menu

চসিক নির্বাচন : সংঘর্ষে নিহত ১

কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১১ জন রিমান্ডে

আ’লীগ কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিদ্রোহী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা

সংবাদ :
  • চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় চট্টগ্রামের পাঠানটুলী এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার মামলায় কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেছেন। আসামিদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’ আবদুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেনÑ এমকে কবির হেলাল উদ্দিন (৪০), ওবায়দুল কবির মিন্টু (৪০), আসাদুজ্জামান নূর রায়হান (২৯), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ দিদু (৪৮), মিনহাজ হোসেন ফরহাদ (২০), শহীদুল আলম সাহেদ (৩৭), জাহিদুল আলম জাহিদ (২৫), শহিদুল ইসলাম (৩৩) ও আবদুর রহমান (৪৪)।

এদিকে সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘাত এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে ২৮নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগ পুকুরপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সদ্য সাবেক কাউন্সিলর মো. আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দু’জনকে হাসপাতালে নেয়া হলে মো. আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যান। নিহত আজগর আলী বাবুল আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক।

নগর পুলিশের ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার শ্রীমা চাকমা বলেন, আবদুল কাদেরসহ ১৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ডিবি মামলাটি তদন্ত করবে। জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ বলেন, ডিবিকে মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে। ডিবি পরিদর্শক শাহাদাত মামলা তদন্ত করবেন।

জানা গেছে, নজরুল ইসলাম বাহাদুর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং পাঠানটুলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। ২০১০ সালে তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী আবদুল কাদেরের কাছে তিনি পরাজিত হন। এবার আবদুল কাদের দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। নিহত আজগর আলী বাবুল ও আহত মাহবুব উভয়ই বাহাদুরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

সংঘর্ষ শুরুর পর আবদুল কাদের ও তার কয়েকজন অনুসারী মগ পুকুরপাড়ে তাহের ভবনের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ডবলমুরিং থানা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে ভবনটি ঘিরে কাদেরসহ তার অনুসারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে আবদুল কাদেরসহ সবাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এদিকে, আজগর আলী বাবুলের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। তার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের লোকজন এ ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সান্ত্বনা দিতে এসেছেন আত্মীয়-স্বজনরা।

নিহত বাবুলের জানাজা সম্পন্ন

এদিকে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত আজগর আলী বাবুলের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বাদ আছর আগ্রাবাদস্থ সরকারি কমার্স কলেজের সম্মুখে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহৎ এ জানাজায় এলাকা এবং মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় মুরব্বি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, নির্বাহী সদস্য, কাউন্সিলর প্রার্থী ও ২৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাহাদুর, সাবেক মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবদুর রহিম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের হাসান মুরাদ, আসিফ খান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজ, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি লুৎফুল এহসান শাহ, মরহুম আলী আজগর বাবুলের সন্তান সেজান মাহমুদ সেতুসহ স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

জানাজায় ইমামতি করেন পাঠানটুলী ওয়ার্ড জামে মসজিদের পেশ ইমাম। জানাজা শেষে এসে উপস্থিত হন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। তিনি মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।