menu

শেখ হাসিনা নকশিপল্লীতে পাল্টে যাবে জামালপুরের অর্থনীতি

সংবাদ :
  • সুশান্ত কানু, জামালপুর
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯
image

জামালপুর : হাতে তৈরি বাহারি নকশিকাঁথা -সংবাদ

নকশী পণ্যের জেলা হিসাবে সুপরিচিত জামালপুরে নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা নকশীপল্লী। নকশীপল্লীটি নির্মাণ হলে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে অসংখ্য নারী-পুরুষের। পাল্টে যাবে এ এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও। জামালপুরের তৈরি নকশি কাঁথা, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবিসহ নানা নকশি পণ্যের সুনাম ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও। নকশি সটুচি পণ্য জামালপুর জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। এখানকার সুঁই-সুতোয় তৈরি বিভিন্ন নকশি পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত ৫ লক্ষাধিক মানুষ। যাদের বেশিরভাগই নারী। কর্মীদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ ও উৎপাদিত পণ্য বিপণনে নকশি পল্লী স্থাপনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের । দাবিটি পূরণ হতে যাচ্ছে জেনে খুশি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

জামালপুরের শেখ হাসিনা নকশীপল্লী প্রকল্প হবে এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির দিশারী। জামালপুর জেলার আশেপাশের শেরপুর, টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলার মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কেন্দ্র বিন্দু হবে এই জামালপুর। জামালপুর শহরের পাদদেশে ঝিনাই নদীর পাড় ঘেষে কম্পপুর এলাকায় এই শেখ হাসিনা নকশি পল্লী প্রকল্পের জন্য ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাট কাজের জন্য একনেকের সভায় ইতোমধ্যে ৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জামালপুরের নকশি কাঁথা নিয়েই শুধু শেখ হাসিনা নকশি পল্লী নয়। সারা বাংলাদেশের যত ধরনের হস্তশিল্প আছে তার সবগুলোরই হোল সেল মার্কেট হবে এই শেখ হাসিনা নকশীপল্লীতে। অন্তত ৩ হাজার ভবন হবে এখানে। চারজন উদ্যোক্তার জন্য একটি করে কারখানা স্থাপনের জন্য ভবন বরাদ্দ থাকবে। তারা তাদের পণ্য তৈরি করবে সেই জায়গায়। এতে করে ১২ হাজার উদ্যোক্তার কারখানা থাকবে এখানে।

জামালপুর শহরের মুসলিমাবাদ এলাকার একজন কারুশিল্পী জ্যেস্নœা বেগম নকশীপল্লী প্রসঙ্গে বলেন, জামালপুরের নকশি পণ্যের মালিকগণ যদি তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় তবে আমরাও আমাদের শ্রমের মজুরি বেশি পাব।

পৌরসভার তিরুথা গ্রামের সূঁচি শিল্পী শিউলি আক্তার বলেন, আমরা এত দিন যাবত সেলাইয়ের ন্যায্য মজুরি পাইনি এই নকশীপল্লীটি নির্মাণ হলে আমরা ন্যায্যমজুরি পাব এবং আমরাও নিজেরা পণ্য উৎপাদন করে বিক্রি করতে পাব।

জামালপুরের কারুনীলয় হ্যান্ডিক্র্যাফ্ট এর মালিক আন্জুমান আরা খানম বলেন, এই পল্লীটি চালু হলে আমরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারব। এতে করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারদের হয়রানির হাত থেকেও রক্ষা পাব।

জামালপুর জেলা নকশি হস্তশিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, এই নকশি পল্লীটি নির্মাণ হলে নকশিকাঁথা শিল্প প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। পাশাপাশি একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থাকার কারণে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ন্যায্যমূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পাবে।

জামালপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন, জামালপুর শেখ হাসিনা নকশি পল্লীর ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের জন্য সম্প্রতি একনেক সভায় ৭২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তায়িত হলে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে নকশি পল্লী গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই বিশ্বাস এ অঞ্চলের মানুষের।