menu

নয় দফা দাবিতে

সারাদেশে পাটকল শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত

সড়ক ও রেলপথ অবরোধ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯
image

৯ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকরা গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী ট্রেন অবরোধ করে -সংবাদ

বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে গত সোমবার থেকে দেশজুড়ে ধর্মঘট করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা। গতকাল খুলনা, যশোর ও রাজশাহীতে কর্মবিরতির পাশাপাশি সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করেন তারা। এতে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

শ্রমিক নেতারা জানান, মে মাসের শুরু থেকেই বকেয়া মজুরির দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল করে আসছেন খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের পাটকল শ্রমিকরা। তবে এ কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে পালন করা হচ্ছিল। গত সোমবার খুলনা ও যশোরের ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা গতকালও কর্মবিরতি পালন করেন। এ নিয়ে টানা আট দিন তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে এসব কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গত সোমবার কর্মবিরতি পালনের পাশাপাশি সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা খুলনার খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিল প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হন। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট এলাকায় শ্রমিকরা বিকাল ৪টা থেকে ৩ ঘণ্টা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। তারা মহাসড়কের ওপর আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় এবং ইফতার করেন। এতে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শ্রমিকরা খুলনা-ঢাকা রেলপথ অবরোধ করায় খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে যায়নি। এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস এবং বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেন যশোরে আটকা পড়ে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়ায় এসব ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সোমবার রাজশাহীতেও পাটকল শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। বিকাল ৪টার দিকে তারা রাজশাহী জুট মিলের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। তবে পরে তা তুলে নেয়া হয়।

চট্টগ্রামে শ্রমিকরা গতকাল কর্মবিরতি পালনের পাশাপাশি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা দ্রুত দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। পাটকল শ্রমিক লীগের যশোর-খুলনা অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, বকেয়া মজুরি না দেয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। রুটি-রুজি নিশ্চিত না করে আমরা রাজপথ ছাড়ব না। ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, খুলনা থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক আন্দোলন দেশব্যাপী দাবানলের মতো ছড়াতে আরম্ভ করেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলের সিবিএর সভাপতি মো. মোস্তফা বলেন, দাবি আদায় না হওয়ায় আমরা কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছি। দাবি মেনে না নিলে কালও (আজ) আমরা কর্মবিরতি পালন করব। এর পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে ইফতার ও নামাজ আদায় করা হবে।

উল্লেখ্য, পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্রাচুইটির অর্থ পরিশাধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা গত ১৩ মার্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এসব দাবিতে তারা এর আগেও কর্মবিরতি পালন করেছেন।

রাজশাহী : গতকাল রাজশাহী জুট মিলের সামনে ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পাটকল শ্রমিকরা।

রাজশাহী পাটকল শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ৯ দফা দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু তাদের দাবি মেনে নেয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে তারা দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। প্রথম দিন বকেয়া পাওনাসহ ৯ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে রাজশাহী জুট মিলের উভয়পাশে যানবাহন আটকা পড়ে।

সীতাকুন্ডু (চট্টগ্রাম) : সীতাকুন্ডে হাফিজ জুট মিলের শ্রমিকরা মিল প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল করেন। পরে তারা বিকাল ৪টায় ঢাকামুখী নাছিরাবাদ ট্রেন থামিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন। এতে ট্রেনটি আধা ঘণ্টা দাঁড়ানো থাকে এবং গরমে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এদিকে শ্রমিকরা মহাসড়কে লাল পতাকা মিছিল করার কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা যানজটে পড়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অত্র উপজেলার হাফিজ জুট মিল, গুল আহম্মদ জুট মিলস, আরআর জুট মিল, গালফ্রা হাবিব এবং এমএম জুট মিলের হাজারো শ্রমিকরা কারখানা বন্ধ রেখে রাজপথ ও রেলপথ আন্দোলনে নামেন।