menu

পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ

গ্রেফতার ৩ জন রিমান্ডে

আইএস-এর দায় স্বীকার ভিত্তিহীন গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার খুনি

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

রাজধানীর পল্লবীতে অস্ত্র ও বোমাসহ গ্রেফতার হওয়া ৩ সন্ত্রাসীর জঙ্গি সম্পৃক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অস্ত্র ও বোমা কোথা থেকে আসলো এবং ওইসব অস্ত্র ও বোমা জঙ্গি হামলার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল কিনা তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতারকৃতরা জঙ্গি গ্রুপের সদস্য বলে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দ্বায় স্বীকারের খবর প্রকাশ হলেও তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে গোয়েন্দারা। পুলিশের ভাষ্য গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। তারা স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তবে পেশাদার এসব সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীর কারও যোগাযোগ ছিল কিনা বা হয়েছে কিনা বা জঙ্গিগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে লাভবান হয়ে এরা এসব অস্ত্র ও বোমা হামলার জন্য বহন করছিল কিনা এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে অস্ত্র ও বোমাসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতারের পর উদ্ধারকৃত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পল্লবী থানায় গ্রেফতার হওয়া ৩ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের পৃথক দুটি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পল্লবী থানার এসআই আরিফ হোসেন বাদী হয়ে বুধবার রাতেই মামলা দায়ের করেছেন। পল্লবী থানার মামলা নং-৭৩, তারিখ-২৯/০৭/২০২০ ইং, ধারা-১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-এ। মামলা নং-৭৪, তারিখ-২৯/০৭/২০২০ ইং, ধারা-১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানবলী আইনের ৪/৫/৬। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পল্লবী থানার এসআই ফারুক হোসেনকে। মামলায় আগেই গ্রেফতার মো. রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন ছাড়াও আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়া এলাকার জনি(৩২) এবং মো. আলমগীর ওরফে নাটা আলমগীর (৩৫)। এছাড়া অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দুই মামলায় গ্রেফতার ৩ জনকে গতকাল আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড হেফাজতে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃঞ্চপদ রায় বলেন, ‘তিনজন আসামিই স্থানীয় সন্ত্রাসী। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহনেওয়াজের অনুসারী। ঈদের আগে প্রতিপক্ষ কোন একটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে ঘায়েল করতেই তারা অস্ত্র ও বিস্ফোরক সঙ্গে রেখেছিল। এর সঙ্গে কোন জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নেই।’

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেফতার হওয়া রফিকুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন ও শহিদুল ইসলাম শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। তারা ভাড়াটে খুনি। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে এরা কার পক্ষ হয়ে কাজ করত। প্রাথমিকভাবে তারা বলেছে, তারা স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার জন্য কন্ট্রাক্ট নিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী হত্যাকা- ঘটাতেই তারা অস্ত্র ও বোমা বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। তদন্তে তাদের কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য মিলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনি সবকিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

দুই মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড

ঢাকার পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। পল্লবী থানার অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম এই আদেশ দেন। গতকাল তাদের আদালতে হাজির করে পল্লবী থানার অস্ত্র মামলায় সাত এবং বিস্ফোরক মামলায় দশ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুকুজ্জামান মল্লিক। রাষ্ট্রপক্ষে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কমকর্তা এসআই সেলিম হোসেন শুনানিতে বলেন, ‘এরা পেশাদার অপরাধী। তাদের নামে আরও মামলা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ডে পাঠানো হোক।’ অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন আইনজীবী শামীমুল ইসলাম এবং ওয়াজেদ আলী।

আসামি শহিদুলকে আগেই গ্রেফতার করার অভিযোগ পরিবারের :

পুলিশ সন্ত্রাসী দাবি করে মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম এবং মোশারফ হোসনকে গ্রেফতারের দাবি করলেও শহিদুলের পরিবারের দাবি শহিদুল ইসলামকে দুদিন আগেই ধরে নেয়া হয়েছিল। শহিদুলকে গত সোমবার তুলে নেয়ার দাবি করে পরিবারের সদস্যরা পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এছাড়া তারা র‌্যাবকেও এ ঘটনা জানিয়েছেন। শহিদুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, তার ভাই শহিদুল পেশায় বাস চালক। ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে শহিদুল ৪র্থ ছেলে। তাদের বাবা আবদুল কাদের মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ এলাকায় সবজি বিক্রি করেন। ভাই রফিকুল বলছেন, তাদের বাসার কাছে আক্কাস আলীর চা-বিস্কুটের দোকান থেকে সোমবার বিকেলে শহিদুলকে ‘তুলে নিয়ে যায়’ মাইক্রোবাসে আসা একদল লোক। ‘ডিবি পুলিশের লোকজন’ এসে ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে শুনে থানায় গিয়েছিলেন তাদের বাবা আবদুল কাদের। থানায় পুলিশ বলেছে তারা শহিদুলকে নেয়নি। ডিবি অফিসে গেলে ডিবির লোকজন বলে, যদি আইনা থাকে তিন দিনের আগে খবর পাইবেন না।