menu

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আ’লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যদি করত, তাহলে এ দেশে বিএনপির কোন অস্তিত্ব থাকত না। এ সময় খালেদা জিয়ার মতো ‘দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালে’ কি দলটির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা খুশি হতেন- এই প্রশ্নও করেন তিনি। তিনি গতকাল সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের প্রতিহিংসার বলি হয়ে জেলখানায় নির্মমভাবে নিহত হন জাতীয় চার নেতা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই হত্যা, ক্যুর অপরাজনীতি শুরু করেন। সশস্ত্র বাহিনীর শত শত অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করেন। ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করেন একটা পুরো প্রজন্মকে নষ্ট করে দেন জিয়াউর রহমান। তাই বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যের মুখে মানুষ মারার বিষয়টি অবলীলায় চলে আসে। এটাই তাদের দলীয় আদর্শ। জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া তার চেয়েও যে এক কাঠি সরেসÑ এ প্রমাণ রেখেছেন এ দেশে জঙ্গি সৃষ্টি, অগ্নিসন্ত্রাস বোমা, হামলা মানি লন্ডারিং, এতিমের টাকা আত্মসাৎসহ হেন অপকর্ম নেই যা তিনি ও তার পুত্রদ্বয় এবং তার দলের নেতারা করেননি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিরলস প্রচেষ্টা ও জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি জায়গা দখল করেছে। এসব আপনাআপনি হয়নি। সব পরিশ্রমে হয়েছে। প্রতিষ্ঠান অকার্যকর থাকলে সব অর্জন সম্ভব হতো না। কারণ রাষ্ট্র একটি যন্ত্রের মতো। এই যন্ত্রের বিভিন্ন কলকব্জা যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তখন রাষ্ট্র ভালো থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র ভালোভাবে কাজ করছে। তা না করে সংসদ সদস্যের নেত্রী খালেদা জিয়ার মতো দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালে কি তিনি খুশি হতেন?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, প্রশ্ন উত্থাপনকারীর সদস্যের দলের নেত্রী খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার শাসন আমলে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, মমতাজউদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকেসহ আওয়ামী লীগের পুরো নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আইভি রহমানসহ দলের ২৪ নেতাকর্মী সেদিন নিহত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয় মদদে খুনের নেশায় মত্ত হয়েছিল তার দল বিএনপি। এই সংসদে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে জনসভায় ছুড়েছিলাম। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ওই বিভীষিকাময় বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের দিনগুলোর কথা কেউ ভুলে যাননি। বিএনপি নারী ও শিশুসহ ৫০০ নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারে। নির্মমভাবে হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৪ সদস্যকে। ৫৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার যানবাহন, ২৯টি রেল, ৯টি লঞ্চ ও ৭০টি সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। অসংখ্য বৃক্ষনিধনসহ গবাদিপশু আগুনে পুড়িয়ে মারে। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিশু-নারীরাও। কোন প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার জন্য নয়, সব প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় রাখার জন্য সদা-সর্বদা সচেষ্ট থাকি।

শেখ হাসিনা বলেন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব হলো সব মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় করা। মন্ত্রীদের কাজের তদারক করা। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। আরাম-আয়েশের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্ব প্রহণ করিনি। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তিনি তার জীবনটাই উৎসর্গ করেছিলেন, এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। তার কন্যা হিসেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। সেটিই প্রতি পালনের চেষ্টা করি। এ জন্যই দিনরাত পরিশ্রম করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অকার্যকর রাষ্ট্রের উদাহরণ তো বিএনপি সৃষ্টি করেছিল। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়Ñ এমন ব্যক্তির কাছ থেকে আসত। প্রধানমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকতেন, তার পুত্র হাওয়া ভবন থেকে মনমতো সিদ্ধান্ত নিত। মন্ত্রী, সচিবরা হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুণতেন।

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারের ঢাকা লিট ফেস্ট (লিটারারি ফেস্টিভাল) তার নামে উৎসর্গ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে নানা অনুষ্ঠান হবে। অমর একুশে বইমেলা ২০২১ বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মানমন্দির স্থাপন, বিভিন্ন বন্দরে নৌবাহিনীর শিপ ভিজিটের আয়োজন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনসহ প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর আলাদা অনুষ্ঠান করবে। জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি বলেন, দেশেই ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত কিট তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন ৩৫ হাজার ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কোন ঘাটতি থাকবে না। গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ৫৭ হাজার এসএস-ওয়ান কম্ব কিটসহ মোট ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ কিট আমদানি করেছি। কিন্তু গত ৬ আগস্ট থেকে বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে দেশেই এ কিট তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।