menu

সাবেক আইজিপি ভোটযুদ্ধে এগিয়ে

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, আর বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাকন। ফলে এই আসনে আগামী নির্বাচনটি একটি অসম যুদ্ধ হবে বলে সবাই মনে করছেন। এই আসনে বিএনপি দু’জন প্রার্থী রেখেছিল। সাবেক দুইবারের এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও শহীদুজ্জামান কাকনকে প্রার্থী রাখলেও সবাই ধারণা করেছিল মেজর আখতারই হবেন চূড়ান্ত প্রার্থী। কিন্তু গত রোববার মনোনয়নপত্র বাছাইকালে আখতারুজ্জামানের মনোনয়নটি একটি কোম্পানীর জিম্মাদার (গ্যারান্টর) হিসেবে ঋণখেলাপী হওয়ার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অবশ্য তিনি নির্বাচন কমিশনে এর বিরুদ্ধে আপীল করেছেন।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার আছেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ২৬৫ জন। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই বেশ শক্তিশালী। এ যাবত ১০টি নির্বাচনে এই আসনে চারবার করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হন। বর্তমানে এখানে এমপি আছেন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন। কিন্তু এবার তার পরিবর্তে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখানে আখতারুজ্জামান ৫ম ও ৭ম সংসদে বিএনপির এমপি থাকলেও মাঝে দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথাবার্তার কারণে বেশ কয়েক বছর দল থেকে তিনি বহিষ্কৃত থাকেন। এবার তাকে আবারও মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তবে এখানে বিএনপিতে নানামুখী দ্বন্দ্বও রয়েছে। যে কারণে বিএনপির একটি অংশ আওয়ামী লীগ প্রার্থী নূর মোহাম্মদকে নিয়ে মাঠে কাজ করছে মনোনয়ন দেয়ার অনেক আগে থেকেই। এছাড়া এই আসনের পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগে এতদিন প্রচ- কোন্দল থাকলেও নূর মোহাম্মদকে ঘিরে সবাই এক মঞ্চে সামিল হয়েছেন। বাছাইয়ে আখতারুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে এখানে বিএনপির কা-ারি হবেন শহীদুজ্জামান কাকন। সেই ক্ষেত্রে নির্বাচনটি অনেকটা একতরফা হয়ে যাবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

নূর মোহাম্মদ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকালীন আইজিপি ছিলেন। তার ব্যক্তিগত ইমেজ বেশ ভাল এবং আচারআচরণও সবাইকে মুগ্ধ করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ছিলেন। হাজী মো. মহসীন হল ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। পরবর্তীতে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পুলিশ বিভাগে চাকরি নিয়ে অত্যন্ত সুনামের মঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ সুপার থাকার সময় অনেক জায়াগায় তার বদলির পর জনগণ তাকে রাখার জন্য মিছিলও করেছেন। চাকরি থেকে অবসরে যাবার পর তিনি রাষ্ট্রদূত এবং সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। বিএনপি প্রার্থী শহীদুজ্জামান কাকনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান চাঁন মিয়া জেলার অত্যন্ত পরিচিত একজন আইনজীবী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসনে দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। শহীদুজ্জামান কাকন দলীয় শক্তির পাশাপাশি তার বাবার ইমেজেরও কিছুটা সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সাবেক আজিপি নূর মোহাম্মদের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে শহীদুজ্জামান কাকনের ব্যক্তি অস্তিত্বের ফারাকের বিষয়টি সাবার কাছে দিবালোকের মত দৃশ্যমান। এছাড়া বিএনপির একটি অংশ নূর মোহাম্মদের সাথে থাকায় তার জন্য বিষয়টি ‘সোনায় সোহাগা’ হয়ে দাঁঁড়িয়েছে। তবে বিএনপি প্রার্থী আখতারুজ্জামানের আপীলের ফলাফল দেখার জন্য দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানা গেছে।