menu

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদার জামিন বিষয়ে রায় আজ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আপিল আবেদনের ওপর রায় ঘোষণার সময় পিছিয়ে আজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আবারও শুনানি শেষে রায়ের এদিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আদেশের জন্য এদিন নির্ধারণের আদেশ দেন।

গতকাল সকালে খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য বিচারপতিরা সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এজলাসে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘মামলাটি ১৬ মে শুনানির জন্য রাখা হোক। এ বিষয়ে আবারও শুনানি করতে চাই। ওইদিন (৯ মে) হইচই, হট্টগোলের কারণে শুনানি করতে পারিনি।’ তখন আপিল বিভাগ বলেন, ‘এখনই করুন। আমরা রায়ের তারিখ ঠিক করেছি। এখন আর (পুনরায় শুনানির জন্য সময় মঞ্জুর) হয় না।’ জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘শুনানির জন্য আমার প্রস্তুতি প্রয়োজন। আপনারা বহু মামলা এভাবে (রায়ের মুহূর্তে শুনানির আবেদন মঞ্জুর) করেছেন।’ আপিল বিভাগ বলেন, ‘তা হয় কীভাবে?’ জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘রায়ের পূর্বের মুহূর্তে এমন শুনানির অনেক উদাহরণই তো রয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) এ অবস্থাতেই থাকুক।’

এরপর আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমাদের এক ব্রাদার ভেরি সিক (আপিল বিভাগের এক বিচারপতি খুব অসুস্থ)। আগামীকাল (বুধবার) তিনি আসতে পারবেন না। আপনি এ মামলার নথিপত্র নিয়ে (আজ) ১১টা ৩০ মিনিটে আসুন।’ এরপরও মাহবুবে আলম শুনানির জন্য ১২টায় সময় নির্ধারণের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

পরে দুপুরে শুনানিতে দাঁড়িয়ে খালেদার জামিন বাতিলের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে সাবেক জোট সরকারের মন্ত্রী নাজমুল হুদা, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর হেলাল ও বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান টুকুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলার উদাহরণ টানেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘যদি জীবনহানীর আশঙ্কা না থাকে এবং মেডিকেল বোর্ডের যথাযথ মতামত না থাকে তাহলে শুধুমাত্র অসুস্থতার যুক্তিতে জামিন দেয়া যায় না। ওইসব মামলার অভিযোগ আর এ মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওইসব মামলায় আসামিদের জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল বোর্ডের যথাযথ মূল্যায়ন বা মতামত ছিল। কিন্তু এ মামলায় জামিন প্রশ্নে মেডিকেল বোর্ডের এ ধরনের কোন মতামত বা মূল্যায়ন নেই।’ হুদা, নাসিম, হেলাল ও টুকুর মামলায় আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘৯০ কর্মদিবসে যদি আপিল শুনানি শেষ না হয়, আসামি যদি গুরুতর অসুস্থ হয় বা মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে এবং সাজা যদি তিন বছরের ঊর্ধ্বে না হয় তাহলে অসুস্থতাজণিত কারণে আসামি জামিন পেতে পারেন। কিন্তু এই মামলায় আসামির (খালেদা জিয়া) জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের একটি যুক্তিও নেই।’

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন। এরপর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।