menu

রংপুর-৩ উপনির্বাচন

আ’লীগ বিএনপি জাপাসহ ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

বিএনপির প্রার্থী রিট

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, রংপুর
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রংপুর সদর-৩ আসনের উপনির্বাচনে গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এদিন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, প্রয়াত জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের ভাতিজাসহ ৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসার জিএম শাহাতাব উদ্দিনের কাছে দুপুর পৌনে একটার দিকে সর্বপ্রথম মনোনয়নপত্র দাখিল করেন প্রয়াত জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ। এরপর বিকেল পৌনে ৪টায় আসেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিয়ার রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে জাপা প্রার্থী এরশাদের ছেলে শাদ এরশাদ। এ সময় দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে ছিলেন। তবে শাদ এরশাদ মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও মহাসচিব রাঙ্গা শাদের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যাননি। তিনি নিচতলায় দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করেন। এরপর আসেন বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান। তার সঙ্গে দলের জেলা ও মহানগর বিএনপির কোন নেতাকর্মী ছিলেন না। তিনি কয়েকজন স্বজনকে নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সব শেষে আসেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু। তিনিও বিশাল শোডাউন করে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে আসেন।

এছাড়া বিকেল ৫টার ৫ মিনিট আগে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কাওছার জামান বাবলা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে সে ব্যাপারে তারবলার কিছু নেই তবে জনগণের ইচ্ছায় তিনি নির্বাচন করছেন বলে জানান।

এদিকে শাদ এরশাদ বলেন রংপুর দলের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই, সব মিটে গেছে। তিনি তার প্রয়াত বাবা এরশাদের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু বলেন ৭৩ সালের পর আওয়ামী লীগ এ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জনগণ এবার নৌকা মার্কাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে বলে আশা করেন তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান বলেন তার স্বামী মেজর খায়রুজ্জামান কারাগারে আটক চার জাতীয় নেতা হত্যা মামলার আসামি হলেও নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তিনি বলেন তার স্বামী মামলার আসামি ছিলেন সত্যি এজন্য আমাদের খুনি বলা ঠিক নয়। তার সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা নেই কেন জানতে চাইলে বলেন আমি যুদ্ধ করতে এসেছি যুদ্ধ চালিয়ে যাব।

এদিকে রিটার্নিং অফিসার জিএম শাহাতাব উদ্দিন জানান মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ কংগ্রেস, খেলাফত মজলিস ও এনপিপি ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

রিটা রজমানকে প্রার্থী করায় বিএনপিতে ক্ষোভ রোষানলে টুকু ও দুদু

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসানন মাহমুদ টুকু বলেন, এই সরকার ও নির্বাচনের কমিশনের অধিনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমরা মনে করি না। তার ওপর আবার ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচন। ফলে ঘাপলা করার যথেষ্ঠ সুযোগ তারা তৈরি করে রেখেছে। তিনি সোমবার দুপুরে রংপুর নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন। টুকু বলেন এত কিছু জানার পরেও আমরা রংপুর সদর-৩ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। তারপরেও আমরা নির্বাচন করছি এজন্য যে দেশের মানুষকে আমরা দেখাতে চাই এ সরকারের অধিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কতটা খারাপ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান শামুসহ অন্য নেতারা। এর আগে তিনি স্থানীয় হোটেলে রংপুর সদর ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এদিকে রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে রিটা রহমানকে বিএনপি প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ঘটনায় রংপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান টুকু ও কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তারা রংপুর নগরীর বিলাসবহুল হোটেল নর্থ ভিউতে আসলে জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতাদের রোষানলে পড়েন। রংপুরে এত ত্যাগী নেতা থাকার পরও কেন রিটা রহমানের মতো একজন অপরিচিত নারীকে মনোনয়ন দেয়া হলো জানতে চান তারা। এ সময় বিএনপির মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান বাদল সহ কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন এভাবে আপনারা নেতা বানাবেন আর এমপি প্রার্থী করবেন আমরা তা মেনে নেব। এ সময় ইকবাল হাসান টুকু বলেন, আমরা মনোনয়ন দেইনি, দলের হাইকমান্ড মনোনয়ন দিয়েছে। এরপর বিএনপির মহানগর ও জেলার বেশিরভাগ নেতাকর্মী সেখান থেকে চলে যান। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জেলা ও মহানগরীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বচসার সময় ঘরটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তারা কোন সাংবাদিককে সেখানে থাকতে দেয়নি। এমনকি ছবি তুলতেও দেয়া হয় নিন। পরে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি শামসুজ্জামান শামু ও জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায়নি। এরপর বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।