menu

১৩০ সর. প্রা. স্কুল সংস্কার স্লিপ প্রকল্পের অর্থ হরিলুট

সংবাদ :
  • এমএ হান্নান মিঞা, সদরপুর (ফরিদপুর)
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে বরাদ্দকৃত স্লিপ ও সংস্কারের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ রয়েছে। জানা যায় ১৭-১৮ অর্থ বছরে সিøøপের অর্থ দিয়ে কাজ না করে তা আত্মসাত করে শিক্ষকরা তা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে। অপরদিকে সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ কোন কাজ না করে কমিটির সদস্য, শিক্ষক, উপজেলা প্রা. শিক্ষা কর্মকর্তা ও এলজিইডির নিয়োগকৃতদের যোগসাযোগে সমস্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পকেটস্থ করার অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, এলজিইডির কাজের তদরকি, প্রধান শিক্ষক, কমিটির সভাপতিসহ মিলেমিশে সংস্কারের বরাদ্দের প্রায় সমস্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। ২০১৪ সারের ১লা জানুয়ারি জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী এক যোগে ২৬ হাজার এমপিওভুক্ত রেজিস্ট্রার্ট স্কুল নন-রেজিস্ট্রার্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়। সে মোতাবেক ৭০টির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি আরও ৬০টি প্রা. বিদ্যালয় জাতীয়করণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের বরাদ্দ দিয়ে আসছে। সরকারি প্রা. বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ারোধ, শিক্ষার মান উন্নয়নে, প্রতি শিক্ষার্থীসহ শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রতি স্কুলে সিøøপ বাবদ ৪০ হাজার ও প্রাক প্রাথমিকে শিক্ষার আগ্রহী করতে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

এতে সদরপুর উপজেলার ১৩০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মডেল স্কুলসহ ১০-১২টি স্কুলে সিøøপের কাজ হয়েছে, আর বাকি শতাধিক স্কুলে সিøøপের কোন কাজ হয়নি বলে জানা যায়। ৫৪নং খাটারিয়া, ৫০নং নাদেরিয়া প্রা. বিদ্যালয়, ১০৭নং বেগম সরোজা, ৫১নং কাড়াল কান্দি, ৯০নং কৃস্নœম-লের ডাঙ্গি, ৯১নং নয় রশি, ১০৮নং বেপারী পাড়া, ৭৮নং ওয়াজিউল্লাহ হাওরাদার, ৮০নং মোসলেম, ১১১নং ইসমাইলমাতুব্বর কান্দি, ৬নং চরনওয়াপাড়া, ৮২নং চাঁদপুর কোলচুরী, ১২৩নং তালুকদারপাড়া, ৯২নং শ্যামপুর, ১২০নং হকিয়তপুর, ৫৬নং খলিফাকান্দি, ৫৮নং জামাল সিকদারেকান্দি, ১২০নং দেয়ারা ৮৬নং নুরুদ্দিন সরদারসহ ভাষানচরের ৭টি, বিষ্ণুপুরের ৬টি, কৃষ্ণপুরের ৮টি চরনাছিরপুরের ৮টি, সদরপুর ইউপির ৬টি, চরমানাইর ইউপির ৬ সহ এসব স্কুলে সিøøপের কোন কাজ হয়নি। অনেক স্কুলে পুরাতন সরঞ্জামাদি প্রদর্শন করে থাকে।

অপরদিকে এসব স্কুলে সংস্কারের কাজ হয়নি, এমনি কয়েকটি স্কুল ১১১নং স্কুল(৫ লক্ষ) ৫৬নং খলিফা কান্দি (প্রায় ৪ লাখ), ৭৮নং ওয়াজিউল্লা হাওরাদেরর ডাঙী (১ লাখ) ৭নং ঢেউখালী প্রা. বিদ্যালয় (প্রায় ৫ লক্ষ টাকার কাজ) ৬১নং দক্ষিণচরডুবাইল (প্রায় ৫ লক্ষ) ১৩নং পশ্চিম চরনাছিরপুর (৫ লক্ষ) ১০৪নং পশ্চিমচর খুনি (আড়াই লক্ষ) ৯৬নং, চরখুনি, (আড়াই লাখ) ১২০নং দেয়ারা (প্রায় ৪ লক্ষ)সহ একাধিক স্কুলের সংস্কারের টাকায় কোন রকম নামকাস্তে কাজ করেই ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে ১২০নং হকিয়তপুর প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার স্কুলের টিন,কাঠ,আসবাবপত্র বিক্রি করে, উপরোন্ত সংস্কারের লক্ষ টাকা হজম করে ফেলল কিছুই হলো না। প্রায় ৫০-৫৫ ফুট লম্বা স্কুলকে ১০-১২ ফুটে নিয়ে এলেও কর্তৃপক্ষ নিরব। মাসের পর মাস স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, এতেও রোজিনার বেতন-ভাতার কোন অসুবিধা নেই। সাধারণ দোকানের প্যাড দিয়ে ভুয়া-বিল ভাউচার জমা দিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছে বলে জানা যায়। এই বিষয়ে একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজ করলেও উপরে না দিলে সঠিক বিল ও পাওয়া যায় না। তাই উপরে-নিচে দিয়ে কোন রকম করে বরাদ্দ তুলে নেই। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় যেসব স্কুলে সংস্কারের কাজ বরাদ্দ ছিল সে স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা বলেন, কী কাজ হবে, কখন হবে এই সম্পর্কে আমাদের কিছুই জানা নেই। সব জানে উপজেলা প্রা. শিক্ষা কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও এলজিইডি অফিস।

এই নিয়ে উপজেলা প্রা. শিক্ষা কর্মকর্তা আ. মালেক মিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমি স্কুলগুলো পরিদর্শন করছি সবগুলো স্কুলেই ঠিকমতো কাজ হয়েছে। আমি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনেক স্কুলে যেতে পারিনি। যদিও এই সমস্ত কাজ তথ্য অনুযায়ী ৩০ শে জুন অর্থ বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার বিধান। কিন্তু এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, উল্লেখিত স্কুলসহ অন্যান্য স্কুলে ও সঠিকভাবে কোন কাজ হয়নি। এমন কী আগামী দিনে হবে, এমন কোন পরিস্থিতিও দেখা যাচ্ছে না। একাধিক স্কুলের সভাপতি, সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষা অফিসার আর্থিক সুবিধা নিয়ে, শিক্ষকদের পক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী অনেকেরই প্রশ্ন জুন মাসের কাজ এখনও করে শেষ করে নাই কী কারনে। আর শিক্ষা অফিসার নিরব ভূমিকা পালনের হেতুই বা কী ? এমন প্রশ্ন অনেকেরই।

এই ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীকে জিঞ্জাসা করা হলে তিনি জানান কোথায়, কোন স্কুলে, কি ধরনের কাজ হয়েছে, তা আমার ভালো মতো জানা নেই। কাগজপত্র দেখে, অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।