menu

কক্সবাজার সাগর সৈকতে আবারও ভেসে আসছে বর্জ্য

সংবাদ :
  • জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার
  • ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আবারও ভেসে আসছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। এবার কক্সবাজার শহরতলীর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন দরিয়ানগর সৈকতের আশপাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় বর্জ্য ভেসে আসে। ভেসে আসা বর্জ্যরে শতকরা ৯৫ শতাংশই জৈব বর্জ্য বা পচনশীল দ্রব্য। এগুলোর মধ্যে বাঁশ জাতীয় উদ্ভিদ ও প্যারাবনের উদ্ভিদ বীজই বেশি। বাকি পাঁচ শতাংশ বর্জ্যরে মধ্যে সেন্ডেল, ওয়ান টাইম চায়ের কাপ, জাল ও দড়িসহ মাছ ধরার সামগ্রী বলে জানান স্থানীয়রা। জোয়ারের সঙ্গে সৈকতে বর্জ্যগুলো ইতোমধ্যে ক্লিনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুততম সময়ে সৈকত পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশনা দেন। এর আগে ১১ জুলাই একইভাবে কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী থেকে দরিয়ানগর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় বর্জ্য ভেসে এসেছিল।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন দরিয়ানগর গ্রিন ভয়েসের সভাপতি পারভেজ মোশাররফ ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জানান, গত বুধবার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উপকূল বরাবর তীব্র বায়ুপ্রবাহ শুরু হলে সামুদ্রিক জোয়ারের সঙ্গে এসব বর্জ্য ভেসে আসতে থাকে। তবে এবার ভেসে আসা বর্জ্যরে মধ্যে শতকরা ৯৫ শতাংশ জৈব বর্জ্য বা পচনশীল দ্রব্য হলেও আগেরবারের বর্র্জ্যরে ৯০ শতাংশই ছিল অপচনশীল দ্রব্য। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পরিত্যক্ত প্লাস্টিক। যেমন- জাল, দড়ি, প্লাস্টিকের ঝুঁড়ি, মদের কাঁচের বোতল ও প্লাস্টিকের টুকরো। আর এবারের বর্জ্যের বেশিরভাগই ছিল এক ধরনের বাঁশ, কাঠখ-, শেকড় ও উদ্ভিদ বীজ।

তবে গতবারের বর্জ্যের সঙ্গে শতাধিক মুমূর্ষু ও মৃত কচ্ছপ, সাপ, বার্নাকলসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণী দেখা গেলেও এবার তা ছিল না বলে জানান স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজার সৈকতে কেন, কোথা থেকে ও কীভাবে বর্জ্য ভেসে আসছে তা তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এবারের বর্জ্য জৈব বলে সৈকতের জীব বৈচিত্র্যের জন্য তা লাভজনকই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।