menu

আদালতে শেখ হাসিনার হাজিরা চাইলেন খালেদা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছে আদালত। গতকাল পুরান ঢাকার পুরান কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি হওয়ার পর বিচারক এই আদেশ দেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে বিশেষ আদালতে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে প্রবেশ করে। কারাগারে নিয়ে আসার পর হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে আদালত কক্ষে হাজির করা হয়।

আদালতে এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। মওদুদ আহমদ এদিনও সময়ের আবেদন করে বলেন, তাকে শুনানির জন্য যথেষ্ট কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে হাইকোর্টে তার একটি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। এখনও সেটার শুনানি করতে পারিনি। আমার দোষে নয়। আমি কথা দিচ্ছি হাইকোর্ট যদি সেটা খারিজ করে তবে আপিল বিভাগে যাব না। এ সময় সময়ের আবেদনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মওদুদ বারবার সময়ের আবেদন করায় এ মামলা এগোচ্ছে না। তখন মওদুদ আহমদ বলেন, হঠাৎ করে এ রকম আদালতে এ মামলা এল। এখানে নরমাল পরিবেশ নেই। এখানে তো বসারও জায়গা নেই, দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। এখানে বাথরুম টয়লেট নেই। এটা কি আদালত হলো? এখানে কেন বিচার চলবে তা আমার বোধগম্য না। বিচারক তখন মওদুদ আহমদকে শুনানি করতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনার শেষ হলে ম্যাডামের শুনানি শুরু করা যায়। আপনি না করলে মামলা এগোবে না, ম্যাডামের কষ্ট আরও বাড়বে।

আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে দিলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজেই নিজের অব্যাহতির আবেদনের শুনানি শুরু করেন। এক ঘণ্টা দশ মিনিটের শুনানিতে মওদুদ আহমদ বলেন, নাইকো চুক্তির অনুমোদন হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আগের (আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদ) সরকারের আমলে। আমরা আগের সরকারের সিদ্ধান্ত কনটিনিউ করেছি মাত্র। এটা নিয়ম। উনারা (আগের সরকার) অনুমোদন (অ্যাপ্রুভ) করার পর আমাদের সময় শুধু চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়েছে। এটা ধারাবাহিকতা। আমি নিজে কোন মতামতে সই করিনি। চুক্তিতে আরও আট জনের স্বাক্ষর রয়েছে। মওদুদ আহমদ বলেন, এ মামলার আগে একই রকম মামলা হয়েছিল, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও আসামি ছিলেন। ওই মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র হুবুহু এক; সে মামলায় তারা অব্যাহতি পেয়েছেন। শুনানির এই পর্যায়ে হুইল চেয়ারে বসা খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা যদি অ্যাপ্রুভ না করতাম তবে এখন উনারা (আওয়ামী লীগ সরকার) বলতেন কেন অনুমোদন দেননি?’ বিচারককে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জড়িত ছিলেন। তাকে হাজির করা উচিত। তাকে হাজির করে তার ব্যাখ্যা নেন।’ এ কথার উত্তরে বিচারক মাহমুদুল কবির বলেন, ‘এ মামলায় তিনি আসামি নন। কাজেই তাকে হাজির করার প্রশ্ন আসে না।’

উল্লেখ্য, নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে খালেদার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একই দিনে আরেকটি মামলা করেছিল দুদক। ২০১০ সালের মার্চে হাইকোর্ট ওই মামলা বাতিল করে দেয়। রায়ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছিল। বিচারিক আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ‘বেআইনি কাজ’ করেছে উল্লেখ করে উচ্চ আদালত ওই রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিমালাও সংশোধন করতে বলেছিল।

বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১২টা ১০ পর্যন্ত শুনানি করে মওদুদ আহমদ বলেন, আমি ক্লান্ত। আর পারছি না। আমার বয়স এখন ৮১। সিক ফিল করছি। তার এ কথায় দুদকের আইনজীবী কাজল বলেন, আজ শেষ করে যেতে হবে। আর সময় নেবেন না। এ সময় খালেদা জিয়া বলে ওঠেন- ‘এত তাড়াহুড়ো কেন?’ মওদুদ আহমেদ তখন কাজলকে বলেন, ‘আপনি কি ফোর্স করছেন?’ কাজল তখন বলেন, ‘আমিও তো অসুস্থ, তারপরও তো শুনানিতে এসেছি। আমি বেইসবল খেলতে গিয়ে চোখে আঘাত পেয়েছি। এ জন্য কালো চশমা পরে এসেছি। আমি এ বয়সে ক্রিকেটও খেলি।’ বিচারক মওদুদ আহমদের শুনানি মুলতবির আবেদনে সম্মতি দিতে গেলে কাজল বলেন, তাহলে আগামী রোববার তারিখ রাখা হোক মওদুদ সাহেবের বাকি শুনানির জন্য। ম্যাডামের পক্ষেও সেদিন শুনানি করতে হবে। এরপর শুনানি মুলতবি করে ১৪ নভেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক করে দেন আদালত। আদেশের পর খালেদাকে ফের কারাগারে রাখা হয়েছে।

পরে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, আজ মওদুদ আহমদ ও খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হবে। কিন্তু তার অসুস্থতার কথা বলে সময় প্রার্থনা করেছেন। মওদুদ সাহেব নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডে নানা সময় ওই মামলায় সময় নিয়েছেন। আদালত আগামী বুধবার তাদের বক্তব্য শুনবেন। সেদিন আদালত অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আমরা আশা করছি।’ বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘মামলাটি আলিয়া মাদ্রাসায় বসত। গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটা আমার দরজায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার নিজের কিছু শুনানি করেছেন।’