menu

সাইকেলে দোকান সাজিয়ে বাড়ি বাড়ি বিক্রি : সফল ১০ ফেরিওয়ালা

সংবাদ :
  • আতাউর রহমান তরফদার, ভালুকা (ময়মনসিংহ)
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯
image

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : সাইকেলে হরেক পণ্যের পসরা সাজিয়ে ফেরিওয়ালা ঝন্টু মিয়া -সংবাদ

ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে বাইসাইকেলে করে হরেক সামগ্রী ফেরি করে জীবন-জীবিকার পথ বেছে নিয়েছেন সুদুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঝন্টুমিয়া। তার সঙ্গে চাঁপাইয়ের আরও রয়েছে বাবুল মিয়া, খাইরুল ইসলাম, গুদু মিয়া, মানিকসহ আরও প্রায় ১০ জন ফেরিওয়ালা। অল্প পুঁজি নিয়ে তারা প্রায় ১০ জন ঢাকার চক বাজার হতে পাইকারী মাল এনে ভালুকার গ্রামাঞ্চলে ফেরি করে বিক্রি করেন। প্রত্যেকের একটি করে নিজস্ব বাইসাইকেল বাহন থাকায় বেচে যায় যাতায়াত খরচ। ফলে লাভের বেশিরভাগই সঞ্চয় থাকে বলে জানালেন ঝন্টু মিয়া।

ভালুকা পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ড কাঠালী বাগড়াপাড়ায় প্রতিদিন সকালে শুরু হয় তাদের শিশুদের খেলনা, প্লাস্টিক ও অ্যালোমোনিয়ামের তৈজসপত্র বিক্রির জন্য সাইকেলে সাজানোর কাজ। মোটামোটি সাজানো হয়ে গেলে একে একে বড় রাস্তা ধরে তারা সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন গ্রামের উদ্দেশ্যে চলে যান যে যার মতো। সারাদিন এ গ্রাম ও গ্রাম সাইকেল চালিয়ে গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সামগ্রী ফেরি করে বেচাকিনি শেষে সন্ধ্যায় আবার সবাই চলে আসেন নিজ আস্তানায়।

গত সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো সাইকেলে সাজানো মালামাল নিয়ে যাচ্ছিলেন ঝন্টু মিয়া। রাজশাহীর সুদুর চাঁপাইয়ের শিবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে জন্টু মিয়া জানান নিজের জমি জমা না থাকায় স্ত্রী সন্তানদের মুখে দু’মুঠো ভাত আর সংসার খরচ চালাতে আপন জনদের ফেলে বিদেশের মাটিতে ফেরি করে বেরান। তিনি প্রায় ৯/১০ বছর যাবৎ ভালুকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেলে ফেরিওয়ালার ব্যবসা করে জীবন চালাচ্ছেন। কিছুদিন পর পর স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যান। দু’একদিন থেকে আবার চলে আসেন। ফেরি করে প্রতিদিন খরচ বাদে ৪/৫শ’ টাকা লাভ থাকে। মাস শেষে স্ত্রী সন্তানের ভরণপোষণের খরচ বাবদ ৮/১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারেন। ঝন্টু মিয়ার সংসারে স্ত্রী ও চার ছেলে মেয়ে রয়েছে। নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানে ব্যর্থ হয়ে ঝন্টু মিয়া ও তার বন্ধুরা চাঁপাই হতে একটি করে সাইকেল আর সামান্য কিছু টাকা পুঁজি নিয়ে ভালুকায় এসে দীর্ঘদিন ধরে হরেক মালের ফেরি করে স্ত্রী সন্তানের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করছেন। রমজানের শেষে ঈদুল ফিতরের জন্য স্ত্রী সন্তানের ঈদের নতুন কাপড় আর সেমাই চিনি কিনে বাড়ি যাওয়ার আশায় প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়ান। সৎ পথে পরিশ্রমের দ্বারা অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে স্ত্রী সন্তানকে দূরে রেখে তারা বিদেশ বিভূঁইয়ে পরে আছেন, এতেও তারা নিজেদের অনেক সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ভালুকায় তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন ১০ বছর ধরে। গ্রামের সহজ সরল মানুষ বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের কাছ থেকে দোকান হাট বাজারের চাইতে সাশ্রয়ী মূল্যে জিনিস কিনতে পেরে খুশি হয় বলে তারাও উৎসাহিত বোধ করেন কাজে।