menu

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২০
image

আজ শনিবার পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে কাল রোববার সারাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর আজ চাঁদ না দেখা গেলে ঈদুল ফিতর হবে সোমবার। পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে আজ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির উদ্যোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ওই সভা থেকে বাংলাদেশের আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেয়া হবে ঈদের ঘোষণা।

ইসলাম চাঁদ দেখে রোজা শুরু ও সমাপ্তির নির্দেশনা দিয়েছে। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে। হয়রত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, রমযানের চাঁদ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা রোজা রেখো না। আর শাওয়ালের চাঁদ না দেখা পর্যন্ত তোমরা ইফতার করো না। আকাশ মেঘলা থাকার দরুণ চাঁদ তোমাদের দৃষ্টিগোচর না হলে রমযানের দিনগুলো পূর্ণ করে নেবে। (বোখারী ও মুসলিম)। চাঁদ দেখার ব্যাপারে ইমামদের বক্তব্য হচ্ছে, শাওয়ালের চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার জন্য কমপক্ষে দু’জন বিশ্বস্ত লোকের সাক্ষ্য অপরিহার্য। আর মেঘমুক্ত বা পরিষ্কার আকাশ থাকলে অনেক লোকের চাঁদ দেখা শর্ত।

ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈদ হচ্ছে বান্দার জন্য বিরাট আতিথেয়তা। তাই তিনি ঈদের দিন রোযা পালনকে হারাম করে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এক মাস রোজা রাখার পর মুসলমানরা নতুন পাজামা-পাঞ্জাবি তথা পছন্দের পোশাক পরে, দেহে আতরখুশবু মেখে ঈদগাহে যান, তখন ফেরেশতারা তাদের সংবর্ধনা জানান। স্বর্গীয় সব বাণীতে তাদের অভিনন্দিত করা হয়। পবিত্র ঈদ মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। বিশ্ব মুসলিম একই আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয় পবিত্র ঈদ। ধনী গরিব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে রাজা প্রজা এক কাতারে শামিল করিয়ে দেয় পবিত্র ঈদ। হিংসা বিদ্বেষ ও অহংকারসহ সব অন্যায় ও পাপাচার মুছে দিয়ে নতুন করে সুখী পবিত্র জীবন যাপন শুরু করার তাগিদ এনে দেয় পবিত্র ঈদ।

এবার বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এক অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। মহামারী থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সড়কে গণপরিবহন চলাচলও নিষিদ্ধ। নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে। ইতোমধ্যে খোলা জায়গায় (ঈদ গা) ঈদের জামাত না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ঈদের জামাত হবে মসজিদে। অন্যদিকে ঈদের দিন দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধ থাকবে পার্ক, চিড়িয়াখানাসহ বিনোদনকেন্দ্র।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাবেন। তবে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে এবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবেনা। এবার ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদেও জামাতও করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে বাতিল করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবার ঢাকার সরকারি বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জাও বাতিল করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে এক ঘণ্টা পর পর মোট পাঁচটি জামাত হবে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।