menu

শুধু টাকার জন্যই কি রায়হান হত্যা?

আকবরকে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে

সংবাদ :
  • বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট
  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০
image

সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে শুধু টাকার জন্যই রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে নাকি এর পেছনে আরও কোন উদ্দেশ্য ছিল তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়াও পলাতক ফাঁড়িটির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকেও হন্য হয়ে খোঁজা হচ্ছে। তবে কোথায় তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার সন্ধানের এখন একমাত্র ভরসা পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা। অন্যদিকে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির তদন্ত পাওয়ার পর এরইমধ্যে ফাঁড়ি থেকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহারকৃত সদস্যদের কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন দল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এই ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে মূল অভিযুক্ত আকবর পালিয়ে যাওয়ায় বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি পালানোর পরই মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে পুলিশর একটি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে

আকবরের মা-বাবা ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের সম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে আসেন।

পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঘটনার পরদিন ১২ অক্টোবর বিকাল ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আকবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তখন পর্যন্ত তাকে বেশ চিন্তিত দেখা গেছে। এরপরই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি। আকবর তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট এবং সরকারি সেট দুটোই ফাঁড়িতে রেখে লাপাত্তা হয়ে যান। সূত্র এও বলছে, অন্য অপরাধীরা পালিয়ে গেলে যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক কিছু ব্যবহার করে, আকবর তা করছেন না। কারণ তিনি পুলিশের লোক হওয়ায় এ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল যে কিভাবে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়। ফলে এক্ষেত্রে আকবর অনেকটা ধূর্ততার পরিচয় দিচ্ছেন। এখন তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকলেও তার ঘনিষ্ঠজনদের ওপরই ভরসা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা তিনি কোন না কোন সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে তিনি গাঢাকা দিলেও অভিযুক্ত অন্য সদস্যদের পুলিশ লাইন্সেই রাখা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বিপিএম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আকবর পলাতক রয়েছে। ঘটনার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে মামলা হয়েছে। এখন তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সব খতিয়ে দেখছে। আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছি। যেহেতু আকবর পলাতক সেহেতু পিবিআই চাইলে আকবর ছাড়া অন্যদের তাদের কাছে দেয়া হবে।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই উল্লেখিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই দল। সংস্থাটি তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। সেইসঙ্গে পূর্বে এসএমপি পুলিশের তদন্ত কমিটির কাছে দেয়া বক্তব্যও মিলিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এরমধ্যে সব মিলে গেলে এদের কেউ যেকোনা মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন। ফলে তাদের কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান জানান, তদন্তকালে যাদের না পাওয়া যাবে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মামলাটি স্পর্শকাতর সব বিষয় তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন। সেজন্য পিবিআই’র এর তদন্ত দল নানা বিষয় মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে আকবরের নেতৃত্বে শুধুমাত্র টাকার জন্যই রায়হানের ওপর এমন নির্যাতন চালানো হয়েছে তা অনেকটা বিশ্বাস করতে পারছেন না ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর পেছনে অন্য কোন বিরোধ বা ঘটনা রয়েছে কিনা তাও বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশই মনে করছে যে বিরোধ বা ঘটনাই থাকুক না কেন এর জন্য তো তাকে মেরে ফেলা যায় না। ফলে কঠিন দুটি ধারাতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। যাতে করে ঘটনার সঙ্গে বাইরের কেউ সম্পৃক্ত থাকলেও তা বেরিয়ে আসে। অভিযুক্ত আকবরকে এখন গোটা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই খুঁজে বেড়াচ্ছে।

এদিকে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম পুলিশের আচরণে হতাশ দাবি করে বলেছেন, তার ছেলে হত্যাকারী এসআই আকবরকে তারাই পালাতে কিংবা সরে যেতে বলেছে। আজ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নগরীর আখালিয়ার নয়াপাড়া তার বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনও ডেকেছেন তিনি।