menu

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ছাত্রলীগের খুন, নির্যাতন নৃশংসতার কাহিনী

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯
image

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ছাত্রলীগের বিভিন্ন শাখার নেতাদের বিরুদ্ধে পূর্বের পাঁচটি অভিযোগের ঘটনা তুলে ধরে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তাদের কর্মীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন ও নির্যাতনের অনেক ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার বার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। যারা এ রকম ঘটনার শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ যেমন আছেন, তেমনি নিজের দলের অনেক নেতাকর্মীও রয়েছেন। গণমাধ্যমে সমালোচনা-বিতর্কের ঝড় উঠলেও এসব ঘটনায় দায়ীদের খুব কম ক্ষেত্রেই বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতারা নিজেদের সব আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করেন কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে বার বার। আওয়ামী লীগের নেতারাও এখনও প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন যে ছাত্রলীগের বেপরোয়া কাজকর্মে তারাও বিব্রত।

সম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর পাঁচটি ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয় :

১. ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় চোখ জখম

গত বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকের ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এহসান রফিক নিজের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রলীগের এক নেতাকে একটি ক্যালকুলেটর ধার দিয়েছিলেন। সেটি ফেরত চাইলে শুরুতে কথা-কাটাকাটি হয়।

এ ঘটনার জেরে পরে তাকে হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এহসান রফিকের একটি চোখের কর্নিয়া গুরুতর জখম হয়েছিল। তার সে ফুলে ওঠা চোখ আর কালসিটে পড়া চেহারাসহ ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরের দিকে তিনি চোখের দৃষ্টি প্রায় হারিয়ে ফেলছিলেন। চোখে অস্ত্রোপচারের দরকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় একজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

২. সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে দিনে-দুপুরে খুন হন ওই এলাকার একটি দর্জি দোকানের কর্মী বিশ্বজিৎ দাস। সেদিন বিএনপির- নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলছিল। ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে তাদের একটি মিছিল পৌঁছালে সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হয় মিছিলটি। সেখানে ছিলেন পথচারী বিশ্বজিৎ দাস। ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা তাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল সংবাদমাধ্যমের অনেকগুলো ক্যামেরার সামনেই। সে সময় তাকে নির্মমভাবে হত্যার দৃশ্য, রক্তাক্ত শার্ট পরা বিশ্বজিতের নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টার ছবিসহ খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ওই ঘটনার মামলার রায় দেয়। যাতে ২১ জনের মধ্যে আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা দেয় হয়েছিল। তবে বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে।

৩. জুবায়ের হত্যাকাণ্ড : নিজের দলের কর্মীকেই হত্যা

ওই একই বছরের শুরুর দিকের ঘটনা ছিল জুবায়ের হত্যাকাণ্ড। জুবায়ের আহমেদ ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র। তিনি নিজেও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মধ্যে অন্তঃকলহের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তিনি মারা যান।

জুবায়ের আহমেদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সময় ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। আন্দোলনের চাপে সে সময়কার উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই ঘটনায় মামলা আপিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। গত বছর পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।

৪. দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত মরদেহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন দিয়াজ ইরফান চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। প্রথম দিকে তাকে হত্যা করার আলামত ময়নাতদন্তে প্রতিবেদনে মেলেনি। তার বাবার করা নতুন হত্যা মামলায় তার মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। যাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

দিয়াজের মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয় ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর। দুইদিন পর পুলিশ জানায়, তাকে হত্যা করার আলামত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মেলেনি। ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী একাই ব্যানার পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকবার। মামলাটি এখনও সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

৫. এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আগুন

আবারও ২০১২ সালেরই একটি ঘটনা। সিলেটে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল। যাতে পুড়ে গিয়েছিল ছাত্রাবাসের ৪০টির বেশি কক্ষ। সেদিন ছাত্রশিবিরের কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছিল।

ঘটনার পাঁচ বছর পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। যাতে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের জের ধরে ছাত্রলীগের কর্মীরাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ওই ছাত্রলীগ কর্মীদের অবশ্য তার আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়। সেগুলো বিচারাধীন রয়েছে।

  • আবরার হত্যা

    বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

    newsimage

    পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন-সমাবেশে মিলিত হয়। আধা ঘণ্টাব্যপী ওই কর্মসূচিতে নোবিপ্রবির বিশ্ববিদ্যালয়, মহিলা

  • আবরাবের দাফন

    ‘আমার বেটা লাখে একটাও হয় না রে...’

    কুষ্টিয়ায় শোকের মাতম

    কুষ্টিয়ায় নিজ গ্রাম কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে আবরারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে আবরার ফাহাদের

  • কারও সঙ্গে তর্কও করত না আবরার

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিহত আবরার ফাহাদ শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। সেখান থেকে ডেকে নিয়ে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পেটানো হয় তাকে। পরে হলের

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের ঝড়

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে

  • বিশ্ব গণমাধ্যমে আবরার হত্যা

    বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। এ ঘটনা বিশ্বগণমাধ্যমেও

  • ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত রোববার রাতে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। আবরারের এমন মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান সবাই। আবরারের এমন নৃশংস

  • যেভাবে খুন করা হয় আবরারকে

    গত রোববার ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী রাত ৮টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত ২টা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা বলছেন, ২০১১ নম্বর রুমে

  • আবরার হত্যায় গ্রেফতার ১৩

    আরও ৫ জনকে ধরতে অভিযান চলছে

    প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবরার আহমেদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যায় জড়িত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয় সোমবার। ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়

  • ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

    বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষৃণা প্রকাশ করছে। গতকাল সারাদেশে সাধারণ পানের দোকান থেকে শুরু করে সব মহলে আলোচনার বিষয় ছিল আবরার

  • মহাবিশ্বের গঠন নিয়ে নতুন পাঠ

    পদার্থবিদ্যায় তিন বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

    newsimage

    মহাবিশ্বের গঠন ও ক্রমবিকাশের পাঠে নতুন আলোর সঞ্চার করার পাশাপাশি সৌরজগতের বাইরে সূর্যের মতো নক্ষত্র ঘিরে আবর্তনরত প্রথম গ্রহ আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে চলতি বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের