menu

গণপরিবহন চালু মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১
image

গণপরিবহন চলছে। কিন্তু মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। গতকাল শনির আখড়া থেকে তোলা -সংবাদ

রাজধানীতে নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিনে গতকাল সকাল থেকে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। ভাড়া আদায় নিয়েও নৈরাজ্যর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। শর্তানুযায়ী ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়ায় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যানবাহন চলাচল করতে হবে। কিন্তু বর্ধিত ভাড়া আদায় করা হলেও পরিবহনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছে না। এছাড়া বাসে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। বাসে ওঠার সময়ও হ্যান্ড স্যানিটাইজিং করতে দেখা যায়নি। গতকাল সকালে মতিঝিল, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, মৌচাক, মগবাজার, কাকরাইল ও শাহবাগ এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, সরকার যেসব শর্তে গণপরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ উঠিয়ে দিয়েছে সেসব শর্ত কেউই মানছে না। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হচ্ছে না সেটি দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন মনিটরিং চোখে পড়েনি।

রাজারবাগ মোড়ে আয়াত পরিবহনের কয়েকটি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রতিটি বাসেই আসনভর্তি যাত্রী ছিল। তবে তা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি চালকের সহযোগী। বিআরটিএর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গণপরিবহনগুলোকে যেসব শর্ত মানতে বলা হয়েছে তা হচ্ছে, সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ধারণক্ষমতার অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক-কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের অন্যান্য নির্দেশাবলি যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল যথারীতি বন্ধ থাকবে। এসব শর্তের কোনটাই সঠিকভাবে পালন করতে দেখা যায়নি। সকালে রামপুরা ব্রিজ থেকে পল্টনে এসেছেন আবুল খায়ের। তিনি বলেন, অফিস সময়ে প্রতিটি আসনে যাত্রী নেয়া হয়েছে। ভাড়াও নেয়া হয়েছে দ্বিগুণ। এইটুকু পথ ৫০ টাকা নেয়া হয়েছে। এ পরিমাণ টাকা দিয়ে রিকশা করেও আসা যায়।

এদিকে আলিফ পরিবহনের ড্রাইভার আল ইমরান বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছি। অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন করছি না। ভাড়া ৬০ শতাংশ বেশি নেয়া হচ্ছে। দ্বিগুণ ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। একই সড়কের বৈশাখী পরিবহনের হেলপার সুমন বলেন, রাস্তায় তেমন যাত্রী নেই। আমরাও বেশি যাত্রী নিচ্ছি না। এই সড়কের যাত্রী শাহিন বলেন, বাসের সিট ফাঁকা রয়েছে। রাস্তায় যাত্রী অনেক কম। রাজধানীর রজনীগন্ধা পরিবহনেও দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে।

পল্টনে কথা হয় দিশারী পরিবহনের যাত্রী শাহীনের সঙ্গে। মিরপুর থেকে তিনি গুলিস্তান যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, মিরপুর থেকে গুলিস্তানের ভাড়া সাধারণত ২৫ টাকা। এখন ৪০ টাকা নিচ্ছি। এই বাসের হেলপার আলিফ বলেন, আমরা অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছি না। সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছি। তবে এই বাসে থাকা আফসানা মীম নামে এক যাত্রী বলেন, সকালে গুলিস্তান থেকে শ্যামলী গিয়েছি। ওই বাসে দ্বিগুণ ভাড়া রেখেছে। এছাড়া বিআরটিএর শর্তানুযায়ী দূরপাল্লার কোন বাস রাজধানীতে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু সকালে সায়েদাবাদ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবহন প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

সম্পাদিত রিয়াদ

লকডাউনের নামে চলছে ফ্রি স্টাইলে যানচলাচল

রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ৮৮ জন করোনা পজেটিভ হয়েছে। এরমধ্যে রংপুর ও দিনাজপুর ২৫ জন করে ৫০ জনের পজেটিভ। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও দু’জন মারা গেছে। এরমধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ও লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামে একজন।

এদিকে বিভাগীয় নগরী রংপুরে লকডাউনের তৃতীয় দিনে ঢিলে-ঢালাভাবে পালিত হচ্ছে লকডাউন। নগরীতে ফ্রি স্টাইলে চলছে ইজিবাইক রিকশা, মাইক্রোবাস প্রাইভেটকার মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে চলছে বিভিন্ন মার্কেটের সামনে জটলা। মাস্ক না পরেই চলাচল করছে মানুষ। দোকান বন্ধ রাখার নামে চলছে প্রহসন। দোকানের একটি শার্টার খুলে চলছে দোকানদারি। নগরীর সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার সিটি বাজারে শত শত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা পায়রা চত্বরের দৃশ্য বলে দেয় লকডাউন বলে কিছু নেই। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা সিভিল সার্জেন ডা. হিরম্ব কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নগরীতে যেভাবে ফ্রি স্টাইলে যান চলাচল করছে এবং সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না এটা প্রতিরোধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বিভাগের এক মাত্র কোভিড স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৩৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছেন এদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে কোভিড স্পেশালাইজড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুরন্নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান কোভিড হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড আছে । তবে যে হারে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে করে বেড সংখ্যা বাড়ানো জরুরি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্পাদিত রিয়াদ

চট্টগ্রামে শর্ত মেনে গণপরিবহন চললেও সরকারি নির্দেশনা মানছে না অনেকে

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, লকডাউন ঘোষণার দুইদিন পর গতকাল থেকে গণপরিবহন চালু হওয়ায় দুর্ভোগ কমেছে অফিসগামী যাত্রীদের। স্বাস্থ্যসুরক্ষা মানতে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন এবং ৬০ শতাংশ ভাড়াও কার্যকর রয়েছে। তবে পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের অনেকে সরকারি নির্দেশনা মানছে না। এদিকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় ৫ বাস চালককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অতিরিক্ত যাত্রী, বেশি ভাড়া আদায় ও সিটি করপোরেশনের বাইরে যাত্রী পরিবহনের দায়ে তাদের ৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুকের নেতৃত্বে জিইসি মোড়, মুরাদপুর ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, আজ (গতকাল) থেকে মহানগর এলাকায় গণপরিবহন চলাচল করার কথা থাকলেও সরজমিনে দেখা যায় কিছু চালক সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নগরের বাইরে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় যাত্রী পরিবহন করছে। গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করছে। যার ফলে ৫ বাসচালক ও ১ মিনিবাস চালককে অর্থদ- করা হয়। তিনি বলেন, নগরে অনেক বাসে আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যায় এবং বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। যার ফলে কয়েকজন বাসচালকে অর্থদ- ও সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে সরকারি বিধিনিষেধ প্রতিপালন করে। পাশাপাশি মাস্ক না পরার কারণে ১০ যাত্রীকে অর্থদ- করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে এমন চিত্র ছিল নগরের পরিবহনগুলোতে। গণপরিবহন চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এক যাত্রী বলেন, ভাড়া বেশি হলেও অন্তত কোন কাজে বাসা থেকে বের হলে গণপরিবহন পাওয়া যাচ্ছে। এটা স্বস্তির বিষয়। পরিবহন বন্ধ থাকলে কিছুই করা যায় না। রবিউল ইসলাম নামে অফিসগামী এক যাত্রী বলেন, অবশেষে কষ্টের অবসান হলো। গত দুইদিন অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে অনেকটা যুদ্ধে নামতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

পরিবহন মালিকরা জানান, নির্দেশনা মেনে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচল করছে। প্রতি ট্রিপের শুরু এবং শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে বলা হয়েছে।