menu

তৃতীয় দিনের মতো

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

দোকান খোলার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ এপ্রিল ২০২১

লকডাউনের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো বিভিন্ন স্থানে পথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন দোকানদার ও ক্ষদ্র ব্যবসায়ীরা। এদিকে লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য দোকান খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

গত সোমবার এক সপ্তাহের লকডাউন শুরুর পর থেকে দোকান মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঈদ সামনে রেখে তাদের ব্যবসা সচল রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন। লকডাউনের প্রথম দিন সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকান মালিকরা পথে নেমে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। তারা জানান, পথে নামলে দেখা যায় সবকিছুই স্বাভাবিক শুধু আমাদের মার্কেট ও দোকান বন্ধ। এটা আমরা মানতে পারি না। আমাদেরও দোকান খুলে দেয়ার অনুমতি দেয়া হোক, ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হোক।

সারাদেশের দোকান মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পথে দোকান মালিক সমিতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি দিয়েছে। দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখতে অনুরোধ জানিয়েছি আমরা। এর আগের ৩ এপ্রিল ‘লকডাউনে’ পাইকারিভাবে পণ্য বিক্রি করতে দিনে ৫ ঘণ্টা দোকান খোলা রাখার সুযোগ দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান ব্যবসায়ীরা।

হেলাল উদ্দিন বলেন, চিঠিতে সরকারের কাছে আমরা সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাইকারি মার্কেটগুলো খোলা রাখার জন্য অনুরোধ করেছি। কারণ পাইকারিভাবে পণ্য বিক্রি না হলে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও সাধারণ মানুষ পণ্য পাবে না।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গতবারের মতো এবারও যদি মার্কেট বন্ধ থাকে তাহলে বিলাসী পণ্য বিশেষ করে ঈদের জামা-কাপড়, কসমেটিকস ব্যবসায়ীরা মাঠে মারা যাবেন। আপাতত এসব পণ্যের পাইকারি মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি চাই আমরা। কারণ এখনও এসব পণ্যের খুচরা বিক্রি শুরু হয়নি, পাইকারি পর্যায়ের বিক্রি চলছে। তাই আমরা দৈনিক মাত্র ৫ ঘণ্টা ব্যবসা করার জন্য সুযোগ চাই।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দোকানিরা। এ সময় দোকানদারদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা বলে লকডাউন দিলেও সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে। এ মতে তারা লোকসানে আছেন। সরকার অনুমতি না দিলে প্রয়োজনে তারা দোকান খুলবেন। ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে একবারে মরাই ভালো।

দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান এলাকায় ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যানারে দোকানিরা ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এরপর তারা বিআরটিসি কাউন্টারের সামনের সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে দোকানিরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। পরে দোকানিরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান। সিটি প্লাজার দোকানি নেভারুল চন্দ্র বলেন, করোনার কারণে লকডাউনের কথা বলা হলেও কার্যত ঢাকায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। গণপরিবহন চলছে। বইমেলা চলছে। কাঁচাবাজার খোলা। মানুষ নিয়মিত অফিস করছেন। কেবল স্বাস্থ্যবিধির কথা বলে তাদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাভারের দোকান মালিক-কর্মচারীরা। গতকাল বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই বিক্ষোভ করেন। লকডাউনে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার জোর দাবি জানান তারা। জানা যায়, দোকান মালিক-কর্মচারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে বিক্ষোভ শুরু করলে মহাসড়কের দুই পাশে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বোঝাতে সক্ষম হয়। দেড় ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। বিক্ষোভকারীরা জানান, লকডাউনে তাদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। ব্যবসার এই মৌসুমে যদি দোকান বন্ধ থাকলে লোকসান হয়ে যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখা হবে বলেও জানান তারা। সরকার এই দাবি মেনে নেবে বলেই তারা প্রত্যাশা করছেন।

দোকান খুলে রাখার দাবিতে রাজশাহীর বস্ত্র ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউনের তৃতীয় দিন বেলা ১১টার দিকে নগরীর সাহেববাজারে বিক্ষোভ করেন।

এর আগে সকালেই তারা দোকান খোলেন। কিন্তু পরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জরিমানা করতে গেলে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ঘোষণা দেন, কাউকে জরিমানা করা হলে আন্দোলন জোরদার হবে। ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে পড়ায় ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে জরিমানা করেননি। ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পরই ব্যবসায়ীরা দোকান খোলেন। তবে ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম। দুপুর পর্যন্ত আর কেউ তাদের দোকান খোলার ব্যাপারে বাধা দেয়নি। নগরীর আরডিএ মার্কেটেও এ দিন খোলা দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার থেকে নগরীর সবচেয়ে বড় এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলেছেন। এর আগে দোকান খোলার দাবিতে গত সোমবার আরডিএ মার্কেটের দোকান খোলার দাবিতে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে পড়েন। তারাও রাস্তায় শুয়ে পড়েন।

রাজশাহী বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অশোক কুমার বলেন, শহরের আরডিএ মার্কেট, বিনোদপুর, কোর্টবাজারসহ অন্যান্য এলাকার সব দোকানপাট খোলা। তাই আমরাও সকাল থেকে একপাল্লা, দুইপাল্লা তুলে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। একটু পর ম্যাজিস্ট্রেট আসেন। তিনি জরিমানা করতে শুরু করেন। আমরা তাকে বোঝালাম যে, করোনায় আমরাও নাজেহাল, ধার-দেনা করে মাল তুলেছি। করোনার ভেতর ব্যবসা খারাপ। হঠাৎ লকডাউন আসবে বুঝতেও পারিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা ব্যবসা করতে চাই। তারপর ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেছেন। আমরাও অর্ধেক শাটার তুলে ব্যবসা করছি কিন্তু ক্রেতা কম।

লকডাউন মানতে চান না সিলেটের ব্যবসায়ীরা। গতকাল সকাল ১১টায় নগরীর হাসান মার্কেটে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাদের ভাষ্য, সরকার যদি দ্বিতীয় দফা লকডাউন ঘোষণা করে তাহলে আগামী রোববার সন্ধ্যা থেকে সিলেট নগরীর সব দোকান-পাঠ খোলা রাখবেন তারা। বৈঠকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন শপিং মহলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিয়েই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। এমনিতেই দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউনের পর যদি আর লকডাউন দেয়া হয় তাহলে আমরা তা না মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখব। এছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোন উপায় দেখছি না।

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মুনিম মল্লিক মুন্না বলেন, সরকারের এক সপ্তাহের লকডাউনের সিদ্ধান্ত মেনে আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি কিন্তু এরপর যদি আর লকডাউন দেয়া হয় তাহলে তা মানা হবে না।