menu

একজন ভাষাসৈনিক খোরশেদ আলী

সংবাদ :
  • আতিয়ার বাড্ডা, নীলফামারী
  • ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

খোরশেদ আলী ৮২ তে পা দিয়েছেন। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন। চোখেও ঝাপসা দেখেন। কানেও শুনতে বেশ কষ্ট হয়। তার ওপর ডায়াবেটিসের কালো থাবা কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে তার ভগ্ন শরীরটাকে। এখনও ভুলেননি সেদিনের ভাষা আন্দোলনের কথা। এখনও তার স্মৃতিতে রয়েছে অম্লান। কাউকে কাছে পেলে সেদিনের কথা আউরিয়ে যান।

আমি বলছি সেই ভাষাসৈনিক খোরশেদ আলীর কথা। যিনি ১৯৫২’র ভাষার দাবিতে উত্তাল আন্দোলনে নীলফামারীর একজন লড়াকু অকুতোভয় সৈনিক। বাড়ি নীলফামারী শহরের সবুজ পাড়ায়। ১৯৩৬সাল। তৎকালীন ভারত বর্ষের পুর্বাঞ্চল জেলা শহর জলপাইগুড়িতে জন্মেছিলেন খিজমুদ্দীন ও মানব নুরের ঘর আলোকিত করে। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে খোরশেদ আলী ছিলেন মধ্যম। ১৯৫২ সালে ভাষা সৈনিক নীলফামারী হাই ইংলিশ স্কুলের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। সে সময় হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শ্রী ভূপেশ চন্দ্র। এ সময় খোরশেদ আলী ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় সদস্য। রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ খোরশেদ আলী ভাষার টানে, ভাষার দাবিতে সহযাত্রী কচুকাটার আব্বাস আলী, কলেজপাড়ার একরামুল হক, বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন ওয়ালিউর রহমানের সাথে নেমে পড়েন রাজপথে।

‘তোমার আমার মুখের ভাষা-বাংলা ভাষা বাংলা ভাষা’ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত রাখতেন নীলফামারীর পথঘাট, অলিগলি। হাতে লেখা পোস্টার রাতারাতি সাঁটিয়ে দিতেন দেয়ালে দেয়ালে। রাতের আধারে পোস্টার সাঁটাতে গিয়ে কত তাড়া খেয়েছেন পাক পুলিশের। মায়ের ভাষার দাবিতে পুলিশের তাড়াকেও ভয় পাননি তিনি। অকুতোভয় এই ভাষা সৈনিক আন্দোলনকে জোরালো করতে সংগঠিত করেছেন সহপাঠীদের।

বয়সের ভারে ন্যুযে পড়া খোরশেদ আলী সেদিনের স্মৃতি হাতিয়ে তিনি সেদিনের মিছিল-মিটিং, প্রথম শহীদ মিনার, গোপন বৈঠকসহ নানান কথা বললেন। আরও বললেন, আজকের নীলফামারী সরকারী কলেজের জায়গাটি ছিল হাই ইংলিশ স্কুলের মুসলিম বোডিং। সেই বোডিং’র তিনপাশ ছিল আগাছায় পরিপূর্ণ। সামনে ছিল খোলা মাঠ। সেখানে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে কাদামাটি আর ইট দিয়ে তৈরি করেছিলেন নীলফামারীর প্রথম শহীদ মিনার। পরদিন এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন তা গুঁড়িয়ে দেয়। আজ তিনি পাননি ভাষাসৈনিকের স্বীকৃতি আর মর্যাদা। এজন্য নেই তার আক্ষেপ নেই অভিমান। সার্থকতা তিনি একজন ভাষাসৈনিক। এতেই তিনি তৃপ্ত।