায়াতে যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা এড়াতে র‌্যাবের আগাম গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ জাতীয় মসজিদে এবং এর আশপাশে সার্বক্ষণিক টহল দিবে। র‌্যাবের প্রতিটি ক্যাম্প ব্যাটালিয়ন এবং সদর দফতর থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

র‌্যাব সূত্র জানান, ঈদের প্রধান জামাত হবে জাতীয় মসজিদে। এখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করবেন। মসজিদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম ডিস্পোজাল ইউনিট থাকবে। এখানে সাদা পোশাকেও র‌্যাব-পুলিশ থাকবে। এ ছাড়াও র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স থাকবে। ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ হবে। এসব স্থানেও স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা নিরাপত্তা দেবে।

এদিকে ঈদের ছুটিতে মতিঝিল ব্যাংকপাড়াসহ বাসাবাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। আজ থেকে এই নিরাপত্তা দেয়া শুরু হবে। অফিস ছুটি শেষ না পর্যন্ত এই নিরাপত্তা থাকবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্র জানায়,ঈদের ছুটিতে ব্যাংকপাড়াসহ বিভিন্ন অফিস আদালত বন্ধ থাকে। ব্যাংকের নিজস্ব সিকিউরিটি থাকে। আর বহু মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি যান। এই সময় ঢাকা শহর ফাঁকা হয়ে যায়। অনেকেই বাসাবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি যায়। যেকোন সময় সংঘবদ্ধ অপরাধীরা চুরি ডাকাতি করতে পারে। এর আগে বিভিন্ন সময় ঈদের ছুটিতে স্বর্ণের দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটছে। এর জন্য এইবার আগ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ছুটির সময় যাতে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটেনা না ঘটে তার জন্য বাড়তি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মতিঝিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশের সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান নিবে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও দেশ ও জনগণের সর্বোচ্চ সুরক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ন্যুনতম কোন আশঙ্কার সুযোগ আমরা রাখতে চাই না। অতীতে উৎসব বা উপলক্ষ কেন্দ্রিক হামলা আমরা দেখেছি। তাই, নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি এবং এর অংশ হিসেবে আমরা সব উৎসব এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আগে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশনা দিয়ে থাকি। এবারও তেমনটি করা হয়েছে।